kalerkantho


সাক্ষাৎকার

যে কারণে আর পড়ালেখা হলো না’

৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



যে কারণে আর পড়ালেখা হলো না’

সুধীন দাশ জন্ম : ৩০ এপ্রিল ১৯৩০ কুমিল্লার তালপুকুরপারে মৃত্যু : ২৭ জুন ২০১৭

বাংলাদেশের সংগীতের ক্ষেত্রে যাঁরা বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং নিজের জীবন সংগীত সাধনায় সমর্পণ করেছেন, সুধীন দাশ তাঁদের একজন। আমাদের দেশে শিল্পী গড়ারও কারিগর তিনি। সুধীন দাশকে প্রখ্যাত শিল্পী, সুরকার, স্বরলিপিকার ও সংগীত পরিচালকের অভিধায় অভিহিত করলেই তাঁর পুরো পরিচয় দেওয়া হয় না। এই উপমহাদেশে শুদ্ধ নজরুলসংগীতের অন্যতম স্বরলিপিকার তিনি। এপ্রিলের প্রথম দিন সকাল ১১টায় পৌঁছি তাঁর বাসায়। কেমন আছেন—এ প্রশ্ন করতেই বলে ওঠেন, ‘খুব ভালো আছি। এইতো চোখে দেখি না, কানে শুনি না, চলাফেরা করতে পারি না; তাই খারাপ থাকব কী করে!’ এরপর আলাপে মেতে উঠি ওই গুণী শিল্পীর সঙ্গে। তাঁর এই সক্ষাৎকারটি নেন শ্যামল চন্দ্র নাথ

 

শ্যামল : আপনি নজরুল সংগীতের শুদ্ধ স্বরলিপিকার। আপনার স্বরলিপির ভূয়সী প্রশংসা করেন নজরুল সংগীত বিশেষজ্ঞ জগৎ ঘটক, ধীরেন্দ্র চন্দ্র মিত্র, সিদ্ধেস্বর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যক্তি। এই কাজ করতে গিয়ে আপনি কার কার সহযোগিতা পেয়েছেন।

সুধীন দাশ : আমার ভেতরের তাগিদ থেকে আমি স্বরলিপি করার চেষ্টা করেছি। সংগীতের মধ্যে আমি বড় হয়েছি, সংগীত শুনে বড় হয়েছি। আমার বড় ভাই সুরেন দাশ আমার গুরু। তাঁর কাছ থেকে আমি সংগীতের শিক্ষা পেয়েছি। আমি আমার সাত ভাইয়ের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ এবং তিনি ছিলেন সর্ব জ্যেষ্ঠ। ফলে আমার জন্মের পরেই যখন বুঝতে শুরু করেছি, তখন থেকেই গানের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। সেই পরিবেশ আমাদের পরিবারের মধ্যে ছিল।

শ্যামল : আপনার বড় ভাইয়ের কথা বললেন, কিন্তু আমি জানি যে তিনি চেয়েছিলেন আপনি আগে পড়ালেখা শেষ করেন। তিনি বাড়িতে বাইরের ছেলে-মেয়েদের গান শেখালেও আপনাকে কাছে ভিড়তে দিতেন না। একদিন আপনার ভাই তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর রেগে গিয়ে বললেন, ‘কী শিখছো তোমরা! এই যে সামনে বসিয়ে একেকটা লাইন তোমাদের বলে দিচ্ছি, তোমরা তবুও পারো না। অথচ ঘরের পেছনে ঘুরে বেড়ায়, তারা গান শিখে ফেলেছে ঠিকই।’ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

সুধীন দাশ : এই সম্পর্কে তো তুমি পুরোটাই বলে ফেলেছ। ওই যে বললাম আমার জ্ঞান হয়েছে সংগীতের মধ্যে। আমাদের বাসায় তখন সকাল থেকেই সংগীতের চর্চা হয়। তিনি সংগীত গুরু ছিলেন। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা তো আসত, তাঁর সমসাময়িক যাঁরা তাঁরা আসতেন। কাজেই ওই সময় দাদার রেওয়াজ খুব ভোর থেকে শুনতাম। এটা এমন ব্যাপার ছিল, এই সংগীত চর্চা সারা দিনই চলত। এখনকার মতো বাঁধাধরা নিয়মে নয়। তাঁর সংগীত শিক্ষা হয়েছিল কলকাতায়। পরে তিনি কলকাতা থেকে চলে আসেন কুমিল্লায় টাইফয়েড হওয়ার ফলে। তখনো স্টেপটোমাইসিন বের হয়নি। পেনিসিলিন বের হয়নি। আমি তখন অনেক ছোট। কিন্তু দেখতাম আমার মা, বাবা, ভাইদের ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠা। তিনি কলকতায় থাকতেন কাকার বাড়িতে। সুস্থ হওয়ার পর আর তিনি কলকাতায় গেলেন না। ফলে ওই সময়ের পর থেকে সংগীত তাঁর শুধু নেশা নয়, পেশাও হয়ে গেল। এরপর দেখলাম সংগীতের গভীর চর্চা, সাধনা এবং অতঃপর তিনি হলেন সংগীতের গুরু। আমার যে এত আগ্রহ সংগীত নিয়ে, তা নিয়ে আমার দাদা শঙ্কিত হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, যদি গানের নেশা একবার ভেতরে বাসা বাঁধে তাহলে আর লেখাপড়া হবে না। বয়সে সবার ছোট বলে আমাকে সবাই অত্যন্ত ভালোবাসত।

