kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনার উপন্যাস

রাজ্জাক বকুল

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব

ঘটনার উপন্যাস

নীল বোতাম : এমরান কবির প্রকাশক : বেহুলাবাংলা প্রচ্ছদ : মানব মূল্য : ১৬৫ টাকা

ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাসের দুটি ধারা থাকে। এক. সময়টা ঐতিহাসিক, চরিত্রগুলো কাল্পনিক। দুই. সময় ও চরিত্র দুটিই বাস্তব। এমরান কবির দ্বিতীয় ধারাটি বেছে নিয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে দ্বিতীয় ধারাটি নিয়ে কাজ করা বেশ কষ্টসাধ্য। কারণ তাঁকে একই সঙ্গে সময়, চরিত্র, ঘটনা ও ঘটনার পরম্পরার সমন্বয় সাধন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি যেহেতু সাহিত্যকর্মটি উপন্যাসনামীয় পদবাচ্যের দাবিদার, সেখানে উপন্যাসের দায়ও মেটাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে এই দুইয়ের সমন্বয় একটু কষ্টসাধ্য বৈকি। সেটি করেছেন এমরান কবির নীল বোতাম উপন্যাসে।

পটভূমি হিসেবে লেখক বেছে নিয়েছেন তাঁর নিজ জেলা বগুড়া শহরকে। পঁচিশে মার্চের পূর্বাপর ঘটনা থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের কমান্ড কাউন্সিল গঠন, পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে করা হয়েছিল।

ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের নেতৃত্বে সারা দেশের পতন হলেও বগুড়া মুক্ত ছিল মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু বগুড়া মুক্ত হলো কিভাবে? সেই পরিকল্পনা যখন শুরু হয় তখনই উপন্যাসের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শুরু হয়। শুরু হয় কৌতূহল।

কলকাতা থেকে ফিরে পীরবাবার ছদ্মবেশে ভাষা আন্দোলনের নায়ক গাজীউল হক ঢুকে পড়েন বগুড়া শহরে। তাঁরা হাঁটতে থাকেন বগুড়া শহরে। হাঁটছেন গাজীউল হক। তাঁদের পেছনে পেছনে একটি অজ্ঞাত কুকুর। একাত্তরের আগস্টে তাদের ভেতরে রচিত হয়ে গেছে কোনো না কোনো সম্পর্ক। পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে বগুড়া শহর। মাঝেমধ্যে ভেসে আসছে গুলির শব্দ। বাতাসে লাশের গন্ধ। এ রকম এক পরিস্থিতিতে কী সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে এই তিন ধরনের প্রাণীর ভেতরে! এমরান কবির নীল বোতাম উপন্যাসে সেই সম্পর্কের সন্ধান করেছেন।


মন্তব্য