kalerkantho


সড়কে শৃঙ্খলা আসেনি

আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সড়কে শৃঙ্খলা আসেনি

ঈদের আগে পালিত হয়েছে ১০ দিনের সম্প্রসারিত ট্রাফিক সপ্তাহ। এ মাসের প্রথম সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে ট্রাফিক সচেতনতা মাস শুরু হয়েছে। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ট্রাফিক সচেতনতা মাস শুরুর ঘোষণা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছিলেন, রাজধানীর ১২১টি স্থানে বাস থামবে, এর বাইরে কেউ বাস থামাতে পারবে না। যাত্রীরাও নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে বাসে ওঠা-নামা করতে পারবে না। ৪০টি চেকপোস্টে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি চেক করবে। মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল, মহানগরীর প্রধান সড়কগুলোতে লেগুনা চলবে না।

ট্রাফিক সচেতনতা মাস শুরু হলেও ঢাকার রাস্তায় তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখনো যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। বাস থামানোর ১২১টি স্টপেজ নির্দিষ্ট করা হলেও তা মানতে যেন বাসচালক ও সহকারীদের অনীহা। অন্যদিকে লেগুনা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ঢাকার রাস্তায়। এখন যাত্রীদের বাসের ওপরই নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। ফলে অফিস সময়ে ঢাকার রাস্তায় যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্দিষ্ট স্টপেজের বাইরে কোথাও বাসের দরজা খোলা থাকবে না, এমন আদেশ দেওয়া হলেও সে আদেশ মানতে অনীহা বাসচালক ও সহকারীদের। পরিবহন মালিকদের বক্তব্য, পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় হয়নি। এ কারণে মালিকদের পক্ষ থেকে চালকদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গতকাল থেকে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন সমাজের বিশিষ্টজনরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা ফেরাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে তারা। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। প্রথমত যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। কোনোভাবেই নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে অন্য কোনো জায়গা থেকে গণপরিবহনে ওঠা-নামা করা যাবে না। রাস্তা পারাপারেও সচেতন হতে হবে। যেখানে ফুট ওভারব্রিজ আছে, সেখানে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। যেখানে ফুট ওভারব্রিজ নেই, সেখানে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হতে হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর ফুট ওভারব্রিজগুলো পথচারীবান্ধব করা দরকার। সব ফুট ওভারব্রিজ থেকে হকার ও ভিখারি উচ্ছেদ করতে হবে। বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম পথচারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা খুব প্রয়োজন। সব জেব্রাক্রসিংয়ের আগে সিগন্যাল বাতি থাকতে হবে। অন্যথায় পথচারী পারাপার বাধাগ্রস্ত হবে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। রাজধানীর রাস্তা যানজটমুক্ত করতে সবার আগে অবৈধ পার্কিং সরাতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে, বিশেষ করে বিপণিবিতানগুলোর সামনে গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়, যা রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ।

আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতায় রাজধানীর গণপরিবহন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। নিশ্চিত হবে যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ও পথচারীবান্ধব সড়ক।



মন্তব্য