শ্যামল : পরে তো দাদার আশঙ্কাই প্রতিফলিত হয়েছে। ভিক্টোরিয়া কলেজে বিএ পরীক্ষায় মাত্র দুই পেপার পরীক্ষা দিয়েই থেমে গেলেন। এক কথায় পড়ালেখা নির্বাসনে পাঠালেন।

সুধীন দাশ : যে কারণে আর পড়ালেখা হলো না। সেটা তো গান। দাদা মাকে বলতেন, আগে ও লেখাপড়া শেষ করুক তারপর গান শিখুক। কিন্তু মন তো আর মানেনি। গান শেখানো তো আমার ব্যাপার। লেখাপড়া শেষ করলে মনে হয় ভালোই হতো। ছাত্র হিসেবে আমি খারাপ ছিলাম না।  ম্যাট্রিক পর্যন্ত রেজাল্ট ভালোই ছিল। ম্যাট্রিকের পর সময়টা খারাপ। ফলে তাঁর আশঙ্কা কোনোভাবেই অমূলক ছিল না। তখন ওই একটা ডেমকেয়ার ব্যাপার আমার মধ্যে কাজ করত। এর ফলে চুরি করে, লুকিয়ে আমি গান শিখতাম। এরই মধ্যে সংগীত শিল্পী হিসেবে আমার একটা খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

শ্যামল : আমি জানি যে আপনি ওই সময় চুরি করে, লুকিয়ে আপনার দাদার গানের স্বরলিপি দেখতেন। আর এতে সাহায্য করত আপনার বৌদি বেলা দাশ। পরে ওই স্বরলিপি নির্মাণে এই উৎসাহটা আপনার জীবনে কতটা সাহায্য করেছে।

