kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত অভ্যাস

কামিলো হোসে সেলার অনন্য রুচি-পছন্দ

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কামিলো হোসে সেলার অনন্য রুচি-পছন্দ

স্পেনের কথাসাহিত্যিক কামিলো হোসে সেলার  মতে, লেখকদেরও শত্রু থাকার দরকার আছে। শত্রুর তাড়া খেয়ে বাধ্য না হলে এমনিতে কেউ মই বেয়ে ওপরের দিকে উঠবে না।

তাঁর মতে, লেখকদের শত্রু থাকতেই হবে কিংবা শত্রু পুষতে হবে। না হলে এত বড় উপকার কে করবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর লেখকজীবনে শত্রুরা তাঁর উপকার করেছে।

লেখালেখি সম্পর্কে তাঁর আরেকটি বিশেষ দিক হলো, লেখার জন্য তিনি অনেক সময় ব্যয় করতে পারতেন। কোনো কোনো দিন সাত, আট কিংবা ৯ ঘণ্টা, কোনো দিন তার চেয়েও বেশি। ১৯৮৯ সালে তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, লেখার জন্য আগের চেয়ে কম সময় পান কি না। উত্তরে বলেছিলেন, তাঁর হাতে যথেষ্ট সময় ছিল ও আছে।

লেখার বিষয় ও অনুপ্রেরণা স্বর্গীয় দানের মতো মাথার ওপর নেমে আসে বলে যাঁরা বিশ্বাস করেন, হোসে সেলা তাঁদের বিরুদ্ধে। একগাদা সাদা কাগজ সামনে নিয়ে প্রতিদিন লিখতে বসতেন। স্বীকার করেছেন, লেখার সেই কাজটি সত্যিই কঠিন। কখনো কখনো লেখা না এলে চুপ করে বসে থেকেছেন; পায়চারী করেছেন ঘরের মধ্যে। একসময় পায়চারী করতে করতেই লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েও গেছেন। তিনি মনে করতেন, লেখার জন্য নিজেকে নিয়মানুবর্তিতার কাছে নিবেদন করতে হয়। অনেকেই তাঁকে বলতেন, লেখকদের ভাগ্য ভালো, তাঁদের কোনো বস নেই। তাঁর মতে, তাঁর অসংখ্য বস আছেন—তাঁরা হলেন তাঁর পাঠক।

 

কামিলো হোসে সেলার উল্লেখ করার মতো সবচেয়ে বড় অভ্যাস ছিল তাঁর লেখার অভ্যাস। সারা জীবন তিনি হাতে লিখেছেন। বাড়িতে তাঁর নিজের কম্পিউটার ছিল না। অবশ্য ইচ্ছা করলে যখন-তখনই কম্পিউটার কিনে নিতে পারতেন। তাঁর স্ত্রীর ছিল। তাঁর স্ত্রী কম্পিউটারে কাজ করতেন। যেকোনো যন্ত্রের প্রতি তাঁর দূরত্ববোধ ছিল প্রবল। কম্পিউটার কিংবা গাড়ি—কোনোটাই তিনি নিজে ব্যবহার করেননি। তাঁর মনে হতো, এসব যন্ত্র তাঁর হাতের ছোঁয়ায় বিগড়ে গিয়ে বিদ্রোহ করে উঠতে পারে। ফাউনটেন কলম, বলপয়েন্ট কলম, পেনসিল, এমনকি মার্কার দিয়ে লিখতেও তাঁর আপত্তি ছিল না।  

লেখকের নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও ছিল তাঁর নিজস্ব ও উঁচু ধারণা। তিনি মনে করতেন, লেখক যেন কোনো দিক থেকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন।

দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য