kalerkantho


কেউ না জানুক

ফারজানা মিতু

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কেউ না জানুক

অঙ্কন : মানব

হঠাৎ করেই রাত ১টায় ঘুম ভেঙে যায় তিথির। এভাবে সাধারণত ঘুম ভাঙে না কখনো।

তিথি খুবই ঘুমকাতুরে।   আজকে তাহলে কী হলো? ঘুম ভাঙার কারণেই হোক কিংবা একা থাকার কারণেই হোক একটা অস্বস্তিবোধ ওকে ঘিরে ধরে। বারান্দায় আলো জ্বলছে। নেটের পর্দা ভেদ করে সেই আলো তিথির ঘরেও ঢুকে পড়েছে। ভালোভাবে খেয়াল করতে গিয়ে মনে হলো বারান্দার দরজাটা খোলা। তিথির শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে ভয়ে। বারান্দার দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল এটা কী করে সম্ভব? যদিও তিথিরা থাকে দোতলায়, তার পরও এভাবে দরজা খোলা রাখা ঠিক হয়নি। তিথি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ধীর পায়ে এগিয়ে যায়। দরজাটা আস্তে করে খুলে একবার বারান্দায় তাকায়, তারপর আস্তে করে দরজাটা টানে, যাতে পাশের ঘরে শব্দ না হয়। একটু শব্দেই তিথির বাবার ঘুম ভেঙে যায়। তিথির বাবার শরীর ভালো না। দরজা লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই একটা হাত ওর মুখ চেপে ধরে। চোখ বিস্ফোরিত হয়ে যায় আতঙ্কে। সামনে এসে দাঁড়ায় একজন মানুষ। মুখ অর্ধেকটা ঢাকা। প্লিজ চিৎকার করবেন না। করলে আপনারই বিপদ হবে। তিথি কোনোভাবে মাথা নাড়ে। তারপর একটু সরে দাঁড়ায়। তিথি একটু জোরে শ্বাস নেয়, কে আপনি? কী চান?

বলছি, এত অস্থির হওয়ার কিছু নেই, আর ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। চেয়ারটায় বসুন। আপনার কোনো ক্ষতি হবে না, যদি আমাকে কোনো ঝামেলায় না ফেলেন।

তিথি বিছানার পাশে থাকা গ্লাস থেকে ঢকঢক করে পানি খেয়ে ফেলে। কোনোভাবে ধাতস্থ হতে পারছে না। কী কারণে যে আজকে ভুল করে বারান্দার দরজা খোলা রেখেছিল! দরজা খোলা বলেই লোকটা সহজে ঢুকতে পেরেছে। অবশ্য মানুষটিকে লোক বললে ভুল হবে, বয়স কত হবে, ২৭-২৮! 

তিথি এবার ভালো করে তাকায়, বারান্দা থেকে আসা আলোতে চেহারা বোঝা যাচ্ছে তবে শুধু চোখ আর কপাল। মুখের অর্ধেকটা এখনো ঢাকা। কী ভাবছেন? কী করে এলাম তাই তো? তিথি চমকে তাকায়, এটাই ভাবছিলাম। ভুলে দরজা খুলে রেখেছিলাম বলেই ঢুকতে পেরেছেন।

জি না, দরজা খুলে রাখেননি। মেয়েরা এমন ভুল কমই করে। ওরা নিজের ব্যাপারে যতটা সাবধানী, দরজা বন্ধের ব্যাপারে তার চেয়েও বেশি সাবধানী।

তিথি এবার হেসে ফেলে আর হেসে ফেলার পর কিছুটা সহজ বোধ করে। কে আপনি বলবেন?

আমি কে সেটা আপনার না জানলেও চলবে, শুধু আজকের রাতটা আমাকে আপনার রুমে থাকতে দিলেই হবে। খুব ভোরে চলে যাব। আপনি চাইলে ঘুমাতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই। আমি চেয়ারে বসে থাকব।

আপনি এত কিছু জানেন আর এটা জানেন না, মেয়েরা কোনো অপরিচিত মানুষের সামনে ঘুমায় না।

সায়ক মাথা নিচু করে হাসে। আচ্ছা, আমাকে কি এক গ্লাস পানি দেওয়া যায়?

নিয়ে আসছি বলে দাঁড়াতে যেতেই সায়ক সামনে এসে দাঁড়ায়। পানি আনতে গিয়ে চিৎকার করবেন না তো?

না, করব না। আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।

কেন করব বিশ্বাস?

আমি বলেছি তাই।  

সায়ক কয়েক সেকেন্ড কী যেন ভাবে তারপর মুখের কাপড় সরিয়ে ফেলে। তিথি অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে সায়কের দিকে। তিথি কখনো চোখের সামনে এত সুন্দর কাউকে দেখেনি। আশ্চর্য কোনো ছেলে কি এত সুন্দর হয়?

