kalerkantho


শোকাবহ ২১ আগস্ট

রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



আগস্ট রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষী। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে এ মাসে—১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন। আরেকটি রক্তাক্ত ঘটনা ঘটানো হয়েছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। সেদিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করা। শেখ হাসিনা ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন। তবে আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছিল শতাধিক। অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে।

বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে, হামলা চালিয়েছিল ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ। পেছনে বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল। তদন্ত প্রতিবেদন ও এবিষয়ক মামলার সাক্ষ্যেও এসব তথ্য উঠে এসেছে। পরে তাদের নির্দেশেই মামলার আলামত নষ্ট করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের বলে পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এ কথাও বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছিল যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের সমর্থক লেখক-বুদ্ধিজীবীরাও একই সুরে কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এজাতীয় মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, প্রচার করেছিলেন।

ভয়ানক এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘হাওয়া ভবন’-এ তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের অংশগ্রহণে ওই নারকীয় হামলার ষড়যন্ত্রের কথা। ষড়যন্ত্রের এ অভিযোগ প্রমাণিত হবে কি না, তা জানা যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। বিচারপ্রক্রিয়া শেষের পথে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রবিবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সম্পর্কে বলেছেন, আগামী মাসেই মামলার রায় ঘোষিত হতে পারে। এখন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী বাবরের পক্ষে শুনানি শেষ হলেই মামলা রায়ের জন্য প্রস্তুত হবে।

১৪ বছর পর মামলার রায় হতে যাচ্ছে। ২১ আগস্ট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা, তাদের পরিবার ও দেশবাসী অপেক্ষায় রয়েছে এ রায়ের জন্য। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য নেওয়া হবে। সব বক্তব্য শোনার পর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করবেন বিচারক। আশা করি, শিগগিরই রায় ঘোষিত হবে এবং আদালতের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।



মন্তব্য