kalerkantho


মাহাথির মোহাম্মদের বিজয়

আরো গাঢ় হোক দুই দেশের সম্পর্ক

১১ মে, ২০১৮ ০০:০০



আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি ও রূপকার বলা হয় তাঁকে। সুযোগ্য, সাহসী, দূরদর্শী ও যোগ্য শাসকই যে একটি দেশ ও জাতির ইতিহাস সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারেন, ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ তারই উদাহরণ। ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা ২২ বছর ক্ষমতায় থেকে মালয়েশিয়াকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন তিনি। এককালের দরিদ্র মালয়েশিয়াকে বিশ্বের ১৪তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে দেখিয়েছিলেন আশার আলো। আত্মনির্ভরশীল জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করতে পেরেছিলেন। দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থাকার পর নতুন করে আবার রাজনীতিতে আসেন তিনি। এবারের নির্বাচনে নিজের দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে আবার বিজয়ী হয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর যে জোট একটানা ৬১ বছর দেশ শাসন করেছে; বলা চলে, সেই জোট পরাজিত হয়েছে ৯২ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদের কাছে। সম্ভবত তিনিই হবেন বিশ্বের কোনো দেশের সবচেয়ে বয়সী নির্বাচিত সরকারপ্রধান।

ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ কোনো অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেননি। শিক্ষক বাবার ৯ সন্তানের সবার ছোট মাহাথির ছোটবেলা থেকেই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। প্রথম পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৯ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। ১৯৭৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দেশের নাজুক পরিস্থিতিতে সার্বিক উন্নয়নে নেন বহুমুখী পদক্ষেপ। মালয়েশিয়াকে বদলে দিতে সবার জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। দেশের শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয় তাঁর শাসনামলে। ১৯৮২ সালে যে মালয়েশিয়ার জিডিপির পরিমাণ ছিল ২৭.৩ মার্কিন ডলার, ২০০২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫.২ বিলিয়ন ডলারে। সমুদ্র থেকে জমি উদ্ধার, অত্যাধুনিক এয়ারপোর্ট তৈরি, একাধিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণসহ অসংখ্য কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তিনি মালয়েশিয়াকে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ মাহাথির শুধু উন্নয়নই করেননি, দেশজুড়ে নবজাগরণেরও জন্ম দিয়েছেন। তাই তিনি শুধু মালয়েশিয়া নয়, বিশ্বের সব অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য অনুপ্রেরণা। ছোট থেকে কী করে বড় কিছু করার চিন্তা করা যায়, উন্নয়নের মন্ত্র ও অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা শিখিয়েছেন ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি কাজ করছে। মাহাথির মোহাম্মদ নিজেও বাংলাদেশের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। আমরা আশা করি, তাঁর এই ফিরে আসার মধ্য দিয়ে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গাঢ় হবে।



মন্তব্য