kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

ডোরিস লেসিংয়ের পালানোর জগৎ

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ডোরিস লেসিংয়ের পালানোর জগৎ

২০০৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি ও জীবনীকার ডোরিস লেসিং। তাঁর জন্ম ১৯১৯ সালে পারস্যে, বর্তমানের ইরানে।

কৃষিকাজে উন্নতি লাভের আশায় তাঁর বাবা পরিবারপরিজন নিয়ে ১৯২৫ সালে চলে যান দক্ষিণ রোডেশিয়া বা বর্তমানের জিম্বাবুয়ে। রোডেশিয়া তখন ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। তবে ভিন মহাদেশের জীবনকে তাঁর মা আপন করতে পারেননি। তিনি চেষ্টা করতেন নিজের সন্তানদের আলাদা করে মানুষ করতে। লেসিং ও তাঁর ভাই হ্যারির কাছে বাড়ির ভেতরের জীবন ছিল অতিশয় অসহনীয়। ছোটবেলায় অসহনীয় আরেক বিষয় ছিল তাঁর বাবার মুখে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বর্ণনা শোনা। বাইরের জীবনেই তাঁরা মুক্তির স্বাদ খুঁজতে চেষ্টা করতেন। মেয়েকে একদম নিজের মনের মতো করে গড়ে তোলার জন্য তাঁর মা বাড়িতে কিছু আইন-কানুন চালু করেন। সেগুলো মেনে চলা লেসিংয়ের জন্য অবশ্যই কষ্টকর ছিল।   মেয়েকে শিক্ষাদীক্ষায় আরো চমতকার করে তোলার জন্য মা লেসিংকে পাঠিয়েছিলেন কনভেন্ট স্কুলে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সেই স্কুল থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। সেটাই ছিল তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি। মায়ের শাসন থেকে পালানোর জন্য তিনি ১৫ বছর বয়সে নার্সের চাকরি নিয়েছিলেন। ছোটবেলায় অবশ্য এ সত্য তিনি বুঝতে পারেননি। কারণ তখন তিনি জানতেন না, তিনি লেখক হবেন। তখন তাঁর লক্ষ্য একটাই ছিল—অতি নিয়মের শাসন থেকে পালানো। লন্ডন থেকে তাঁর পরিবারের নামে বই আসত। সেসব বইয়ের ভেতর তিনি নিজের কল্পনা মেলে দিয়ে চলে যেতেন নিভৃতে। মায়ের শাসনের মধ্যে তাঁর ভালো লাগার বিষয়ও ছিল। যেমন শুয়ে শুয়ে মায়ের কাছে গল্প শুনতেন তাঁরা ভাই-বোন। তখন থেকেই কল্পনা করতে শেখেন। কল্পনায় গল্প তৈরি করতেন আর মুখে বলতেন। লেসিং বিশ্বাস করতেন, অন্যদের চেয়ে তিনি বেশি ভাগ্যবান। কারণ তিনি লেখক হতে পেরেছেন। নিজের মতো করে অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে নিমগ্ন থাকার সুযোগ আছে লেখালেখির ভেতর। সে জগতে যে কেউ হুটহাট করে ঢুকে পড়ে বিরক্তি ঘটাতে পারে না। ছোটবেলা থেকেই তো স্বাধীনতার কাঙাল ছিলেন তিনি।

 

দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য