kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত অভ্যাস

ওলে সোয়েঙ্কার নিভৃত নিবাস

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ওলে সোয়েঙ্কার নিভৃত নিবাস

১৯৮৬ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী ওলে সোয়েঙ্কা আফ্রিকার প্রথম নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব। সাহিত্যের কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ রয়েছে।

তিনি ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্যের পাঠক ও দর্শকদের সামনে আফ্রিকার প্রাণবন্ত আবহ তুলে ধরেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত কাজকর্মও তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সর্বদা মানানসই। তাঁর ব্যক্তিগত রুচি-পছন্দ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রকৃতি তাঁর বিশেষ পছন্দের জায়গা। যেমন তাঁর বিশেষ পছন্দের এবং যত্নে তৈরি করা একটা বাড়ি আছে। বাড়িটা বাইরের লোকালয় থেকে একেবারে দূরে, ঘন বনের ভেতরে। বাড়িটা লাল ইটের তৈরি। পাশে একটা বিরাট পাহাড়। একটা ছোট নদী বয়ে যাচ্ছে বাড়ির আরেক পাশ দিয়ে। মাথার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বড় বড় গাছ। মূল ভবনের ভেতরে রয়েছে নানা রকমের কাজকর্মের ব্যবস্থা : নাটকের মহড়া আর মঞ্চায়নের জন্য রয়েছে থিয়েটার। বাড়ির ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় আড়াল করা পাঠকক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির যেকোনো জায়গাই পড়ার জন্য উপযুক্ত। খ্রিস্টান, মুসলিম ও আফ্রিকার প্রাচীন ধর্মের মানুষের জন্য বিশেষ প্রার্থনার রুমও আছে।    বাড়ির দেয়াল, মেঝে ও বইয়ের তাক থেকে বই উপচে পড়ছে। নাইজেরিয়ার আবিউকুটার ইজে-গবা গ্রামে অবস্থিত সোয়েঙ্কার এই বাড়িটা। বনের মধ্যে আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে সোয়েঙ্কার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে দেখা যায় রাস্তায় গাছের সঙ্গে একটা সাইনবোর্ড আছে। সেটাতে লেখা আছে : অনধিকার প্রবেশকারী গাড়ি গুলি করে খেয়ে ফেলা হবে। এমনিতেই বাড়িটার অবস্থান দেখে মনে হতে পারে, সভ্যতার নোম্যানস ল্যান্ডে চলে এসেছি। তার পরে সাইনবোর্ডের এই লেখা পড়ে মনে ধাঁধা তৈরি হতে পারে। আরো একটা বিষয় সে ধাঁধা বাড়িয়ে দিতে পারে : বাড়ি পর্যন্ত গাড়ি নেওয়া যাবে না। কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে যেতে হবে। তবে বাড়িতে পৌঁছতে পারলে আর ধাঁধা থাকার কথা নয়। তিনি সাধারণত আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকেন। তা ছাড়া বাড়ির আশপাশের মনোরম আবহ নস্টালজিয়া জাগিয়েও দিতে পারে। প্রবেশ দ্বারের বিশ মিটার দূরে দেখা যায় ঝোপের মধ্যে বসে আছে সোয়েঙ্কার ডুপ্লেক্স বাড়িটা। চারপাশের ফুলের গাছ দিয়ে ঘেরা বাড়িটা দূর থেকে চোখে পড়ে না। বাড়ির পাশের এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যাতে কারো দ্বারা নষ্ট না হয়, সেদিকে রয়েছে ওলে সোয়েঙ্কার সতর্ক দৃষ্টি।

দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য