kalerkantho


রাজধানীতে ক্যাসিনো

অর্থপাচারের আয়োজন বন্ধ হোক

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জুয়া খেলা আইনসিদ্ধ নয়, তার পরও দেশে বিভিন্ন ধরনে এটি চালু রয়েছে। তাস খেলার ফরম্যাটে গ্রাম-গঞ্জ-শহরে জুয়া খেলা হয়ে থাকে। বিনোদন বা অবসর সময় কাটানোর মাধ্যম এটি। বিভিন্ন মেলায় বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, মফস্বলে পট খেলাও হয়; এটিও জুয়ারই একটি ধরন। চোখে পড়লে বয়স্ক ব্যক্তিরা তরুণ-যুবাদের সতর্ক করেন, তবে পরিমাণগত কারণে ততটা গা করেন না। আপাত নিরীহ এ খেলা পরিমাণগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে প্রায়ই বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাণিজ্যিক জুয়ার আসরে বড় ধরনের অপরাধের ঘটনারও জন্ম হয় মাঝেমধ্যেই; কখনো খুনাখুনি পর্যন্ত গড়ায়। পরিমাণ যখন বিপুল আকার ধারণ করে তখন আর এ খেলাকে অনুমোদন দেয় না সমাজ।

সমাজ অনুমোদন করুক বা না করুক, জুয়া খেলা চলে; বিশেষ করে শহর-নগরের বিভিন্ন ক্লাবে। সেটির চরিত্র রীতিমতো পেশাদারি। সংশ্লিষ্টরা প্রতাপশালী, তারা সমাজকে এড়িয়ে যেতে পারে, আইন-কানুনকেও পাশ কাটাতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে জুয়ার আসর বসানো আইনসিদ্ধ নয়। তার পরও আইনের রক্ষকদের চোখ এড়িয়ে বাণিজ্যিক আসর বসছে আধুনিক সরঞ্জামাদি নিয়ে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকার পুরানা পল্টনের একটি ভবনে ক্যাসিনো স্টাইলে জুয়ার আসর বসে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। কম্পিউটারে এ খেলা চলে। কিশোর, তরুণ, যুবক, প্রৌঢ়—সবাই ওই আসরে যায়। এককভাবে বা দলীয়ভাবে খেলা চলে। পাঁচ শ টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দান (বেটিং) ধরা যায়। সঙ্গে বাড়তি ব্যবস্থাও আছে। বাড়তি ব্যবস্থা মানে মাদক সেবনের ব্যবস্থা।

একটি চক্র চুটিয়ে এ ব্যবসা করছে। গত অক্টোবরে এ ‘ক্যাসিনো’র যাত্রা শুরু। বিস্তৃতি বাড়াতে আয়োজকরা জুয়াড়িদের নিজস্ব ল্যাপটপে, মোবাইল ফোনে সফটওয়্যার দিয়ে দেয়। এরপর ঘরে বসেই অংশগ্রহণ করা যায়। উচ্চবিত্ত পরিবারের স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তানরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনলাইন ক্যাসিনোর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, ঘুষখোর কর্মকর্তা, কোটিপতি ব্যবসায়ীরাও সেখানে যায়। অপরাধ জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এটি। বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা চীনা বংশোদ্ভূত চার মালয়েশীয় নাগরিক ক্যাসিনোটির প্রধান নিয়ন্ত্রক। তাদের পৃষ্ঠপোষক ঢাকার এক বড় জুয়াড়ি, মালয়েশিয়া তার সেকেন্ড হোম।

বেআইনি এ খেলা কী করে চলছে? সমাজে কিছু প্রতাপশালী ব্যক্তি থাকেই। তাই বলে প্রতাপের জোরে সবই করা যায়! আইনের রক্ষকদের গাফিলতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে অর্থপাচারের এমন এলাহি আয়োজন চলতে পারে না। সমাজের ভালোর জন্য, রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্টরা সত্বর ব্যবস্থা নিতে তৎপর হবে বলে আমরা আশা করি।

 


মন্তব্য