kalerkantho


পাঁচ পাথর শ্রমিকের মৃত্যু

এই হত্যাযজ্ঞ কি চলতেই থাকবে

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিলেটের জাফলং ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মাটির সঙ্গে মিশে আছে পাথর। স্থানীয়ভাবে নির্মিত বোমা মেশিন দিয়ে গর্ত করে অবৈধভাবে এসব পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। আর তা করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মারা যাচ্ছে দরিদ্র মানুষ, যারা পেটের দায়ে বিপজ্জনক এই কাজ করতে আসে। গত মঙ্গলবারও জাফলংয়ে মন্দিরের জুম এলাকায় এক নারীসহ পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এর আগে শুধু ২০১৭ সালেই সিলেটে পাথর তুলতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে কমপক্ষে ৩২ জন শ্রমিক। এই মন্দিরের জুম এলাকায়ই গত নভেম্বর মাসে একই মালিকের পাথর তুলতে গিয়ে প্রাণ দেয় আরো এক নারী শ্রমিক এবং গুরুতর আহত হয় আরো তিন শ্রমিক। দিনের পর দিন এভাবে হত্যাযজ্ঞ চললেও সিলেটের এসব অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ হয় না কেন?

সারা দেশে পাথরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দামও ভালো। তাই অবৈধভাবে পাথর তোলায় অনেকেই জড়িয়ে গেছে। কিন্তু সেই কাজটি তারা করছে যেনতেনভাবে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই। ফলে প্রতিবছরই বহু শ্রমিকের প্রাণ যাচ্ছে, অনেকে জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। কখনো কখনো লোক-দেখানো অভিযান অবশ্য চলে। দু-একটি বোমা মেশিন জব্ধ বা দু-একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। কয়েক দিন পরই আবার তারা ছাড়া পেয়ে একই কাজে লিপ্ত হয় এবং আবারও বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। অথচ সরকারিভাবে পাথর উত্তোলনের কাজটি পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলে অনেক মানুষের জীবন যেমন বেঁচে যেত, সরকার তাতে লাভবানও হতে পারত। কিন্তু কেন তা করা হয় না, আমাদের জানা নেই। ফলে পাথর উত্তোলনের এই লাভজনক ক্ষেত্রটি চলে গেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও টাউট প্রকৃতির লোকের হাতে। আর তাদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিও লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় পরিবেশের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বাড়ছে পাহাড়ধসের ঘটনা।

দরিদ্র পাথর শ্রমিকদেরও জীবনের মূল্য আছে—এই সত্যটি আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। মঙ্গলবারের ঘটনায় যারা হতাহত হয়েছে, তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা অবৈধ ও অনিরাপদ উপায়ে পাথর উত্তোলন করাচ্ছিল, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দ্রুত উদ্যোগ নেবে।



মন্তব্য