kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

নিন্দার দলিলে বাক্স ভরেছেন য়োসা.

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




নিন্দার দলিলে বাক্স ভরেছেন য়োসা.

২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান পেরুর কথাসাহিত্যিক মারিও বার্গাস য়োসা।   একসময় তাঁর বিশেষ প্রিয় লেখকদের বেশির ভাগই ছিলেন উনিশ শতকের। পরে বিশ শতকের প্রথম দিকের এবং তাঁর নিজের প্রজন্মের লেখকদের লেখাও তাঁর পছন্দের তালিকায় চলে আসে। বিশ শতকের সাহিত্যিকদের মধ্যে তাঁর বিশেষ পছন্দের হলেন উইলিয়াম ফকনার, বোর্হেস, নেরুদা, মার্কেস প্রমুখ। য়োসার পাঠকসত্তা পরিপক্বতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফকনারকে আরো বেশি ভালো লেগেছে। তাঁর সময়ের আর সব মার্কিন লেখকের লেখা য়োসার বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছুটা আবেদন হারালেও ফকনারের আবেদন যেন বেড়েছে। বোর্হেসকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন বেশ কয়েকবার।   ব্যক্তি মার্কেসকে নানা কারণে অপছন্দ করলেও লেখক মার্কেস তাঁর অতি পছন্দের একজন। আর নেরুদা সব দিক থেকে য়োসার কাছে শতভাগ প্রিয় ব্যক্তিত্ব—কবি হিসেবে, ব্যক্তি হিসেবেও। নেরুদার একটা বিশেষ ভবিষ্যদ্বাণী আজীবন মনে রেখেছেন তিনি। একবার য়োসার সুযোগ হয়েছিল লন্ডনে নেরুদার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার।

সেবার নেরুদার ইচ্ছা হলো, তিনি টেমস নদীতে নৌকায় জন্মদিন পালন করবেন। সৌভাগ্যের কথা হলো, নেরুদার এক ইংরেজ কবি বন্ধু তখন টেমস নদীতে নৌকায় বাস করতেন। তাঁর সহযোগিতায় নেরুদার জন্মদিন পালনের আয়োজন করা হয় নৌকায়ই। খাওয়াদাওয়ার অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে বিশেষ ছিল মদ্যপান। ব্যতিক্রমহীনভাবে উপস্থিত সবাই বেতাল অবস্থায় চলে যান। ওই অবস্থায়ই য়োসার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটা কথা বললেন নেরুদা। নেরুদা বলেছিলেন, য়োসা বিখ্যাত লেখক হবেন। কিন্তু তখন য়োসার হাতে ছিল তাঁকে নিয়ে লেখা একজন সমালোচকের বিরূপ মন্তব্যে ভরা একটা প্রবন্ধ। তিনি কিছুটা হতাশার সঙ্গেই নেরুদাকে দেখালেন সেটা। নেরুদা উত্তরে বললেন, ‘আপনি যত বিখ্যাত হবেন, তত বেশি সমালোচনার শিকার হবেন। একটা প্রশংসার কথা শুনলে দুটি কিংবা তিনটি নিন্দার কথা শুনতেই হবে। ’ নিজেও কতবার অপমান আর নিন্দার শিকার হয়েছেন তা-ও জানালেন। বিখ্যাত হলে এগুলোর মুখোমুখি হতেই হবে। পরে নেরুদার কথামতোই নিন্দা হজম করার মানসিকতা তৈরি করেন য়োসা।

 দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য