kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

গাছের সঙ্গে কথা বলতেন হার্তা মুলার

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গাছের সঙ্গে কথা বলতেন হার্তা মুলার

২০০৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া জার্মান কথাসাহিত্যিক, কবি ও প্রাবন্ধিক হার্তা মুলার। প্রধানত হিংস্রতা, নিষ্ঠুরতা, ভীতিসহ কিছু নেতিবাচক জিনিসের প্রভাবের কথা বলা হয়েছে তাঁর লেখনীতে; বিশেষ করে চসেস্কুর শাসনামলের দমন-পীড়নের চিত্র তাঁর লেখায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর দাদার আমলের অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের পরিবারের বিপর্যয়ের কথাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাদার কৃষিকাজ ও ব্যবসা ছিল। কমিউনিস্ট শাসনের শুরুতেই তাঁরা নিজেদের সম্পত্তি হারান এবং জবরদস্তিমূলক শ্রম দিতে বাধ্য হন। বিভিন্ন পর্যায়ে নানা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে বিচিত্র অভ্যাসও গড়ে ওঠে তাঁর। যেমন একা একা থাকলে মাঝেমধ্যে গান গাওয়ার অভ্যাস ছিল তাঁর। গাছপালার সঙ্গেও কথা বলতেন প্রায়ই। ছোটবেলায় তাঁর বিশ্বাস ছিল, তিনি সব কিছুর সঙ্গেই কথা বলতে পারেন। কৃষক পরিবারের মানুষ হওয়ার কারণে গরু চরানোর অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর। নিজের সঙ্গে কথা বলা, গাছপালার সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস থাকলেও সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস তাঁর ছিল না।

ছোটবেলায় সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কথা বলার বিষয়টা তাঁর কাছে ভয়ের মনে হতো।   তাহলে নিজেকে ঠিক রাখাটাই দরকার। গরু চরানোর সময় বিশেষ নজর রাখতে হতো গরু ফসলের মাঠের ভেতর ঢুকে পড়ে কি না। কারণ ফসলের মাঠের মালিক হলো রাষ্ট্র। ফসলের মাঠে ঢুকে পড়লেই জরিমানা দিতে হবে তাঁর মা-বাবাকে। তখন থেকেই তিনি গরুসহ আরো সব প্রাণীর আরো কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কথা বলার চেষ্টা করেন। গাছপালার সঙ্গে কথা বলাও এভাবেই শুরু হয়েছিল। কোন গাছের কী স্বাদ তা-ও তিনি পরখ করে দেখতেন। এমনকি গাছপালার নতুন নতুন নামও দিতেন তিনি। তিনি মনে করতেন, গাছেরও চোখ আছে। তারা মানুষের মতোই দেখতে পায়। তাঁর বিশ্বাস ছিল, রাতে গাছেরা চলাফেরা করে। তাঁর বাড়ির হলুদ ফুলঅলা গাছটি গ্রামের আরেকটি হলুদ ফুলঅলা গাছের সঙ্গে দেখা করতে যায় রাতে। এমন সব বিচিত্র বিশ্বাস আর অভ্যাসে অভ্যস্ত হন হার্তা মুলার।

 দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য