kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বই আলোচনা

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বই আলোচনা

সজল তোমার ঠিকানা প্রসঙ্গে

 

আলীম আল রাজী

মমতাজউদ্দীন আহমদ রচিত সজল তোমার ঠিকানা। ব্যতিক্রমধর্মী এই উপন্যাস সম্পূর্ণরূপে কিশোর ও যুবসমাজের পাঠ-উপযোগী ও বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মিত।

মুখবন্ধে রচয়িতা নিজেই উল্লেখ করেছেন, ‘এ উপন্যাসের কাহিনী মনগড়া; কিন্তু এ কাহিনীর মালমসলা সব অবিচল সত্য। সত্য ছাড়া আর কিছু না। ’ উপন্যাসের শুরুতে সজল চরিত্রটিকে দেখা যায় একা।  

বাংলা সাহিত্যে মমতাজউদ্দীন আহমদ একটি সুপরিচিত নাম। নাট্যকার হিসেবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। উপন্যাসের কাহিনী গঠনের প্রতি পরতে পরতে তিনি বজায় রেখেছেন তাঁর স্বভাবসুলভ গল্প বলার গতি ও বাঙ্ময় প্রকৃতি।

এই উপন্যাসে সজল চরিত্রের ব্যক্তিগত জীবন, নৈতিকতা, আদর্শ ও দায়িত্ববোধের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। সংসারের ভরণপোষণের দায়ভার নিয়ে সজলের মা সখিনার মধ্যকার অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপড়েন বিধৃত হয়েছে। বদরবাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা বিভিন্ন অপকর্মের কারণে সৃষ্ট অমানুষিক বেদনা, ক্লিষ্টভরা দুঃসহ যন্ত্রণাময় জীবনের প্রতিচ্ছবি চিত্রিত হয়েছে, সেই সঙ্গে সজলের কিশোর মনে উঁকি দেওয়া হাজারো প্রশ্নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শ প্রকাশ পেয়েছে।

রচয়িতা তাঁর বর্ণনার মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিত্রগুলো। এর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭১ সালের তৎকালীন সমাজ ও বাস্তবতার চিত্র, গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলের শিক্ষিত শ্রেণির মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের চিত্র। বঙ্গবন্ধু হত্যা, তত্পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সামরিক জান্তাদের ক্ষমতার পালাবদলের সহজ উপস্থাপনা এবং সর্বোপরি বর্তমান সময়ের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একটা কিশোর মনে উদ্ভূত হয়েছে নানা প্রশ্নের অবতারণা।

সজল তোমার ঠিকানা শীর্ষক উপন্যাসটিকে কিশোর উপযোগী একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ বলা যেতে পারে। কিশোররা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রকৃত সত্য জানতে পারবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করবে বলে বিশ্বাস করি।

 

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার হাতছানি

শাহিন আহমেদ

ভ্রমণ অনেকে করেন। কিন্তু কয়জন ইবনে বতুতা ও হিউয়েন সাংয়ের মতো তা লিখে রাখতে পারেন? সৈয়দ মজতুবা আলীর মতো রসালো বৃত্তান্ত বানাতে পারেন কয়জন? এ নিয়ে হয়তো অনেক হা-হুতাশ করা যাবে। আবার আশার কথাও বলা যাবে। আবদুল লতিফ জনির ইরাক ভ্রমণবিষয়ক ‘দজলা ফোরাতের দেশে’ বইটি এমন আশার কথাই বলে।

ইরাকের প্রাচীন নাম মেসোপটেমিয়া। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলোর একটি। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে মসুল, কিরকুক ও সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ছিল এই রাজ্য। আধুনিক জীবনযাপনের অনেক অনুষঙ্গ এই সভ্যতার দান।

ফোরাত নদী ইসলাম ধর্মের ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। বিশেষ করে কারবালা প্রান্তরের রক্তাক্ত যুদ্ধ এই নদীকে দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে। দজলা নদীও ইরাকের বুক চিরে বহমান। এ দেশের প্রাচীন স্থাপনা ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান পৃথিবীর আদি সপ্তাশ্চর্যের একটি।

বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের আমলে ইরাক ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে এ বই। লেখক যা দেখেছেন, সহজ-সরল ভাষায় তার বর্ণনা দিয়েছেন। সঙ্গে উল্লেখ করেছেন প্রাসঙ্গিক ইতিহাস। ফলে বইটিতে নিছক ভ্রমণ বর্ণনা থাকেনি। হয়ে উঠেছে প্রামাণ্য দলিল। পাঠক যেমন এর বর্তমান জানতে পারবে, তেমনি জানতে পারবে অতীতও।

লেখক বইয়ের শুরুতে লিখেছেন, ‘জীবনের শুরু থেকেই বিশাল এই পৃথিবীকে জানার কৌতূহল হৃদয়ে লালন করেছি। শতসহস্র বছরে গড়ে ওঠা মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ, ঐতিহ্য, প্রাচীনতা অনুধাবনের তীব্র ইচ্ছা আমাকে প্রতিনিয়ত অনুসন্ধিত্সু করেছে। ...ভেবেছি, কিভাবে নিজের দুই চোখ ভরে দেখে কালের অতলে তলিয়ে যাওয়া, সেসব সোনালি অতীতের সংস্পর্শ পাওয়া যায়। কিভাবে ইতিহাসের মহাসমুদ্রের তীরে বসে ঘটনা-দুর্ঘটনা আর কালের সাক্ষী প্রাচীন প্রাসাদ, দুর্গ, নগর, বন্দর এবং জাতি, ধর্ম, ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি প্রভৃতির আদিঅন্ত ঘটনার অন্তর্নিহিত উপাখ্যান জানা যায়—এমন চিন্তা বারবার আমার মনোজগেক আলোড়িত করেছে। ’

লেখকের সফরকালীন তোলা ছবিও বইটিতে স্থান পেয়েছে। সব মিলিয়ে বইটি পাঠকের আগ্রহ মেটাতে সক্ষম।

 


মন্তব্য