kalerkantho


সড়ক এখনো অনিরাপদ

নির্দেশনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কার্যকর আন্দোলনের পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। সড়ক-মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। সড়ক নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সমন্বিত ব্যবস্থায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেওয়া হয় ১৭ দফা নির্দেশনা। কিন্তু এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোরও অনীহা রয়েছে বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনার একটি ছিল—বাসের দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও সহকারীর ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল ফোন নম্বর প্রদর্শন নিশ্চিত করা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি ছাড়া কোনো পরিবহন কম্পানিই এই নির্দেশনা মানছে না। রাজধানীর কোথাও বাস বে তৈরি হয়নি। পথচারী পারাপারের জন্য নেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক জেব্রাক্রসিং। রাজধানীতে নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর কথা। কিন্তু বাসচালকরা তা মানতে নারাজ। রাস্তায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। রাস্তার মাঝখানে বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামানো হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসে বিকল্প চালক নেই। চালকদের বিশ্রামের জন্য কোনো সার্ভিস সেন্টারও নেই।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয়ের দেওয়া নির্দেশনা এখনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে আছে বলে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়। মহাসড়কে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বাস বে ও জেব্রাক্রসিং করার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার প্রায় সবই দেশের প্রচলিত মোটরযান আইনে আছে। মোটরযান অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো চালকই একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি যানবাহন চালাতে পারবে না। কিন্তু এই নির্দেশনা বা মোটরযান অধ্যাদেশের এই ধারাটি মানতে কোনো যানবাহন মালিকই রাজি নন। অভিযোগ  রয়েছে, পুলিশ ও বিআরটিএর গাফিলতিতে মহাসড়কে যানবাহনের ৮০ কিলোমিটার গতিসীমাও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না।

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হচ্ছে শৃঙ্খলা মেনে না চলার প্রবণতা। নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। পথচারীদের মধ্যেও নিয়ম না মানার প্রবণতা আছে। ফুট ওভারব্রিজ থাকার পরও তা ব্যবহার না করার দৃশ্য তো হরহামেশাই চোখে পড়ে। কাজেই যেকোনো মূল্যে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। যানবাহন মালিক-শ্রমিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। আইন মেনে চলার মানসিকতা সবার থাকতে হবে। আমরা আশা করব, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।



মন্তব্য