kalerkantho


পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে চুক্তি

বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে চুক্তি

অর্থপাচার বা মানি লন্ডারিং সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত ইস্যু। গত কয়েক বছরে বিদেশে পানামা পেপারসসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অর্থপাচারের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা, সমীক্ষা ও তদন্তেও বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে পাচার করা অর্থের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। ব্যাংকটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর সে দেশের ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থপাচার রোধে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। দেশে মানি লন্ডারিং অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইন আছে কিন্তু তার পরও অর্থপাচার রোধ করা যায়নি। এখন পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ৩৩টি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশের রাজস্ব বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে আমাদের এনবিআর। এরই মধ্যে অর্থপাচারকারীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার লক্ষ্যে চুক্তির আওতায় টাস্কফোর্স গঠন করে কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থপাচার রোধে নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। চুক্তির শর্ত মেনেই টাস্কফোর্সের সদস্যরা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে সেই দেশের সরকারের সহযোগিতায় অর্থপাচারসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশের ল ফার্মের সঙ্গেও চুক্তি করা যাবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ল ফার্মের সঙ্গে এসংক্রান্ত চুক্তি করা হয়েছে। থাকছে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও। ৩৩টি দেশের সঙ্গে চুক্তির পাশাপাশি আরো ১৭টি দেশের সঙ্গে এসংক্রান্ত চুক্তি করা নিয়ে আলোচনা চলছে।

শুধু চুক্তি করলেই চলবে না। চুক্তি বাস্তবায়নে এখন আরো বেশি দৃষ্টি দিতে হবে। অন্যথায় চুক্তির সুফল ঘরে তোলা যাবে না। দেশে মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট থাকার পরও অর্থপাচার কেন রোধ করা যাচ্ছে না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে আইনের প্রয়োগই হচ্ছে মূল কথা।আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা না হলে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডই বন্ধ করা যাবে না। এ বিষয়ে সবার আগে দৃষ্টি দিতে হবে। পানামা পেপারসে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। আমাদের দেশে তেমন উদ্যোগ কি দৃশ্যমান হবে? সুইস ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন, এমন ব্যক্তিদের নামও ভারত সরকার সংগ্রহ করেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু চুক্তি করে বসে থাকলে চলবে না, বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে।



মন্তব্য