এখন কি মনে হচ্ছে আমি আপনাকে বিশ্বাস করছি? তিথি সায়কের কথায় সম্বিৎ ফিরে পায়। আমি পানি নিয়ে আসছি। আপনি পর্দার আড়ালে গিয়ে দাঁড়ান। তিথি বের হয়ে যাওয়ার পর সায়ক কিছুটা হলেও শঙ্কিত বোধ করে। মেয়েটি যদি এখন কাউকে ডেকে আনে তাহলে কিছুই করার থাকবে না। দেরি দেখে সায়ক অস্থির হয়ে পড়ে। কী ব্যাপার, এত সময় লাগে পানি আনতে? ঠিক ১০ মিনিট পর তিথি এসে ঢোকে রুমে। হাতে ভাতের প্লেট আর পানির বোতল। দেরি হয়ে গেল। মনে হয় রাতে কিছু খাননি! খেয়ে নিন। সায়ক প্লেট হাতে নিয়ে গোগ্রাসে খেতে থাকে। খাওয়া শেষ করে স্বস্তির ঢেঁকুর তোলে। চিৎকার করে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা করছে, কিন্তু পারছি না। কী করে বুঝলেন না খেয়ে আছি?

মেয়েদের কিছু জিনিস বলে দিতে হয় না, বুঝে যায়। এই যেমন আমার মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে আপনার ইচ্ছা হচ্ছে সিগারেটে একটা টান দেওয়া। ঠিক না?

সায়ক অবাক হয়ে তাকায়। সত্যি তাই, কিন্তু সম্ভব না।

সিগারেট নেই?

আছে কিন্তু আপনার ঘরে খেলে গন্ধ পাওয়া যাবে আর বারান্দায় গেলে কেউ দেখে ফেললে আপনার সমস্যা হবে। আমি আপনাকে আর কোনো ঝামেলায় ফেলতে চাই না।

তিথির ওই মুহূর্তে ইচ্ছা হয় সামনে থাকা মানুষটির সব ইচ্ছা পূরণ করে দেওয়ার। দাঁড়ান, আমি ব্যবস্থা করছি। তিথি বারান্দার আলো নিভিয়ে দেয়। যান, সিগারেট খেয়ে আসুন, তবে বসে খাবেন; তাহলে নিচের গার্ডরা দেখতে পাবে না। সায়ক বারান্দায় বসে সিগারেট ধরায়। দুই পা ফাঁক করে দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে। হঠাৎ তিথির দুই চোখ জ্বালা করে ওঠে। মনে মনে বলে, কী আশ্চর্য! খুব ইচ্ছা হয় পাশে গিয়ে বসতে, কিন্তু বসে না। সায়ক চোখ তুলে তাকায়, আপনার যদি কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে বসুন কিছুক্ষণ গল্প করি। তিথি কিছু না ভেবেই বসে পড়ে পাশে। আমরা মানুষরা বড় অদ্ভুত, তাই না? ঘণ্টাখানেক আগেও আমরা কেউ কাউকে চিনতাম না; কিন্তু এখন কত সহজে পাশাপাশি বসে আছি, তাই না? তিথি কিছু না বলে বাইরে তাকিয়ে থাকে। আমার মনে হয় আপনার নামটা জিজ্ঞেস করতে পারি। আমি সায়ক আর আপনি?

আমি তিথি। জানতে পারি, কেন এভাবে আমার বাসায় ঢুকে পড়েছেন? কী করেছেন আপনি?

সায়ক সিগারেটে শেষ টানটা দেয়। কালকে রাতে আমার এক বন্ধুকে সন্ত্রাসী সন্দেহে আটক করা হয়েছে। ওকে ধরার পর থেকে আমরা বাকিরা সবাই খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আজকে সকালে হঠাৎ আমার বাসায় দুজন পুলিশের লোক আসে আমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে। এটা শুনেই আমি দেয়াল টপকে পাশের বাড়ির ছাদে যাই আর তারপর সারা দিন বাড়ির বাইরে। ভয়ে বাসায় ফিরতে পারছি না।    

আপনি কি আসলেই আপনার বন্ধুর সঙ্গে জড়িত নন?

