kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত অভ্যাস

নাগিব মাহফুজের ব্যক্তিগত পছন্দ

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নাগিব মাহফুজের ব্যক্তিগত পছন্দ

মিসরের নোবেলজয়ী কথাসাহিত্যিক নাগিব মাহফুজ ছিলেন সাহসী লেখক। লেখকের সামাজিক মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি কখনো সরে আসেননি।

মাঝেমধ্যে বিতর্কের মধ্যেও পড়েছেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদত ইসরায়েলের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি সম্পাদন করার সময় তিনি সাদতকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ফলে আরব অঞ্চলের অনেক দেশেই তাঁর বই নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৮ সালে তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল। মিসরের আরো অনেক বুদ্ধিজীবী ও লেখকের মতো নাগিব মাহফুজও মৌলবাদীদের হত্যা মিশনের তালিকায় ছিলেন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনি সালমান রুশদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার পর মাহফুজ রুশদীর পক্ষে কথা বলেন এবং খোমেনির বিরুদ্ধে নিন্দা জানান।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর জীবনের একটা দীর্ঘ সময় নাগিব মাহফুজ মনে করতেন, বিয়েশাদী করে সংসারী হলে তাঁর লেখালেখির সামনে নানা রকম বাধা আসবে। তেতাল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি এ রকম ধারণাই সমর্থন করতেন মনে-প্রাণে। তবে ১৯৫৪ সালে তিনি বিয়ে করেন। দুজন কন্যা সন্তানের বাবা হন মাহফুজ। ব্যক্তিগত জীবনে বেশি মানুষের সঙ্গে মেলামেশা মোটেই পছন্দ করতেন না তিনি। বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে চাইতেন না। তাঁর ধারণা ছিল, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এসব বিষয় শেষে সংবাদপত্র আর রেডিও অনুষ্ঠানের চটুল রসিকতার খোরাক হয়ে যেতে পারে। কোনো বন্ধুর বাড়িতে ডিনারেও যেতে চাইতেন না। তাঁদের সঙ্গে মেলামেশার একমাত্র ব্যবস্থা ছিল ক্যাসিনো কাসর আল নীলে, আর  মাঝেমধ্যে কোনো কফি হাউসে। এই অল্প সময়ের মেলামেশায় তিনি উঠতি লেখকদের কথা শুনতেন এবং তাঁদের প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

নাগিব মাহফুজ ছিলেন সরকারি চাকুরে। দিনে অফিস করতেন, রাতে লিখতেন। বিয়ে দেরিতে করার কারণ এটাও : তাঁর সময় কম। কারণ আরো ছিল : লেখা থেকে উপার্জনের চেয়ে বরং লেখার পেছনে খরচও করতেন প্রথম দিকে। আশিটি গল্প ও কয়েকটা উপন্যাস প্রকাশ করেছেন টাকা পয়সা ছাড়াই। তাঁর লেখা ফরাসি, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় অনূদিত হওয়ার পরেই কেবল টাকা-পয়সা পেয়েছেন।  

দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য