kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

সাড়ে তিন ফুট উঁচু ডেস্কে লিখতেন ভার্জিনিয়া উলফ

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাড়ে তিন ফুট উঁচু ডেস্কে লিখতেন ভার্জিনিয়া উলফ

মাঝেমধ্যে পাঠক লেখকের উপস্থাপনা বুঝতে সমস্যা হলে উপলব্ধি করতে পারেন না তাঁর পঠন সঠিক হচ্ছে কি না। সে কারণে কখনো কখনো ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে ভার্জিনিয়া উলফের সোজা উপদেশ হলো, লেখক কেমন করে, কী উপাদানে তাঁর উপন্যাসের কাহিনী সাজাচ্ছেন—বুঝতে হলে পাঠকের উচিত লেখার চেষ্টা করা। তাহলে বুঝতে পারবেন, লেখা নিয়ে কী রকম বিপদ আর সমস্যার মধ্যে থাকেন কথাসাহিত্যিকরা। পড়ার বিষয়ে তাঁর যেমন মতামত ছিল, লেখার কলাকৌশল সম্পর্কেও নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ ছিল। একেক সময় একেক পরিকল্পনা আঁটতেন লেখার জন্য। লেখার সময় আসনব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট মাথা খাটাতেন। সারা জীবন তিনি এক রকম আসনে লেখালেখি করেননি। তাঁর বয়স ৩০ বছর হওয়ার আগে তিনি প্রতিদিন সকালবেলা টানা আড়াই ঘণ্টা লেখালেখি করতেন। তাঁর লেখার ডেস্কটি ছিল সাড়ে তিন ফুট উঁচু। সেটি এমন অবস্থানে রাখতেন, যাতে একদম কাছে থেকে কিংবা খানিকটা দূর থেকেও লেখা দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে তাঁর বোনের ছেলে কোয়েনটিন বেল তাঁর এমন উঁচু ডেস্ক নিয়ে মন্তব্য করেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যতে এমন লম্বা পা-অলা ডেস্কের প্রচলন হবে। কোয়েনটিন বেল তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমন রসালো মন্তব্য করার সুযোগ পেলে হাতছাড়া করতেন না। তাঁর মা—অর্থাৎ ভার্জিনিয়া উলফের বোন ভানেসা বেল ছিলেন ব্লুমসবেরি দলের চিত্রকর। কোয়েনটিনের মতে, ভার্জিনিয়া বাস্তব প্রয়োজনে এমন উঁচু ডেস্কে লেখার অভ্যাস করেননি; বরং তাঁর বোনের প্রতি কিঞ্চিৎ ঈর্ষান্বিত হয়েই লেখালেখির এমন অভ্যাস রপ্ত করেছিলেন। কাজ করার নানা রকম উপায় বের করার ওস্তাদ ছিলেন ভার্জিনিয়া। কখনো কখনো তিনি দাঁড়িয়েও লেখতেন। আবার ফিরে আসেন বসে লেখার অভ্যাসে। একসময় তিনি লেখার জন্য একটা বিশেষ আসন তৈরি করেন। ছোট ছোট পাতলা তক্তা জোড়া লাগিয়ে টেবিল বানিয়ে নেন। টেবিলটির সঙ্গে একটা ট্রে-জাতীয় অঙ্গও জুড়ে দেন। সেখানে কালি ও কলমের ব্যবস্থা মজুদ রাখতেন। লিখতে লিখতে কলম নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা কালি ফুরিয়ে গেলে অন্য কোথাও উঠে যাওয়ার দরকার হতো না। কারণ উঠে যেতে হলে তাঁর লেখার কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এ রকম ব্যবস্থা করেছিলেন

 দুলাল আল মনসুর     


মন্তব্য