kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে রাখতে হবে



রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান

জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও ১০ অস্থায়ী সদস্য দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের প্রতিনিধিদল গত শনিবার ঢাকায় এসে রবিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলটি গত সোমবার ঢাকা ত্যাগ করার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে। সাক্ষাত্কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাশিয়া, চীন, জাপান ও ভারতের মতো দেশগুলো জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ সৃষ্টির আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নতুন করে দেখা দেয় গত বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে এসে। নতুন করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই চ্যালেঞ্জ অদূর ভবিষ্যতে আরো কঠিন রূপ নিতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবপাচারকারীদের তত্পরতা বেড়েছে। অবৈধ পথে বা বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বিদেশে পাড়িও জমিয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু মিয়ানমারের নানা টালবাহানায় প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতন শুরুর পর থেকেই এ বিষয়ে মিথ্যাচার করছে দেশটি। অথচ সেখানে জাতিগত নিধন হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে তাঁদের মতামত দিয়েছেন। রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি দেশ কী করে এমন সভ্যতাবিরোধী কাজ করতে পারে, এ প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরল নজির স্থাপন করেছে। কিন্তু এত মানুষের চাপ নেওয়া বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। উপরন্তু রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়শিবিরগুলোর পরিবেশও নষ্ট হবে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মোড় নিতে পারে। এ সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ বরাবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় এ সমস্যার সমাধান সুদূরপরাহত। বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সহায়তাও চেয়েছে। জাতিসংঘও এ বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা যে পরিবেশ-পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে গেলেন, তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সুন্দর সমাধান হতে পারে।


মন্তব্য