kalerkantho


সড়কে এখনো মৃত্যুর মিছিল

শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

২৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বেপরোয়া বাসের চাপায় রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চলতি মাসেই সড়ক পরিবহন আইনটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। রাজধানীসহ সারা দেশে যানজটমুক্ত নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত জুন মাসে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ছয় দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই যে কাজে লাগছে না, তা স্পষ্ট হয়েছে গত কয়েক দিনের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্রে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, ঈদের ছুটির চার দিনে ফেনী, বগুড়া, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, রাঙামাটি, নীলফামারী, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল শনিবার পীরগঞ্জে পিকনিকের বাস উল্টে অর্ধশত আহত হয়েছে। গতকাল কুমিল্লায় একই পরিবহন কম্পানির দুটি বাস খাদে পড়ে। পৃথক এ দুই ঘটনায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছে। একই দিনে নাটোরে বাসচাপায় নিহত হয়েছে ১০ লেগুনা যাত্রী। এসব দুর্ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তার একটি ছিল এই যে দূরপাল্লার বাসযাত্রায় বিকল্প চালক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাঁচ ঘণ্টা পর পর চালক পরিবর্তন করতে হবে। আরেকটি নির্দেশনা ছিল চালকদের জন্য মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার রাখতে হবে। এই নির্দেশনা মানা হলে গতকাল সকালের দুর্ঘটনা ঘটত না। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাসেরই গন্তব্য ছিল চট্টগ্রাম। একটি বাস রংপুর থেকে, অন্যটি দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসে। বাসে বিকল্প চালক থাকলে এবং পথে বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না। অকালে দুটি প্রাণ ঝরে যেত না। গত কয়েক দিনে সড়কপথে যে প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা দরকার। এসব যানবাহনের কি ফিটনেস সনদ ছিল? বাসের চালকরা কি যথাযথভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তরও জানা দরকার। এতে দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে অন্তত অবগত হওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবকে সভাপতি ও মহাপরিচালককে সদস্যসচিব করে গঠিত কমিটি মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। ট্রাফিকব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। কাজটি অত্যন্ত জরুরি। এতে অন্তত ত্রুটিগুলো দৃষ্টিগোচর হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।



মন্তব্য