সুধীন দাশ : পুরোপুরি। স্বরলিপিকে ঘিরেই আমার সংগীত জীবন। এখন আমাকে মানুষ জানে যে আমি একজন স্বরলিপিকার। স্বরের সাধনা করলেই না স্বরলিপি নির্মাণ করা যাবে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই, আমাদের দেশের অনেক বড় নামকরা শিল্পীও কিন্তু সত্যিকার হিসেবে স্বরলিপির চর্চা করেন না। স্বরলিপি নিয়ে তাঁরা মাথা ঘামান না। আমি স্বরের সাধনা করেছি। ফলে দেশে অল্পবিস্তর সংগীত শিল্পী হিসেবে আমার পরিচিতি হয়ে গেছে। আমি কেন স্বরলিপি নিয়ে কাজ করতে গেলাম, সেটা হলো আমি প্রথমে পঞ্চ কবির গান করতাম, ডি এল রায়, অতুল প্রসাদের গান করতাম। মানে বাংলা গানের সব ধারায়ই আমি গান করতাম। অসহযোগ আন্দোলনের সময় আমি দেশের গানও করেছি। কিন্তু স্বরলিপি করার তাগিদ অনুভব করি যখন নজরুলের গান জনপ্রিয় হতে আরম্ভ করল। প্রথম দিকে ঢাকা বেতারে নজরুলের গানের তেমন কোনো সুযোগ ছিল না। পরে পঞ্চাশের দশকের দিকে ঢাকা বেতারে নজরুলের গান নজরুলগীতি হিসেবে চলতে শুরু করল। সেই সময়ই বিভিন্ন শিল্পী নজরুলের গান গাইতে শুরু করলেন। কিন্তু আমি দেখলাম যে মূল গানের সঙ্গে ওদের গাওয়া গানে বাণীতে গরমিল, সুরে গরমিল, এটা আমাকে অনেক ব্যথিত করত। নজরুলের এত অন্যবদ্য গান, এত দারুণ গানগুলো মূল বাণীতে, মূল সুরে না গেয়ে মূল গান হিসেবে চালানো হচ্ছে। ৫০, ৬০ বছর একটানা বেতারে গান গেয়েছি। রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীত পাশাপাশি। এর মধ্যে দেখলাম পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেসব শিল্পী এবং যাঁরা নজরুলের সহচর বলে পরিচিত ছিলেন, তাঁরা নজরুলের স্বরলিপি করতে শুরু করলেন। তাঁরা নজরুলের বিকৃত গান গাওয়া শুরু করলেন এবং ওই গানের ভুল স্বরলিপি কলকাতা থেকে বের হতে লাগল। আমি দেখলাম যে বিকৃতির চরমে চলে গেল। এরপর আমি কলকাতা গিয়ে ‘হরফ’ প্রকাশনীর প্রকাশক আবদুল আজিজ আল আমানকে গিয়ে বললাম, এই যে স্বরলিপি প্রকাশ করছেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। আমরা তো নজরুলের গান পাই না। বেশির ভাগ গানেই তো গরমিল। তিনি বললেন, আপনি কী বলেন এসব! আমি বললাম, দেখেন আমি নজরুল নিয়ে একটু চর্চা করি, গবেষণা করি, একটু নজরুলের গান করি। ভদ্রলোক তেমন পাত্তা দিলেন না। তিনি আমাকে বললেন, আপনি বলতে পারেন কোন বইয়ে ভুল আছে? আমি বললাম, কোন বইয়ে ভুল নাই সেটা আমাকে বলেন। ভদ্রলোক তখন ইতস্তত হয়ে গেলেন। স্বরলিপির বই তখন ওখান থেকে আটটা বের হয়ে গেল। যেকোনো একটা বই আনেন, আমি ভুল দেখিয়ে দিয়ে যাই। আর আপনি আপনার স্বরলিপিকারদের এই ভুলগুলো দেখাবেন। তিনি রেক থেকে একটি বই আমার হাতে দিলেন। আমি কয়েকটা গানে দাগ দিলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি এই গানগুলো তাঁদের দেখান যদি আপনি সত্যিকারের নজরুল সংগীতকে ভালোবাসেন এবং সত্যিকারের এই মহৎ কাজটি করেন তাহলে আপনাকে খোঁজ নিতে হবে। তিনি বললেন, হাঁ আমি নেব। তখন তিনি আমার নাম জানতে চাইলেন। আমি বললাম, সুধীন দাশ। আপনি তো অনেক ভালো গান। আপনার গান তো আমরা নিয়মিত শুনি। আমি দেখব। বললাম, আমার দুঃখ হলো নজরুলের এই অনবদ্য গান যদি এই রকম ভুলভাবে প্রকাশিত হয় তাহলে তো নজরুলচর্চা গোড়ায়ই শেষ হয়ে যাবে। কী আর তিনি দেখবেন! ওই বই বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যায়। পরে দেখলাম, দুটি-তিনটি করে এডিশন হয়ে গেছে। আমি যেটা দাগ দিয়ে এলাম সেটা তো তিনি ধরেনই নাই। একটা গানের চারটা ধাপ আছে—স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারি, আভোগ। একটা গানে তো স্থায়ী—অন্তরা আছে এক গানের আর সঞ্চারি অন্য গানের। তিনি তো কোনো পাত্তাই দিলেন না আমার কথার। এভাবে নবম এডিশন পর্যন্ত বের হলো। তখনই আমি নিজের তাগিদে স্বরলিপি করতে শুরু করি।

শ্যামল : এরপর আপনি নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে গানের স্বরলিপি বের করেন। এ পর্যন্ত নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ১৬টি ও নজরুল একাডেমি থেকে পাঁচটি, মোট ২১টি খণ্ডের নজরুলের গানের স্বরলিপি বের হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে আপনি প্রথম অবস্থায় অনেক বাধার সম্মুখীন হন।

সুধীন দাশ : আমি তখন নজরুল একাডেমিতে শিক্ষকতা করতাম। নজরুল একাডেমির সম্পাদক ছিলেন কবি তালিম হোসেন। তিনি অত্যন্ত নজরুলপ্রেমী। তাঁরও একান্ত ইচ্ছা ছিল নজরুলের শুদ্ধ গানের স্বরলিপি করবেন। তখন বাংলাদেশের নজরুল শিল্পীদের নিয়ে একটা মিটিং ডাকলেন এবং সেই মিটিংয়ে আমাকেও ডাকলেন। কিন্তু সেই মিটিংয়ে কেউ-ই রাজি হচ্ছিলেন না। মানে তাঁরা করবে কী, তাঁরা স্বরলিপি বোঝেনও না, এর মধ্যে একজন ছিলেন মফিজুল ইসলাম। তিনি অসম্ভব গুণী সংগীতশিল্পী ছিলেন। 

