kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত অভ্যাস

আঙুরচাষি ক্লদ সিমোঁ

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আঙুরচাষি ক্লদ সিমোঁ

ফরাসি লেখক ক্লদ সিমোঁর জন্ম মাদাগাস্কার দ্বীপে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁর বাবা মারা যান।

তখন সিমোঁর বয়স এক বছরও পূর্ণ হয়নি। মায়ের মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। তাঁকে তখন পাঠানো হয়েছিল এক ধর্মীয় আবাসিক স্কুলে। সেখানকার নিয়মনীতি ছিল অত্যন্ত কড়া। ছোটবেলায় মা-বাবা হারালেও তিনি বড় হয়ে বলেছেন, তাঁর ছেলেবেলা ছিল বেশ আনন্দের। মায়ের ভাইবোনেরা ও তাঁদের ছেলেমেয়েরা সবাই সিমোঁর প্রতি যথেষ্ট মায়ামমতা দেখিয়েছিলেন। ক্লদ সিমোঁ লেখালেখি শুরু করেন সামরিক পেশায় থাকাকালীন। তাঁর লেখালেখি শুরুর পেছনে বিশেষ বা অস্বাভাবিক কোনো কারণ ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর লেখা অন্যরা পড়বেন—এটাই ছিল তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। দস্তয়েভস্কি, চেখভ, জয়েস, প্রুস্ত, ফকনার—এঁরা ছিলেন তাঁর পছন্দের লেখক। তবে কামু ও সার্ত্রের লেখা সম্পর্কে ছিল তাঁর একেবারেই বিরূপ মনোভাব। তিনি বলেন, আমার মনে হয় তাঁদের লেখা পুরোপুরিই মূল্যহীন, বিশেষ করে সার্ত্রের লেখা অসততা আর বৈরিতায় ভরা। তাঁর লেখার গতি ছিল বেশ ধীর। মূল লেখা শুরুর আগে টীকাজাতীয় কোনো সহায়ক কর্ম তাঁর দরকার হতো না। তাঁর স্মৃতিতে সব কিছু ছিল স্বচ্ছ। লেখালেখির কাজকে পেশা বলা যায় না বলেই মনে করতেন সিমোঁ। তিনি বলতেন, উপন্যাস লেখার বিনিময়ে কোনো বসের কাছ থেকে মাস কিংবা বছর শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা পাওয়া যায় না। পেশজীবী যিনি, তিনি কিছু দক্ষতার অধিকারী এবং তাঁর সেসব দক্ষতার দ্বারা তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাপয়সা উপার্জন করেন। তবে তাঁর লেখার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাঠককে আনন্দ দেওয়া। তিনি মনে করতেন, পাঠক তাঁর লেখায় কোনো বার্তা পাবেন না। শুধু আনন্দ পাবেন। লেখার কাজকে তিনি অন্য কাজকর্ম থেকে মহিমান্বিত কিংবা অতিশয় আলাদা কিছু মনে করতেন না। ১৯৮৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ বেলায়ও সাহিত্যিক পরিচয়ের চেয়ে একজন আঙুরচাষি পরিচয়ই তাঁর কাছে প্রিয় ছিল। শব্দ চিপে উপন্যাস তৈরি করার চেয়ে আঙুর চিপে মদ তৈরি করার মধ্যেই বেশি সততা খুঁজে পেতেন ক্লদ সিমোঁ। অবশ্য লেখালেখিকেও তিনি ছোট করে দেখেননি। লেখালেখিকে তিনি অন্য যেকোনো কায়িক শ্রমের মতোই মনে করতেন।                                                               

     দুলাল আল মনসুর


মন্তব্য