kalerkantho


অন্তর্গত বেদনার সন্ধান

হামীম কামরুল হক

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অন্তর্গত বেদনার সন্ধান

রূপচানের আশ্চর্য কান্না : মাসউদ আহমাদ ফেব্রুয়ারি : ২০১৭, প্রকাশক : সময় প্রকাশন, ঢাকা প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : ধ্রুব এষ, ৯৫ পৃষ্ঠা, ১৫০ টাকা

আয়নার সামনে দাঁড়ালে শুধু বাইরের রূপটা দেখা যায়, কিন্তু ভেতরের রূপটা কি আয়নায় দেখা যায়? এ জন্য চাই সাহিত্য। মানুষের মনের কথা জানা ও পড়ার জন্য সাহিত্যে উপন্যাসের ভূমিকা সবাই জানেন।

ফলে কোনো ঔপন্যাসিকের প্রধান পরিচয় বা সিদ্ধি অর্জন হয় ভেতরের রূপটা ধরার মাধ্যমে এবং অন্যদের সেটা দেখানোর মাধ্যমে। মাসউদ আহমাদ তাঁর ‘রূপচানের আশ্চর্য কান্না’ উপন্যাসে সেটি করতে চেয়েছেন।

মাসউদ আহমাদ তরুণ লেখক। তিনি তাঁর আগের উপন্যাস ‘নিজের সঙ্গে একা’য় বেছে নিয়েছিলেন বৃদ্ধাশ্রমের মতো বিষয়। সেটি ছিল ব্যক্তির কাহিনি যত না, তার চেয়ে একটি সমষ্টির কাহিনি। ‘রূপচানের আশ্চর্য কান্না’য় তিনি সেই প্রক্রিয়াটিই একটু ভিন্নভাবে বজায় রাখলেন। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রূপচান মণ্ডল বা রূপুর অন্তর্গত বেদনা তাঁর নিজের সামর্থ্য নিয়ে তৈরি হওয়া বেদনা। সেটি শুধু কাজের সামর্থ্য নয়, যৌনসক্ষমতা নিয়ে দ্বিধায় তৈরি। সে একজন খেটে খাওয়া মানুষ।

প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পরে সে যখন দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে, সেই স্ত্রীর নিত্য গঞ্জনায় ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম হতে থাকে সে। গুটিয়ে যেতে থাকে তার অস্তিত্ব। মোদ্দাকথা তার বেঁচে থাকার ইচ্ছা। সে জন্য এই স্ত্রী পরিত্যাগ করবে কি না—তা নিয়ে বিচার বসে। কিন্তু সেখানে সিদ্ধান্ত হয় আপসের।

মাসউদ রাজশাহীর পুঠিয়া অঞ্চলকে বেছে নিয়েছেন উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে। সেখানকার মাঠ-ঘাট, ডোবা-পুকুরগুলোর বর্ণনা জীবন্ত করেছেন সাধ্যমতো। তেলির পুকুরের যে বর্ণনা, সেই বিশাল পুকুরকে ঘিরে লোকজনের স্নান এবং সেই সময়ে নানা আলাপ-আড্ডা থেকে সেখানের সমাজ ও মানুষের কথা, সমকালীন জীবন ও জীবনের জটের কথাও আমরা দেখতে পাই। কুসুম যে রূপুকে ছেড়ে যেতে চাইছে সেটাও এখানের আলাপে উঠে আসে। ‘রূপচানের আশ্চর্য কান্না’ পাঠকের বিপুল সমাদর পাক—সেই প্রত্যাশা রইল।


মন্তব্য