kalerkantho


অদ্ভুত অভ্যাস

অন্যের দৃষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বালক আচেবে

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অন্যের দৃষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বালক আচেবে

প্রায় ৫০ বছর ধরে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য লেখক হিসেবে আলোচনায় এসেছেন নাইজেরিয়ার কথাসাহিত্যিক চিনুয়া আচেবে।   আর ২০১৩ সালের ২১ মার্চ তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ নভেম্বর। গল্প বলা আর শোনার জন্য বেশ উপযুক্ত ছিল তাঁর পারিবারিক আবহ। মায়ের কাছে গল্প শুনতেন; বড় বোনের কাছে গল্প শুনতেন। বাবা ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত। ধর্ম প্রচারের কাজে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান বেশ কয়েক বছর। মা-বাবার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। তাঁর বড় হওয়ার সময় অবশ্য বাবা পারিবারিক আবহে আবার ফিরে এসেছেন। ছোট আচেবে বাবার কথা শুনতেন মনোযোগ দিয়ে। বাবার কথার মধ্যে থাকত অনেক রকমের গল্প। স্কুলে গিয়ে গল্প পড়ার পরিবেশ পেলেন। গল্পের বইয়ে পেলেন অন্য সব অচেনা জগতের গল্প। তখন তাঁর নেশা ধরে গেল অচেনা জায়গা আর রহস্যঘেরা সব চরিত্রের গল্প পড়ার। বাস্তব জগতের বাইরের এসব গল্প তাঁর ভালো লাগার কারণ হলো, নিজের চেনা জগতের বাইরে বিচরণ করার সুযোগ পাওয়া যেত এগুলোয়। এরপর শুরু হলো আরেক ধরনের গল্পের জগৎ। সে জগতে দেখতে পেলেন, ইতিবাচক গুণের অধিকারী সব মানুষ হলো শ্বেতাঙ্গ। তারা দেখতে সুন্দর, তাদের বুদ্ধি ভালো। এককথায়, তারা সবাই মানবিক গুণাবলির অধিকারী। অন্যদিকে তাদের বিপক্ষে রয়েছে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ। তাদের কোনো ভালো গুণ নেই। তাদের চেহারাও দেখতে ভালো নয়। সেসব গল্পের লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি অল্প কিছুদিন হলেও আচেবের বালক মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। তিনি মনে মনে শ্বেতাঙ্গদেরই পছন্দ করতেন। তিনি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ওই লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে। আরেকটু বড় হয়ে নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। পরে ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়ার সময় আরো স্পষ্ট হয়েছিল তাঁর দৃষ্টি ও দায়িত্ববোধ। পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লেখা আহ্বান করে শেষে বলা হয়েছিল, তাঁদের কারো লেখা পুরস্কার পাওয়ার মতো নয়। তাঁর লেখার মধ্যে সমস্যা কোথায় জানতে চাইলে তাঁর শিক্ষিকা বেশ কয়েক দিন তাঁকে এ কথা-সে কথা বোঝানোর চেষ্টা করে শেষে বলেছিলেন, আসলে তোমার লেখায় কোনো সমস্যা নেই। তখনই আচেবে বুঝেছিলেন, তাঁকে লিখতে হবে। নিজেদের কথা নিজেদেরই লিখতে হবে।

            দুলাল আল মনসুর     


মন্তব্য