kalerkantho


অর্থ যায়, কাজ এগোয় না

রেলের উন্নয়নে গতি আনুন

২৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



অর্থ যায়, কাজ এগোয় না

উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন ব্যবস্থা হচ্ছে রেলপথ। ক্রমাগত বেড়ে চলেছে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা। চাহিদা বাড়ছে তারও দ্বিগুণ হারে। গত এক দশকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ৪৬টি নতুন ইঞ্জিন ও ২৭০টি কোচ আমদানি করা হয়েছে। আগের সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু রেলপথ সংস্কারের পর নতুনভাবে চালু করা হয়েছে। বেশ কিছু রেলপথ নতুনভাবে তৈরি করা হচ্ছে। সিঙ্গেল লাইনকে ডাবল, ডাবলকে চার লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এসব কাজে ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রায় অর্ধশত প্রকল্প চালু রয়েছে। এতে রেল খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতারই প্রতিফলন ঘটেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর। যে প্রকল্প পাঁচ বছরে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা, বাস্তবে দেখা যায় আট বছরেও তার ১০-১৫ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হয়নি। এমন অদক্ষতার জন্য অনেক দাতা সংস্থা বা বিদেশি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান তাদের অর্থ ফিরিয়ে নিচ্ছে। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন খাতের উন্নয়নে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আধুনিক বিশ্বে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। অন্য সব পরিবহনের তুলনায় এটি পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর। নিরাপত্তা বিবেচনায়ও সবার চেয়ে এগিয়ে। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী। এসব বিবেচনায় নিয়েই উন্নত দেশগুলোতে রেলপথের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত দ্রুতগতির রেল পরিবহন চালু করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এখন প্রধান গণপরিবহন ট্রেন এবং সম্প্রতি বুলেট ট্রেনও চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু রেল, সড়ক বা জলপথই হোক—সব কটিতেই উন্নয়নের একটি ধারাবাহিকতা থাকতে হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় রেলপথ ছিল সবচেয়ে অবহেলিত একটি খাত। উপরন্তু বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত এ খাতের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর হয়েছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বেশ কিছু রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেসব রেলপথের পাত পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। লোকবল অনেক কমিয়ে ফেলা হয়েছিল। বগি ও ইঞ্জিন স্বল্পতায় অনেক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে মৃতপ্রায় সেই রেল খাতকে প্রাণ দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে তারই ফলে আবার এ খাত মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

দেশের রেলপথ উন্নয়নের এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ধীরগতি। আট বছরে যদি কোনো প্রকল্পের ১০ শতাংশ অগ্রগতি হয়, গণিতের হিসাবে সেই প্রকল্প শেষ হতে লাগবে ৮০ বছর, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের এই ধীরগতির কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে অযোগ্য লোকদের সরিয়ে যোগ্য লোকদের প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিতে হবে।



মন্তব্য