kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

ওরহান পামুকের মানসিক শক্তি

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ওরহান পামুকের মানসিক শক্তি

২০০৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তুরস্কের কথাসাহিত্যিক ওরহান পামুক।   ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন চিত্রকর হবেন।

তবে পরিবারের লোকজন তাঁর এ স্বপ্নকে মূল্যবান মনে করেননি। তাঁদের মতে, চিত্রকর হওয়া মানে বাস্তবতার বাইরের জগতে পা রাখা। তবে ইস্তাম্বুলের টেকনিক্যাল কলেজে স্থাপত্যবিদ্যা পড়াশোনার বছর তিনেক বাদে ২২ বছর বয়সে তিনি জীবনযাপনের ধরন বদলে ফেলেন। প্রায় আট বছর নিজের রুমের বাইরে পা রাখেননি। দিন-রাত ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতেন।   আসলে ওই সময়টায় পামুক নিজের লেখালেখি করেছেন এবং পাশ্চাত্যের লেখকদের লেখা পড়েছেন। পামুক লেখালেখির বেশির ভাগ সম্পন্ন করেছেন তাঁর ইস্তাম্বুলের অ্যাপার্টমেন্টে।   তার দুই পাশে একদিকে তুরস্কের ইউরোপীয় অংশ, আরেক দিকে এশীয় অংশ। ভৌগোলিক ও প্রতীকী অর্থে দুই মহাদেশের মিলনস্থল। পামুকের মানসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পরিবেশ। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে লোকে যা-ই বলুক, তিনি মূলত সাহিত্যের মানুষ।   ১৯৮২ সালের পামুক বিয়ে করেন ইতিহাসবিদ আইলিন তুরেগুনকে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্রী ছিলেন। সে সময় পামুক একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি গবেষণাকর্ম এবং উপন্যাস ‘দ্য ব্ল্যাক বুক’ লেখার কাজেও ব্যস্ত ছিলেন। এরপর তিনি ফিরে আসেন ইস্তাম্বুলে। ২০০১ সালে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ২০০৬ সালে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান এবং কলাম্বিয়া, বার্ড কলেজসহ আরো কয়েক জায়গায় শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট হন। পামুক নিজেই স্বীকার করেন বুকারজয়ী লেখক কিরণ দেশাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা। অন্যদিকে ২০১১ সালে তুর্কি-আমেরিকান চিত্রকর ক্যারোলিন ফিসেকি বলেন, তাঁর সঙ্গে ওরহান পামুকের প্রায় আড়াই বছরের সম্পর্ক রয়েছে। অবশ্য ফিসেকির দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেন পামুক। ২০০৫ সালে আর্মেনীয় গণহত্যা ও কুর্দি গণহত্যা সম্পর্কে মন্তব্য করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার রায়ে তাঁকে ছয় হাজার লিরা জরিমানা করা হয়। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি মানসিকভাবে অটল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। শান্ত থেকেছেন।

দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য