কবিতায় সখ্য কেন?-334494 | দশদিক | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


কবিতায় সখ্য কেন?

কবিতা স্বস্তি দেয়, কবিতা আনন্দ দেয়, কবিতা আন্তরিকতা দেয়, কবিতা ভালোবাসা দেয়, কবিতা মনের খোরাক—এসব কথা সবাই যেমন জানে, তেমনি জানে কবিতা কষ্টও দিয়ে থাকে। আসলে কবিতা জীবনের অনুষঙ্গ। আমি আমরণ কবিতা লিখতে চাই। চাই কবিতার সেবক হতে

কাজী রোজী   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কবিতায় সখ্য কেন?

মানুষ তার জন্মের পর থেকেই আকারে-ইঙ্গিতে চাইতে শেখে। তারপর ক্রমাগত নিজস্ব বলয় থেকে ধীরে ধীরে অধিকার অর্জন করতে শেখে। চলতে শেখে, বলতে শেখে, হূদয়ের আবেদন প্রকাশ করতে শেখে। তখন থেকেই সে বুঝতে পারে তার এগিয়ে যাওয়ার পথ কোন দিকে হবে। জীবনের আদর্শ বিনির্মাণ করতে শেখে। লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয় সংস্কৃতি প্রশাসন কিংবা ব্যবসাসহ অন্য যেকোনো পথকে।

এবার নিজের কথা বলি। শিশু বয়স থেকে ছড়া, গান, কবিতা আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করত। হূদয় থেকে উৎসারিত শব্দাবলি ছড়ার আদল ছুঁয়ে কবিতা হয়ে উঠত। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে আলপথ বেয়ে গ্রাম দেখতে যেতাম। বাবাকে বলতাম, দেখো বাবা, আলপথের দুই ধারে কী সুন্দর ধানের ক্ষেত! ওরা দোলে আর কথা বলে ওদের ভাষায়। বাবা, ওই সবুজ-সবুজ ধানগুলো কী যে অবুঝ-অবুঝ কথা বলে। আমি কিছুই বুঝি না। তুমি কি বোঝো বাবা।’  

সেটাই ছিল আমার প্রথম ছড়া। কবি-প্রাণের দারুণ জিজ্ঞাসা।

জিজ্ঞাসা আমার আরো ছিল—মাথায় চুল কত, সাগরে ঢেউ কত, আকাশের তারা কত, বনে বনে কত ফুল—সবই আমি ছন্দে ছন্দে জানতে চেয়েছি।

প্রশ্ন এসেছে, কেন কবিতা লিখলাম, কেন কবি হতে চাইলাম। বাংলাদেশের আবহাওয়া, প্রকৃতি, সাগর, নদী, পাহাড়, মেঘের গর্জনে পাখির কলতান সব, সবই তো কবিতার আধার। প্রতিটি মানুষের মনে ছন্দ, ভাব, ভাষা ও নান্দনিকতার ছোঁয়া বর্তমান। আমাকে সেই ছোঁয়া কলম ধরতে শিখিয়েছে। ছড়া কবিতার ভালোবাসা দিতে শিখিয়েছে। কবিতা লিখতে শিখিয়েছে।

এরপর একসময় সময় এসেছে। কবিতা পড়া ছাড়া থাকতে পারিনি। কবিতা লেখা ছাড়া ভাবতে পারিনি। স্কুল পেরিয়ে, কলেজ পেরিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে, সংসার-সীমা, চাকরি-সীমা পেরিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের চাকা এগিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেছে আমার কবিতার আরাধনা ও সাধনা। এরপর একটা সময় এলো, যখন কবিতা না পড়ে, না লিখে থাকতেই পরতাম না। মনে হতো কবিতাই ধ্যান, কবিতাই জ্ঞান, কবিতাই জীবন। কবিতাই জীবনের শেষ আশ্রয়।

যেকোনো পুরস্কার মানুষকে উজ্জীবিত করে, উৎসাহিত করে, ত্বরান্বিত করে, সমৃদ্ধ করে। কবিতার ঘর-বাড়িতে বসবাস করতে করতে আমি কিছু আন্তরিক পুরস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। যেমন লেখা সংঘ পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, মহাদিগন্ত সাহিত্য পুরস্কার, জীবনানন্দ সাহিত্য পুরস্কার, নির্ণয় সাহিত্য পুরস্কার, সাদত আলী আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার, লা-ফর্টিনা সাহিত্য পদকসহ আরো অনেক সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছি।

কবিতার সাধনায় থাকতে পেরে বিদেশি কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে কবিতা ও ভাবের বিনিময়ের সুযোগ পেয়েছি। কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বলয়ে দৃঢ় অবস্থান রাখার প্রত্যয়ে বিশ্বস্ত থাকতে পেরেছি।

বর্তমানে শত ব্যস্ততার মধ্যেও কবিতা না লিখে থাকতে পারিনে। কবিতা স্বস্তি দেয়, কবিতা আনন্দ দেয়, কবিতা আন্তরিকতা দেয়, কবিতা ভালোবাসা দেয়, কবিতা মনের খোরাক—এসব কথা সবাই যেমন জানে, তেমনি জানে কবিতা কষ্টও দিয়ে থাকে। আসলে কবিতা জীবনের অনুষঙ্গ। আমি আমরণ কবিতা লিখতে চাই। চাই কবিতার সেবক হতে।

কবিতা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ। সঙ্গে সঙ্গে ছড়া, গান, নাটক—এসবও সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহগ। এ বিষয়গুলোও যত্নের পরিমণ্ডলে রেখেছি আমি। ছড়া লিখেছি, গান লিখেছি, নাটক লিখেছি, জীবনের সত্যানুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষণালব্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হয়েছি।

আসলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। শেখারও কোনো বিকল্প নেই। আমার কাছে কবিতার বিকল্প কবিতাই।

মন্তব্য