kalerkantho


সরকারি চাকরির জন্য দৌড়

নৈতিক অবক্ষয়ের অবসান হোক

৩০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



খাদ্য অধিদপ্তরের এক হাজার ১৬৬টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১১ জুলাই দরখাস্ত চাওয়া হয়েছিল; জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ আগস্ট পর্যন্ত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৩ জন। প্রতি পদের জন্য দরখাস্ত জমা পড়েছে প্রায় এক হাজার ১৮২টি। দেশে কর্মসংস্থানের সমস্যা প্রকট। ফলে চাকরির বিজ্ঞাপন পাওয়া মাত্র অগণিত প্রার্থী দরখাস্ত জমা দেন। তার পরও পদপ্রতি দরখাস্তের এ হার অস্বাভাবিক। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব আবেদনকারীকেই লিখিত পরীক্ষায় ডাকা হবে। পৌনে ১৪ লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সহজ কাজ নয়। এত প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সাধ্য অধিদপ্তরের নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা লাগবে তাদের।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ধরনের পদের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরের (এএসআই) পদই সর্বাধিক—২৭৪টি। এসবের জন্য দরখাস্ত জমা পড়েছে ছয় লাখ ৩৩ হাজার ৯৫২টি; পদপ্রতি দুই হাজার ৩১৩টি। পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) পদ—২৫০টি। এসবের জন্য দরখাস্ত জমা দিয়েছেন চার লাখ ১১ হাজার ৮৯৬ জন; পদপ্রতি এক হাজার ৬৪৭টি। বাকি ২২ ধরনের পদের জন্যও গড়ে এক হাজারের বেশি দরখাস্ত জমা পড়েছে।

আমাদের দেশে সরকারি চাকরির প্রতি ঝোঁক এখনো অনেক বেশি। স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও পেনশন এর বড় কারণ। তবে এসবের বাইরেও এক কারণ রয়েছে, হাল-প্রবণতায় সেটিই মুখ্য। সেটি হলো উপরি আয়ের আশা। বেশির ভাগ সরকারি চাকরিকেই উপরি আয়ের উৎস বিবেচনা করা হয়। এটাই হাল-প্রবণতা। প্রচুর দরখাস্ত জমা পড়ার কারণ চাকরি-স্বল্পতা, এতে সন্দেহ নেই। তবে খাদ্য অধিদপ্তরে দরখাস্তের অস্বাভাবিক হারের কারণ শুধু চাকরি-স্বল্পতা নয়, বরং ঘুষপ্রাপ্তির আশা। যে পদে বসলে ঘুষ বেশি মিলবে, সে পদের জন্য দরখাস্ত বেশি। এ অধিদপ্তরের প্রতিটি পদেই উপরি আছে। কোনোটিতে বেশি, কোনোটিতে কম। সরকারের আরো কিছু বিভাগ রয়েছে, যেগুলোতে চাকরির জন্য দরখাস্ত করা হয় উপরির হিসাব কষে। কিছু বিভাগের কিছু পদে বৈধ কমিশনের সুযোগ রয়েছে। তার পরও উপরি আয়ের টান বড় হয়ে দেখা দেয়—এ কথা সবাই জানে।

উপরি আয়ের আশায় সরকারি চাকরির জন্য আবেদনের এ প্রবণতা নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচায়ক। সব দেশে সব কালে সরকারি পদে অসৎ, দুর্নীতিপ্রবণ লোকের অবস্থান ছিল, এখনো আছে। তবে এ দেশে সাম্প্রতিক কালে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাকে ব্যতিক্রম আচরণ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। এটাই এখন স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে। এর বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে গোটা সমাজে। এ প্রবণতা থেকে নিষ্কৃতি দরকার। সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ না দিলে নৈতিক অবক্ষয়ের পাঁকেই আটকে থাকবে রাষ্ট্র ও সমাজ।



মন্তব্য