আমার কথা থাক, আপনার কথা কিছু শুনি।

আমার কথা কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। আসলে কী বলব সেটাও জানি না।

আপনি চাইলে যা ইচ্ছা বলতে পারেন। এত নির্ভরযোগ্য মানুষ আমি ছাড়া কাউকে পাবেন না তিথি। আপনার প্রথম ভালো লাগা, ভালোবাসা, স্বপ্ন, ইচ্ছা—সব।

তিথি বলতে শুরু করে, জানেন আমি যখন থেকে এই অনুভূতিগুলো বুঝতে শিখেছি তখন থেকে খুব যতনে একজন মানুষকে ভেতরে লালন করছি। আমি কল্পনায় সেই মানুষটির সঙ্গে কথা বলি, পাশে গিয়ে বসি আর যখন সেই মানুষটি আপনার মতো এভাবে পা ফাঁক করে বসে, তখন তার দুই পায়ের মধ্যে গিয়ে বসি। সিগারেট খেতে খেতে যে মাঝেমধ্যে আমার দিকে দুষ্টুমি করে ধোঁয়া ছাড়ে। সায়ক অবাক হয়ে তিথির কথা শুনে যায়। আসলে প্রত্যেকটি মানুষই ভেতরের জমানো কথা কারো না কারো কাছে বলতে চায়; কিন্তু বলতে গিয়ে সব সময় ভুল মানুষকে বেছে নেয়। আজই প্রথমই তিথি কাউকে নিজের একান্ত কিছু কথা বলছে।

জানেন, প্রতিদিনই ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনে হয়, এমন কেউ থাকত, যার সঙ্গে সারা দিনের সব কিছু শেয়ার করা যেত। অভিযোগ, অনুযোগ আর অভিমান করা যেত।

এমন কেউ জীবনে আসেনি? কল্পনা কখনো বাস্তবে এসে মেশার সুযোগ পাননি?

আপনার এমন কোনো কল্পনা নেই? তিথি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে সায়ককে।

থাকবে না কেন, আছে।

বলতে সমস্যা আছে? এত নির্ভরযোগ্য মানুষ আমি ছাড়া কাউকে পাবেন না। যে কথা সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে যাবে।

আমার কল্পনা না দেখা একজন মেয়েকে নিয়ে, সময়-অসময়ে যার হাত ধরে বসে থাকতে ইচ্ছা হবে। মনে হবে মেয়েটির নিঃশ্বাস মুখে মাখি। মেয়েটির কপালে থাকবে ছোট্ট টিপ। ইচ্ছা করে একটু বাঁকাভাবে টিপ পরবে, যাতে আমি ঠিক করে দিই। ইচ্ছা করে কানে দুল পরতে ভুলে যাবে, যাতে আমি রাগ করি। আমার রাগের সব কারণ জানার পরও আমাকে রাগানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকবে। কারণে-অকারণে আমার সঙ্গে ঝগড়া করবে, আমার কোনো দোষ নেই সেটা জানার পরও। সায়ক বলতে বলতে একটু আনমনা হয়ে যায়। খেয়াল করে না তিথি নামের মেয়েটার চোখে তখন জল জমছে। তিথি নিজেকে সামলে নেয়। কী আশ্চর্য, এই মানুষটির কল্পনার সঙ্গে ওর নিজের কল্পনাগুলো কিভাবে মিলে যাচ্ছে? এটাও কি সম্ভব?

আচ্ছা তিথি, আপনি কখনো কাউকে ভালোবেসেছেন?

না, সে সুযোগ হয়নি।

কী বলেন? আপনার মতো সুন্দরী কারো প্রেমে পড়েনি?

প্রেমে কি কেউ পড়ে? প্রেম হয়ে যায়। আমার যে কারো সঙ্গে প্রেম হয়ে যায়নি, কী করব?

আমারও হয়নি। হয়তো আপনার কথাই সত্যি। প্রেম হয়ে যায়। আমাদের দুজনেরই কল্পনাগুলো শুধু কল্পনায়ই রয়ে গেল, তাই না?

একজীবনে সবার কল্পনা কি বাস্তব হয়? হয় না। কিছু মানুষ শুধু কল্পনা করেই যায় আর একসময় গিয়ে দেখা যায় সব কল্পনা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।

হুম, ঠিক তাই।

কিছুক্ষণ কারো মুখে কোনো কথা থাকে না। দুজনই নিজের মনে নানা কিছু ভেবে যায়। কষ্টের কোনো পাখি ডানা ঝাপটায় দুজনার ভেতরে কোথাও। দুজনই সেই পাখির অস্তিত্ব টের পায় কিন্তু কিছু যেন করার থাকে না।

একটা কথা বলি? সায়ক প্রথম নীরবতা ভাঙে। আপনি যদি কখনো এমন কাউকে পেয়ে যান, যার সঙ্গে কল্পনা মিলে যায়, তখন কী করবেন? প্রেম হয়ে যাবে?

তখনো সেটা হবে না।

কারণটা জানতে পারি?

কারণ জানাটা কি খুব দরকার?

