kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কবিবন্ধু হাসান হাফিজ সম্পর্কে কিছু কথা

তপংকর চক্রবর্তী

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কবিবন্ধু হাসান হাফিজ সম্পর্কে কিছু কথা

সত্তরের দশকে অগ্রজ কবিদের পাশাপাশি যখন বাংলাদেশে একঝাঁক তরুণ কবি আধুনিক বাংলা কবিতায় নতুন সুর, নতুন জীবন-ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের কবিতাঙ্গন মাতিয়ে তুলেছিল, সদ্য স্বাধীন দেশে যখন চারদিকে বইছিল মুক্তির সুবাতাস, সেই সময় হাতেগোনা যে কজন তরুণ কবি কবিতাঙ্গনে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ছাপ রাখতে শুরু করেছিলেন, কবি হাসান হাফিজ তাঁদেরই একজন।

একই অঙ্গনের সহযাত্রী হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে তাঁকে চিনি।

তাঁর পূর্ব নাম গোলাম মাওলা শাহজাদা। এ নামে কয়েক বছর লেখালেখির পর নাম পাল্টে ফেলেছেন। শুধু নামে নয়, পাল্টে গেছে তাঁর কবিতাও।

কবি হাসান হাফিজ সম্পর্কে বলার আগে আমার সহপাঠী, বন্ধু, গোলাম মাওলা শাহজাদার কথা একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন। উনিশ শ বাহাত্তর সালে ও ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। থাকে ঢাকা কলেজের দক্ষিণ ছাত্রাবাসে। তখন আমি ঢাকা গেলে প্রায়ই ওর সঙ্গে থাকতাম। কখনো কখনো চলে আসতেন প্রয়াত কবি আবুল হাসান, গোলাম সাবদার সিদ্দিকী প্রমুখ। কবি মোহাম্মদ রফিক তখন ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করতেন। মাঝেমধ্যেই আমরা কয়েকজন মিলে এখন যেখানে গাউছিয়া মার্কেট, সেখানে একটা হোটেলে নাশতা খেতে যেতাম। প্রায় দুই বছরের মতো এ রকম একটা চমত্কার সময় কেটেছিল আমাদের। সেই বন্ধুত্ব আজও অক্ষুণ্ন রয়েছে বলে বিশ্বাস করি।

দেখতে দেখতে হাসানও আজ ষাট বছর অতিক্রম করেছে। হাসানের লেখা হয়েছে আরো অনেক বেশি ঋদ্ধ। দীর্ঘকাল সাংবাদিকতার পাশাপাশি হাসান তাঁর কবিতাচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। সাহিত্যের অন্যান্য শাখায় কাজ করলেও আমার মনে হয় কবিতাই হাসানের প্রথম এবং প্রধান ভালোবাসা।

সত্তরের দশকের কবিদের নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অনেকের কথাই আলোচনা করতে হয়। অনেকে এখনো সক্রিয়, অনেকে নিষ্ক্রিয়, অনেকে চলে গেছেন সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখে। কবি হাসান হাফিজ এখনো সক্রিয় এবং আমি মনে করি তিনি কবিতার একটি নিজস্ব ভঙ্গি তৈরি করেছেন। তাঁর কবিতায় প্রেম, দ্রোহ কোনোটাই উচ্চকিত নয়, পরিমিতিবোধ তাঁকে প্রকৃত কবির অভিধায় ভূষিত করেছে।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এখন যৌবন যার’ প্রকাশিত হয়েছে ১৯৮২ সালে। আর এ পর্যন্ত সর্বশেষ ৪৩তম কাব্যগ্রন্থ ‘পিপাসা ও পরম্পরা’  প্রকাশিত হয়েছে ২০১৬ সালে। সর্বমোট ১৪২টি গ্রন্থের রচয়িতা ও সম্পাদক হাসান হাফিজ অবশ্যই সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচিত হওয়ার দাবি রাখেন।

বহুপ্রজ অথচ তুলনামূলকভাবে অনালোচিত হাসানের কবিতায় বিশিষ্টতার নানা দিক নিয়ে সমালোচকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে সত্তরের দশকের কবিদের কাব্য প্রতিভার নানা দিক হয়তো তাতে ফুটে উঠবে, একই সঙ্গে হয়তো ফুটে উঠবে হাসানের কবিতার অনালোচিত বৈশিষ্ট্যসমূহও। আমি সে আলোচনায় না গিয়ে আমার বন্ধু এবং সহযাত্রী এই কবির ষাট্টি বছর পূর্তিতে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। হাসান আমাদের কবিতা ভুবনকে আরো বহুকাল তাঁর মনন ফসলে ভরিয়ে তুলুন, কবিতাপ্রেমীরা তাঁর কাব্যপাঠে আরো অনেক আনন্দ লাভ করুন—এই কামনা করি।


মন্তব্য