kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

মো ইয়ানের মন

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মো ইয়ানের মন

২০১২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান চীনের কথাসাহিত্যিক মো ইয়ান। বলা হয়, তিনি ধাঁধালো বাস্তবতার আবরণে তুলে ধরেন লোককথা, ইতিহাস আর সমকালীন চীনকে।

ফকনার ও মার্কেসের লেখা তিনি অনুবাদও করেছেন। তাঁর আসল নাম গুয়ান মই। মো ইয়ান তাঁর লেখক নাম। চীনা ভাষায় ‘মো ইয়ান’ মানে ‘কথা বলো না’। তাঁর নাম এমন হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মা-বাবা একসময় তাঁকে বাইরে বের হলে কথা না বলতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন মো ইয়ানের কিশোর বয়স। বেড়ে ওঠার সময়ই তিনি দেখেছেন উনিশ শ পঞ্চাশের দশকে চীনের বিপ্লবী রাজনীতির অবস্থা। এ জন্যই তাঁর মা-বাবা তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর লেখক নাম মো ইয়ান করার প্রাসঙ্গিকতা এসেছে। তবে নাম নিয়ে এত কারসাজি করা মো ইয়ানের স্বভাবে রয়েছে বিতর্কের ছায়া। নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করার সময় সুইডেনে পৌঁছে মো ইয়ান যা বলেছিলেন তাতে বোঝা যায় তিনি আলাদা গোত্রের মানুষ। তিনি বলেন, ‘এখানে আসতে বিমানে ওঠার আগে আমাকে তল্লাশি করা হয়। তারা আমার বেল্ট ও জুতা পর্যন্ত খুলে তল্লাশি করে। তবে আমি মনে করি, নিরাপত্তার খাতিরে এ রকম তল্লাশির দরকার আছে। ’ তাঁর দেশের লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী লিউ জিয়াওবোর গ্রেপ্তার সম্পর্কে তিনি একবার দায়সারা ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘লিউ খুব শিগগিরই মুক্তি পাবেন। ’ তাঁর মন্তব্য শুনে লোকজনের বোঝার ক্ষমতা ছিল না, আসলে তিনি কী বলছেন। তিনি লিউয়ের পক্ষে, নাকি বিপক্ষে বলছেন পরিষ্কার নয়। লিউয়ের মুক্তির দাবিতে লেখক ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সঙ্গে গণস্বাক্ষরে অংশ নিতে রাজি আছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় নিজের মতো চলতে পছন্দ করি। কেউ আমাকে জোর করে কিছু করতে বললে আমি করি না। ’ পরে যখন পরিষ্কার হয়ে যায়, তিনি স্বাক্ষর করবেন না, তখন সালমান রুশদি বলেন, ‘ইনি সোভিয়েত লেখক মিখাইল শোলোখভের সঙ্গে তুলনীয়। ইনি চীনের শাসকদের অথর্বকর্মী মাত্র। ’        

দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য