সায়ক আবারও চুপ হয়ে যায়।  

তিথি চোখ বন্ধ করে দুহাত মুঠি করে কপালে ঠেকায়। মনে মনে বলে, না সায়ক, আপনার জানার দরকার নেই। যে জানায় কষ্ট বাড়বে সে জানার কোনো প্রয়োজন নেই।  

আচ্ছা, কয়টা বাজে?

ঘড়ি দেখতে ইচ্ছা করছে না। থাক না কিছু সময় হিসাবের বাইরে। জীবনে কিছু সময় থাকে অনেক বেশি দামি। যতটা পারা যায় তাকে বেঁধে রাখতে হয়।

কী লাভ ধরে রেখে? যা যাওয়ার সেটা যাবেই।  

কেটে যায় সময়। অনেকক্ষণ কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না। রাস্তায় দু-একটা কুকুরের ডাক শোনা যায়। নীরবতা ভাঙে তিথি প্রথম। আপনার চলে যাওয়ার সময় হয়ে এলো। কী চিন্তা করলেন, বাসায় ফিরে যাবেন?

সায়ক ম্লান হাসে। হুম, বাসায় ফিরে যাব। আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম? আমার জন্য রাতে ঘুমাতে পারলেন না!

আর ঘুম! কয়েক দিন ধরে এমনিতেই ঘুম হচ্ছে না।

আপনার কি ঘুমের সমস্যা?

বিয়ের তারিখ ঠিক হলে কয়টা মেয়ে রাতে ঘুমাতে পারে বলুন? সায়কের দিকে না তাকিয়ে কথাগুলো বলে তিথি।

আপনার বিয়ে?

জি, আর চার দিন পর। তিথি চেপে রাখতে চাইলেও একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। তিথি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকার জন্য দেখতে পায় না, সায়কের চোখে এসে জমা হয়েছে একরাশ হাহাকার। সায়ক বলতে পারল না তিথিকে, সায়ক পুলিশের ভয়ে নয়, ইচ্ছা করেই এখানে এসেছিল। সায়ক দেশের বাইরে থেকে ফিরেছে দুই দিন আগেই। বাইরে চলে যাওয়ার আগে পাশের বাড়ির যে মেয়েকে বলতে পারেনি ভালোবাসার কথা, দেশে ফিরে এসে চেয়েছিল সেটা বলতে। অনেক ভেবেচিন্তে এই নাটকীয়তা করেছে শুধু তিথির সঙ্গে অন্য রকম কিছু সময় কাটাতে। আর যাওয়ার সময় বলে যেতে সেই কথাটি কিন্তু আজও বলা হলো না। বাইরে যাওয়ার আগে কত চিঠি যে পাঠিয়েছে তিথিকে কিন্তু কখনো সাহস হয়নি নিজের নাম বলতে। আজকে ভেবেছিল সব বলা হবে। সায়ক কিছু না বলে উঠে দাঁড়ায়।  

দাঁড়ালেন যে? এখনো তো ভোর হয়নি!

না, যাই। যেতে যেহেতু হবে, দেরি করে লাভ কী?

সেটাও ঠিক।

তিথি, আমি আসি। অনেক ভালো থাকবেন। আপনার কল্পনার সবটুকু না হোক, একটু রং যেন আপনার জীবনে লাগে। আসি। চোখের নিমিষে সায়ক বারান্দার রেলিং বেয়ে দেয়ালে পা ফেলে, আরেকবার তাকায় তিথির দিকে তারপর নিচে লাফ দিয়ে নামে। আর ফিরে তাকায় না, আবছা অন্ধকারে হারিয়ে যায় সায়কের দেহ। সায়ক, আমি জানি তুমি আমার কাছে কী জানতে চেয়েছিলে কিন্তু আমি সেটা তোমাকে কখনোই জানাব না। আমার কল্পনার সঙ্গে শুধু একজন মানুষই মেলে। যার অগণিত চিঠি আমার কাছে জমা আছে। আমার ভেতরে কল্পনার আবীর ছড়িয়েছে সেই মানুষটা। যাকে ছাড়া আমার কল্পনা কখনো পূর্ণতা পাবে না। আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছি, আমার চার দিন পরে বিয়ে না। আমি চেয়েছি তুমি যাতে আমার থেকে মন ফিরিয়ে নিতে পারো। আমি শুধু অপেক্ষায় আছি সেই মানুষটির। অপেক্ষা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।

ভোর হয়ে আসছে। দু-একটা পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। তিথি আকাশের দিকে তাকায়। আবারও প্রতীক্ষার একটি দিন শুরু হলো। তিথি জোরে শ্বাস ছাড়ে, ভোরের বাতাসে তা ছড়িয়ে যায়।


মন্তব্য