kalerkantho


ষড়যন্ত্র থেমে নেই

গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার চর্চা বাড়ান

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ষড়যন্ত্র থেমে নেই

২০২১ সালে স্বাধীনতার অর্ধশতবর্ষ পূর্ণ হবে। অথচ আমাদের কী দুর্ভাগ্য, এই দীর্ঘ সময়ের একটি বড় অংশজুড়েই দেশ পরিচালনা করেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা; যারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছে, অগণিত মানুষকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুটেছে, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। সেসব মানবতাবিরোধী অপরাধকারীই আবার এ দেশের ক্ষমতায় এসেছে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত পতাকা উড়িয়ে এ দেশের পথে-ঘাটে বুক ফুলিয়ে চলাচল করেছে। স্বাধীনতার সব অর্জন ধ্বংসের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা করেছে। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে গত বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতাকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন। এরা যাতে আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেই আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনো মূল্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সুসংহত রাখতে হবে এবং আরো এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সে জন্য শাসকদলকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে অত্যন্ত সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীনতার সুফল বিনষ্ট করতে স্বাধীনতাবিরোধীদের অপকৌশলের অন্ত নেই। এ দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার তাদের সেই অপকৌশলেরই অংশ। গুপ্তহত্যা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত তারা হরহামেশাই করে যাচ্ছে। ধর্মের নামে মিথ্যা উসকানি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের বিদেশি মদদদাতারাও বসে নেই। অর্থ দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে তারা এদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। সামনে নির্বাচন, স্বাধীনতাবিরোধীরা এ সময় দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা রকম অপচেষ্টাই করে যাবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এ সময় আরো বেশি সজাগ থাকতে হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় শাসকদলকে আরো বেশি ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। দলের শীর্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। স্থানীয়ভাবে অনেক নেতাকর্মীর আচরণে সাধারণ মানুষ বিপন্ন বোধ করে এবং ক্ষুব্ধ হয়। এমন নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শাসকদলের নেতাকর্মীদের আরো বেশি করে জনমুখী হতে হবে। দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। শাসকদলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের একই পরিণতি না হলে মানুষ তাকে স্বাভাবিক মনে করবে না। এমন বৈষম্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকা জনসমর্থনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। খালেদা জিয়া কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বিএনপি নেতাদের বলেছেন, যেকোনো মূল্যে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেওয়া চলবে না। আমরা তাঁর এই উপলব্ধিকে স্বাগত জানাই। অতীতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি যে তাঁদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে, সেটি নিশ্চয়ই তাঁরা বুঝতে পারছেন।

আমরা আশা করি, নির্বাচনের বছরেও দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের সব অপচেষ্টা বানচাল করে দেশ স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক মুক্তি ত্বরান্বিত হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে।



মন্তব্য