kalerkantho


স্যাটেলাইট যুগে বাংলাদেশ

বিস্ময়কর অর্জন, অভিনন্দন

১১ মে, ২০১৮ ০০:০০



স্যাটেলাইট যুগে বাংলাদেশ

যোগাযোগ প্রযুক্তির এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সব কিছু ঠিক থাকলে আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই জানব বাংলাদেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ কক্ষপথে পৌঁছে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ১২ মিনিটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরাল লাঞ্চিং প্যাড থেকে ফ্যালকন-৯ নামের একটি রকেট উপগ্রহটি নিয়ে যাত্রা শুরু করার কর্মসূচি ছিল। এই যুগসন্ধিক্ষণ পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে থাকা শত শত বাংলাদেশি ছুটে গেছেন ফ্লোরিডায়। অনেকে এসেছেন আশপাশের দেশ থেকেও। বাংলাদেশ থেকেও অনেকে গেছেন উেক্ষপণ দেখার জন্য। সব মিলিয়ে ফ্লোরিডায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।

বর্তমান বিশ্বের উন্নয়ন-অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করে উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজস্ব উপগ্রহ-প্রযুক্তি বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার এক বিশাল দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে। এটি বাংলাদেশের মর্যাদাও অনেক বাড়িয়ে দেবে। সর্বশেষ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে উপগ্রহটি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। উেক্ষপণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। স্যাটেলাইটের জন্য দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হয়েছে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় ও গাজীপুরে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে। স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে ২০ দিনের মতো লাগবে। এরপর এই নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। ৩ দশমিক ৭ টন ওজনের এই স্যাটেলাইট নির্মাণ থেকে উেক্ষপণ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। আগামী ১৫ বছর পর্যন্ত এটি কর্মক্ষম থাকবে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের সেবা নিতে খরচ করে বছরে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই খরচ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কাছে এর সেবা বিক্রি করেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে স্যাটেলাইটের খরচ সম্পূর্ণরূপে উঠে যাবে। বাকি প্রায় ১০ বছর এটি লাভ করবে। তবে তাঁরা লাভ-ক্ষতির বিবেচনায় একে দেখছেন না। তাঁরা একে বিবেচনা করছেন দেশের মর্যাদা এবং সুযোগ-সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে।

বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নিজস্ব যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য একটি অপরিহার্য উদ্যোগ। বর্তমান সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে তাঁদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ এগিয়ে যায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার সরকার দেশের প্রথম নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে। আমরা আশা করি, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য