kalerkantho

তোমাদের লেখা

রেখে আসা দিনগুলি

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেখে আসা দিনগুলি

আমার জীবনে ঘটনাগুলো অনেকটা নিউটনের মাথায় পড়া আপেলের মতো। এই আপেলগুলো অভিকর্ষজ ত্বরণের চেয়েও বেশি গতিতে আমার কাছে আসে।

স্কুলের বন্ধুরা আজ পর্যন্ত আমার প্রতিটি ভালো-খারাপ কাজের সাক্ষী। তাস, সোহা, লামিসা, বৃষ্টি, রুবা, অ্যানি—প্রত্যেককে সঙ্গে করে বেড়ানো হাজারো বোকামি, দুষ্টুমি, নাচানাচি... দুই দিন পর হয়ে যাবে স্মৃতি।

মনে পড়ে, স্কুলে একবার অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় ক্লাস হচ্ছিল না। এদিকে আমরাও শুধু শুধু বসে থাকতে পারছি না। কিন্তু ম্যাডামদের কড়া নির্দেশ, মেয়েদের যেন তাদের গার্জিয়ান এলে তবেই যেতে দেওয়া হয়। আমাদের তো কেউ নিতে আসবে না। আমরা একাই বাসায় যেতাম কি না! তাই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বাইরে দাঁড়ানো এক আন্টিকে আম্মু বানিয়ে টুপ করে বেরিয়ে পড়লাম। ওই আন্টি চিত্কার করে বললেন—‘আরে এরা তো আমার মেয়ে না! আমার মেয়ে কই?’ পরে গেটের দাদুর ঘটনা বুঝতে বুঝতে আমরা পগারপার। ওই দিন এত মজা হয়েছিল যে কী আর বলব।

আরেকটি ঘটনা বলি। স্কুলে সিটি নির্বাচনের কেন্দ্র হওয়ায় ভোটের পরেও ক্লাসের দেয়ালগুলোয় ঝুলছিল ‘প্রিসাইডিং অফিসার’ আর ‘পোলিং এজেন্ট’ পোস্টের লেখা কাগজগুলো। তাই আমি বৃষ্টির কাছে পোলিং এজেন্টের কাগজ দিয়ে কিছু মজার বাক্য লিখতে ভুলিনি। আমাকে ওরা দেয় প্রিসাইডিং অফিসারের কাগজটা। সেই থেকে বৃষ্টি হলো পোলিং এজেন্ট আর আমি প্রিসাইডিং অফিসার। এখন এগুলো স্থান পেয়েছে বৃষ্টির পড়ার টেবিল আর আমার ডায়েরির পাতায়।

সোহার খুব ধনেপাতা ফোবিয়া আছে। তাই ওর বার্থডেতে কয়েকটা ধনেপাতা দিয়েছিলাম। ওর কী হাসি! মনে আছে, স্কুলে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় গাছে কর্ক আটকে গেলে দাদুর ঘরের সামনে থেকে বাঁশ চুরি করে এনে কর্ক নামাতাম। দাদুরা দেখলে বকাবকি করতেন। সোহাকে একদিন আমার স্কার্ফটা ধরতে বলেছিলাম। ও তখন মজা করে সেটা গলায় ঝোলায়। এদিকে ওর মাথায় ওর স্কার্ফ। স্কুলের তিনকোনা সাদা দুটি স্কার্ফ। একটি কাঁধে, আরেকটি মাথায় ঝুলিয়ে বাসায় চলে যায় ও। নিশ্চয়ই ওকে তখন জোকার লাগছিল।

আমরা যে কতবার অকারণে শপিং মলের চলন্ত সিঁড়িতে চড়েছি স্রেফ মজা করার জন্য। কত যে জোর করে একের টিফিন অন্যকে খাইয়েছি। কত যে অপ্রত্যাশিত সত্য র্যাগ ডের টি-শার্টে লিখে ফেলার জন্য দৌড়ানি খেয়েছি একে অপরের। রাস্তায় মানুষের হাঁটা বৃষ্টি, লামিসা আর আমি নকল করেছি। মজার দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতাও কম নেই। তাস আর আমি আংকলের বাইকে বসে কতবার যে ক্লাস বাংক মেরেছি। কত যে লুকিয়ে লুকিয়ে স্কুলে ছবি তুলেছি। কতবার যে বৃষ্টি আমাদের ছবি নাড়িয়ে নষ্ট করেছে, স্কুলের স্যার-ম্যামদের যে আলাদা নাম দিয়েছি। কত যে সিরিয়াস জোক করে অন্যের ঘাম ছুটিয়েছি।

একে অন্যের বাসায় যেতাম লুকিয়ে লুকিয়ে। রুবা যে বৃষ্টিকে জুস বলে তিতা স্বাস্থ্যকর শরবত খাইয়ে বোকা বানিয়েছিল, সেটাও মনে পড়ছে।

খারাপ-ভালো সবই শিখেছি তোদের কাছ থেকে। তোরা আর কেউ না, ওই আপেলগুলো ছাড়া। সুইট সুইট আপেল। যেখানেই থাকিস, ভালো থাকিস রে। গণিত, ইংরেজি, বায়োলজি ক্লাসের সেই মজাগুলোর মতো ফ্রেশ থাকিস।

     —তোদের সানজু (সানজিদা)

 

ই-মেইল : dolchut@kalerkantho.com

ডাক : দলছুট, কালের কণ্ঠ, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা আ/এ, ঢাকা।

ফেসবুক গ্রুপ : Facebook.com/groups/447338902349393/

গ্রাফিকস : সমরেন্দ্র সুর বাপী, প্রচ্ছদ : বিপ্লব

মন্তব্য