kalerkantho


বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন

সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক

৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সাতটি দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন গতকাল বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে শুরু হয়েছে। বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। আধুনিক বিশ্বে নানা ধরনের জোটবদ্ধতা ক্রমেই সুসংহত রূপ নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনীতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ, এমনি নানা ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। এমন কিছু অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক। প্রাথমিকভাবে এর সদস্য ছিল বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয় মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান। ২১ বছরে এই জোটের অগ্রগতি খুব বেশি না হলেও ধারণা করা হচ্ছে এবারের সম্মেলনে কার্যকর পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন দ্বার খুলে যাবে। আর সেটি হলো বিদ্যুতের গ্রিড কানেক্টিভিটি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। দুই দিনের এই সম্মেলন আজ সমাপ্ত হবে কাঠমাণ্ডু ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর প্রতি মিয়ানমারের নিষ্ঠুরতা এবং বাংলাদেশে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গার আশ্রয় নেওয়া বর্তমান সময়ের একটি বড় সমস্যা। যদিও বিমসটেকের মূল আলোচ্য বিষয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সাইডলাইনে আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সম্মেলনের ফাঁকে দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে কাঠমাণ্ডু পৌঁছেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এতে নেপাল-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা হয় বলে জানা গেছে। জানা যায়, নেপালের সঙ্গে যৌথভাবে বিদ্যুৎ উত্পাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের ব্যাপারে নেপালের আগ্রহ খুব শিগগির বাস্তব রূপ নেবে বলেও আশা করা যায়। গতকালই দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও গতকাল সন্ধ্যায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত সাতটি দেশের মধ্যে গ্রিড কানেক্টিভিটি প্রতিষ্ঠা এবং ফৌজদারি ও আইনি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত দুটি এমওইউ প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। আজ সেগুলো স্বাক্ষরিত হতে পারে। গ্রিড কানেক্টিভিটির অগ্রগতি হলে শুধু সাতটি দেশই নয়, পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর আগে গত বুধবার বিমসটেক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠক অত্যন্ত সফল বলে উল্লেখ করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আশা করা যায়, যৌথ ঘোষণায় প্রত্যাশিত অনেক কিছুই উঠে আসবে, যেগুলো এত দিন ধরে শুধু আশা করা হচ্ছিল।

 

 



মন্তব্য