ডেরেক ওয়ালকটের টাইপরাইটারের পাশে-334502 | দশদিক | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


অদ্ভুত অভ্যাস

ডেরেক ওয়ালকটের টাইপরাইটারের পাশে ইজেল

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ডেরেক ওয়ালকটের টাইপরাইটারের পাশে ইজেল

১৯৯২ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী ক্যারিবীয় কবি, নাট্যকার ডেরেক ওয়ালকটের জীবনে ঘটেছে বহু বর্ণিল ঘটনার সমারোহ। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবাধ বিচরণসহ শিল্পের অন্যান্য শাখায়ও তাঁর আনাগোনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কবি-সাহিত্যিকদের বেশির ভাগেরই উত্কৃষ্ট রচনা তাঁদের জীবনের প্রথম দিকে রচিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ডাব্লিউ বি ইয়েটস ছাড়া অনেকের জীবনের শেষের দিকটা বিরলপ্রজ হয়ে গেছে। তাঁদের দুজনের ব্যতিক্রমী তালিকায় আসছেন ডেরেক ওয়ালকট। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারান ওয়ালকট। জীবিত বাবার স্মৃতি ভালো করে মনে পড়ে না তাঁর। তবে বাবার কিছু কাজকর্ম তাঁকে সব সময় মনে করিয়ে দেয়, বাবা আশপাশেই আছেন। বাবা কবিতা লিখতেন, ছবিও আঁকতেন। বাড়িতে দেখেছেন বাবার বিশাল বইয়ের ভাণ্ডার—ডিকেন্স, স্কটসহ আরো অনেক লেখক-কবির বইয়ের সমাহার। বুঝতে শেখার কাল থেকেই দেখে এসেছেন, তাঁদের বসার ঘরে বাবার আঁকা মায়ের তেলরং ছবি। পাশে আরো একটি জলরঙে আঁকা ছবি। সেটিও বাবার আঁকা। সে ছবিটি বাবার আত্মপ্রতিকৃতি। তাঁর মায়ের মুখে শুনেছেন বাবার প্রশংসা। মা সারা জীবনই বাবাকে নিয়ে গর্ববোধ করতেন এবং বাবার অনুপস্থিতির কারণে আজীবনই মা হাহাকার প্রকাশ করে গেছেন।  বড় হতে হতে অবচেতনে ওয়ালকটও বাবার পথেই হেঁটেছেন। বাবার মৃত্যুর পরে তাঁদের পরিবারে ছিলেন মা, এক বোন ও তাঁর যমজ ভাই রডারিক ওয়ালকট। ডেরেক ওয়ালকটের ভাইও বিখ্যাত নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, গীতিকার, সম্পাদক ও চিত্রকর। ক্যারিবীয় অঞ্চলে থিয়েটার আন্দোলনে তাঁদের দুই ভাইয়ের অবদান অপরিসীম। উল্লেখ্য, রডারিক ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ডেরেক ওয়ালকট জীবনের দীর্ঘ সময় খুব নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গেই শিল্পের কাজকর্ম চালিয়ে গেছেন। ভোর চারটার পরপরই উঠে লেখালেখি কিংবা ছবি আঁকার কাজ শুরু করেছেন। তাঁর কাজের সময় লেখার জন্য টাইপরাইটার আর ছবি আঁকার জন্য ইজেল পাশাপাশিই রেখেছেন। নিয়মিত পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করলেও ৮৬ বছর বয়সেও বর্তমানে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে পাঠদান করেন এবং কবিতার আসরে কবিতা পাঠ করেন।

►দুলাল আল মনসুর     

মন্তব্য