kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

ফরাসি ভাষা ভুলে গিয়েছিলেন ক্লেজিও

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফরাসি ভাষা ভুলে গিয়েছিলেন ক্লেজিও

১৯৫০ সালের শেষের দিকে ক্লেজিও ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি পড়েন। পড়াশোনা শেষে বাথের একটা স্কুলে শিক্ষকের কাজ শুরু করেন।

তখন তিনি ইংরেজিতে রহস্য গল্প লেখা শুরু করেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রকাশকরা তাঁর লেখা রহস্য গল্পগুলো ফিরিয়ে দেন। তখনই তিনি ফরাসি ভাষায় লেখার সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের দেশে ফিরে গিয়ে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যেতে থাকেন। নিয়মিত কোনো জায়গা না পেলেও তাঁর লেখা চলতেই থাকে।   আর সে সময়টা ছিল বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে আলজেরিয়ায় যাওয়ার কথা।

ক্লেজিওর জন্ম ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে। পিতামহ ছিলেন মরিশাস থেকে আসা। তাঁর বাবা চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন নাইজেরিয়ায়।

নাইজেরীয়, থাই, মেক্সিকান—সব পরিচয়ই তাঁর ভেতর সুস্পষ্ট হয়ে আছে বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর চিন্তার অনেকখানি জুড়ে আছে মরক্কোও। স্ত্রীর কাছ থেকে শুনে এবং বাবার সঙ্গে মরক্কোয় অবস্থানের নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ‘ডেজার্ট’ এবং ‘দ্য হোয়াইট শেইখ’। বাবা নাইজেরিয়ার ওনিটশায় কাজ করার সময় বালক ক্লেজিও সেখানকার অবাধ স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ওই সময়ের জীবনকে স্বর্গ বলে বর্ণনা করেছেন। যদিও বাবা তাঁর বখে যাওয়া ছেলেদের ঠিকমতো মানুষ করার জন্য শাসনে রাখার চেষ্টা করতেন, তবু ক্লেজিও এবং তাঁর ভাই নাইজার নদীর ওনিটশা বন্দরের ইবো বাসিন্দাদের সঙ্গে দেদার আনন্দ-ফূর্তিতে সময় কাটিয়েছেন। ইবো ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে  মিশে ইবো ভাষায় কথা বলা শিখেছেন। আর স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে বলতে তাঁরা নাকি ফরাসি ভাষাই অনেকটা ভুলে গিয়েছিলেন।   মা-বাবার ঐতিহ্য ফরাসি সমাজের মধ্যে স্থাপিত হয়েছিল শুধু। এ জন্যই ফরাসি সংস্কৃতিতে বড় হলেও নিজেকে সে সংস্কৃতির অংশ মনে হয়নি।    

ছোটবেলায় মুক্ত স্বাধীন ঘোরাঘুরিতে বাধা দানের কারণে বাবাকে ভয় করতেন ক্লেজিও। কিন্তু বড় হতে হতে বুঝতে পেরেছেন, বাবা উপনিবেশ স্থাপনের বিপক্ষে ছিলেন। ক্লেজিও তাঁর নোবেল পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন অন্যান্য ভাষার লেখককে। তিনি মনে করেন, সব ভাষার সমান সরব কণ্ঠ নেই।  

দুলাল আল মনসুর    


মন্তব্য