kalerkantho


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বিশ্বসম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

২৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কিংবা বাংলাদেশের সদিচ্ছা—কোনো কিছুকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহই দৃশ্যমান নয়। রোহিঙ্গাদের প্রধান দুটি দাবি—নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। বরং অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা এখনো রোহিঙ্গা বিতাড়নের পুরনো কৌশলেই আছে। গত কয়েক দিনে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, এখনো সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলছে। ফলে এখনো অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ কি পারবে এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন ধরে ভরণ-পোষণ করতে?

মিয়ানমারে হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ দফায় ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শুরু হয়েছিল আজ থেকে এক বছর আগে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল ৯ মাস আগে। অথচ এখনো প্রত্যাবাসন শুরুই হয়নি। এ অবস্থায় কূটনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, মিয়ানমার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে না, যদি না প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়। কিন্তু সেটিও এগোচ্ছে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ক্ষেত্রে বিশ্বসম্প্রদায়কে ‘ব্যর্থ’ বলছে। অন্যদিকে কোনো কোনো দেশ বা সংস্থা বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে চলেছে বলে জানা যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাদের এ ধরনের পরামর্শ দেওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বাংলাদেশকেই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আরো শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে। সম্প্রতি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ১৩২ জন এমপি রোহিঙ্গা নিধনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে বিচার করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশকেও সে পথেই হাঁটতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, আরো অনেকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের একটি বড় অংশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সামাজিক পরিবেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান বাড়ছে। রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তারা বাংলাদেশি পরিচয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ দিন দিনই বাড়ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ সীমান্ত থাকা প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক থাকা উভয় দেশের এগিয়ে চলার জন্যই জরুরি। অথচ এই রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এতে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত এ সংকটের সমাধান হোক। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের পর সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গেও মিয়ানমার চুক্তি করেছে। সেসব চুক্তির প্রতি মিয়ানমার সম্মান প্রদর্শন করুক এবং প্রত্যাবাসন দ্রুততর করতে জাতিসংঘও কার্যকর ভূমিকা পালন করুক।



মন্তব্য