তিনি স্বরলিপি করার চেষ্টা করেছিলেন। তখন আমি ছায়ানট ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানেই গান শিখিয়েছি। একদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়ার পর একটা চিঠি এসেছে। সেখানেও আমি ভুল করেছি বিকৃত স্বরলিপির কারণে বিকৃত গান গেয়েছি বলে। পরে অবশ্য আমি ওই শ্রোতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই। সেই গানটা ছিল—‘কেন আসিলে ভালোবাসিলে দিলে না ধরা জীবনে যদি বিশাল চোখে বিশাল মরু।’

সেখানে লেখা ছিল— ‘কি কালো চোখে মিশায়ে মরু’। ফলে রেকর্ড থাকার ফলেও আমি ভুল করে ফেলি। ফলে বাসায় এসে রেকর্ড বের করে দেখি যে বই থেকে পড়েছি সেখানে ছিল তা ভুল। একটা গান আছে ‘ম্লান আলোকে ফুটলি কেন গোলাপ চাপার ফুল।’ এটা লেখা হয়েছিল—নানা লোকে ফুটলি কেন গোলাপ চাপার ফুল। ফলে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি নিজেই একা স্বরলিপি করব মূল রেকর্ড থেকে। তখন নজরুলের সুস্থ অবস্থায় যেসব গান রেকর্ড হয়েছে সে গুলোকে আমি নির্বাচন করি। সেখানে ছিল এক হাজার ৬০০ গান। এবং লেবেল থেকে শিল্পীর নাম, সুরকারের নাম এটা আমি গানের স্বরলিপির শুরুতে দেব। প্রতিটি গানের টেপ একাডেমিতে থাকবে। আমি স্বরলিপি শুরু করার পর একটা আলোড়ন শুরু হয়ে গেল। ফলে কলকাতার ‘হরফ’ প্রকাশনী থেকে বের হওয়া নজরুলের স্বরলিপি নবম খণ্ড বের হওয়ার পর আর বের হলো না। আমি আমার নিজের প্রেরণাই স্বরলিপি করেছি।

শ্যামল : শুধু নজরুল সংগীতের শুদ্ধ স্বরলিপিকার নন আপনি, লালন সংগীতেরও প্রথম স্বরলিপিকার।

সুধীন দাশ : আমাদের বাংলা সংগীতের ভাণ্ডার অসীম, অফুরন্ত। আমাদের শুধু রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত কিংবা প্রকাশ ভেদে এখানে বিভিন্ন ধারা। বাউল, ভাটিয়ালি, পঞ্চকবি, জারি, সারি, লালনের গান, কীর্তন, ইসলামী গান, শ্যামা সংগীত প্রাচীন যে বাংলা গান এগুলো অনেক সমৃদ্ধ গান। সময়ের কালক্রমে অনেক গানই হারিয়ে গেছে। একমাত্র স্বরলিপি না থাকার কারণে। রবীন্দ্রসংগীত সম্পূর্ণ সংগ্রহ করা গেছে। এ ক্ষেত্রে বলতে হয়, দূরদর্শী রবীন্দ্রনাথ এটা বুঝেছেন যে স্বরলিপি মাধ্যমে যদি সংগীত সংরক্ষিত না হয় তবে তা কালক্রমে হারিয়ে যাবে। নজরুলের গানের স্বরলিপি করার যে উদ্দেশ্য ছিল শুদ্ধ গান, শুদ্ধ বাণী সবার কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া। সত্যিকারে নজরুলের গান মানুষ শুনুক। নজরুলকে আমরা যেন অখণ্ড নজরুল হিসেবে পাই। নজরুলের গানকে ভালোবেসে দায়বদ্ধতা থেকে করা। ঠিক একই কারণে আমি লালনের গানের স্বরলিপি করি। এটা কথিত আছে যে রবীন্দ্রনাথও লালনের গানে প্রভাবিত হয়েছেন। এই লালনের গানেও দেখলাম আমাদের এখানে এক রকম গাওয়া হয় আবার কলকাতায় একভাবে গাওয়া হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গানগুলো গাওয়া হয়েছে এর কিন্তু স্বরলিপি এখনো কেউ করেনি। একদিকে গত ৪০ বছরে তো মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করতে করতে এখন আরেক মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। লালনের গান করার একটা সৌভাগ্য হয়েছিল যখন আমি শিল্পকলায় ক্লাস নিই। ওখানে বিভিন্ন গানের ওপর ক্লাস নেওয়া হতো। কুষ্টিয়ার লালনের আঁখড়া থেকে খোদাবক্স সাইজিকে আনা হলো। তাঁর সহযোগিতায় আমি এই কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছিলাম।



মন্তব্য