kalerkantho


চামড়াশিল্পে দুঃসময়

রপ্তানি বাজার ঠিক রাখতে উদ্যোগ নিন

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চামড়া রপ্তানি ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করেছে ১০৮ কোটি ডলারের। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কম হয়েছে ১২ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কম হয়েছে ২১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম মাসেও রপ্তানি কম হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ১১ লাখ ডলার, অর্থাৎ আগের জুলাই মাসের তুলনায় গত জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ২১ শতাংশের বেশি। রপ্তানি আয়ের এই নিম্নগতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নিয়ে এক ধরনের ক্ষোভও বিরাজ করছে।

চামড়ার বাজার ও চামড়া রপ্তানির এমন দুর্গতির কারণ কী? বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চামড়ার বাজারেও এক ধরনের অস্থিতিশীলতা চলছে। দাম ক্রমেই কমছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি। বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত চামড়ার একটি প্রধান ক্রেতা দেশ চীন। তারা চামড়া ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় এর প্রভাবও পড়েছে দেশের বাজারে। সেই সঙ্গে রয়েছে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর। আদালতের নির্দেশে হাজারীবাগের সব ট্যানারির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অথচ সাভারে তখনো কারখানাগুলোর স্থাপনাই যথেষ্ট পরিমাণে গড়ে ওঠেনি। হাজারীবাগে দেড় শর বেশি কারখানা পুরোপুরি উৎপাদনে ছিল। অথচ সাভারে গত দুই বছরে শখানেক কারখানাও পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারেনি। সেখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি এখনো পূর্ণমাত্রায় চালু করা যায়নি। ফলে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা হয়ে আছে। বিদেশি ক্রেতারা সেখানে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। বলা যায়, সব কিছু মিলিয়েই বাংলাদেশের চামড়াশিল্প ও চামড়া রপ্তানিতে একটি দুঃসময় চলছে। পাশাপাশি চামড়াশিল্পের এই দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার জন্য যে ধরনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন ছিল, তা-ও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমাদের পাটশিল্পের সেই সোনালি অতীত এখন আর নেই। চামড়াশিল্পও ধুঁকছে। দেশের অর্থনীতির জন্য এটা কোনো ভালো ইঙ্গিত নয়। এই শিল্প রক্ষায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিতে হবে। চামড়া রপ্তানির এই ধস ঠেকাতে হবে। আশার কথা, বাংলাদেশ থেকে চামড়ার জুতা রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। গত জুলাই মাসে চামড়ার জুতা রপ্তানি হয়েছে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ জুতা রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২৮.৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি যাতে উত্তরোত্তর আরো বৃদ্ধি পায় সে জন্য সুযোগ-সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে।



মন্তব্য