kalerkantho


টিপস

নিজের বইয়ের কাটতি বাড়াও

তোমরা যারা বই বের করেছ, তাদের চিন্তা একটাই—এখনো তো বিখ্যাত হইনি, বইটা চলবে তো? ইয়োর রাইটার প্ল্যাটফর্ম ডটকম থেকে নিজের বইয়ের ঢোল পেটানোর কিছু উপায় জানাচ্ছেন জুবায়ের ইবনে কামাল

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



নিজের বইয়ের কাটতি বাড়াও

♦         অনেক ওয়েবসাইট আছে, যেখানে খুব কম টাকায় বইয়ের বিজ্ঞাপন দিতে পারো। যতবারই ওই সাইটে কেউ ভিজিট করবে, ততবারই তোমার বইটা তার চোখে পড়বে। তোমার বন্ধুর কোনো ওয়েবসাইট থাকলে তাকে ভরপেট বিরিয়ানি খাইয়েও কিন্তু তুমি ফ্রি ফ্রি বিজ্ঞাপনটি তার ওয়েবসাইটে দিতে পারো।

♦      পত্রিকার বিজ্ঞাপন কিন্তু খুব কাজের। ভাবছ, এটা তো প্রকাশকের কাজ। কিন্তু শুরুর দিকে নিজের স্বার্থেই নিজের কিছুটা প্রচার করলে মন্দ কী! প্রতিদিন যে কয়েক লাখ মানুষ পত্রিকা পড়ছে, তাদের কিন্তু পড়ায় অরুচি নেই। তারাই বড় পাঠক। বন্ধুদের সঙ্গে দু-তিন বেলার আড্ডার টাকা বাঁচালেই কিন্তু উঠে আসবে একটি বিজ্ঞাপনের বিল। তারপর নিজের মতো করে বিজ্ঞাপন ডিজাইন করে পাঠিয়ে দাও পত্রিকায়। 

♦      বিনা পয়সার বড় মাধ্যম ফেসবুক। তবে সবার টাইমলাইনই এখন বইয়ের প্রচ্ছদে ভেসে যাচ্ছে। তাই চাই বৈচিত্র্য। বইয়ের প্রচ্ছদটা বারবার পোস্ট না করে বরং একটা ভিডিও বানিয়ে ফেলো। কয়েকজন বন্ধুর মন্তব্যও জুড়ে দিতে পারো তাতে। একই ভিডিও আপলোড করে দাও ইউটিউব চ্যানেলেও। বইটার মাঝের মজার কোনো অংশ টুকে দিতে পারো পোস্টের সঙ্গে বা ভিডিওর ডেসক্রিপশনে।

♦         পরিচিত-অর্ধপরিচিত সবাইকে ই-মেইল করে জানিয়ে দাও বইয়ের বৃত্তান্ত। ই-মেইলে সেট করে দিতে পারো স্বয়ংক্রিয় ‘রিপ্লাই’। কেউ তোমাকে ই-মেইল করলেই তোমার মেইল থেকে আপনা-আপনি জবাব চলে যাবে—‘মেইলের জন্য ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, এবারের বইমেলায় কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে আমার বই...।’ তবে খেয়াল রাখবে—অনেকেই কিন্তু প্রচারণামূলক মেসেজ লিখে ফেসবুকের ইনবক্সে কপি করে সেন্ড করতে থাকে। এমনটা করা যাবে না! ফেসবুক যদি বুঝতে পারে, তুমি একই লিংক কিংবা বার্তা অনেকের কাছে সেন্ড করছ, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তোমাকে ‘স্প্যাম’ আখ্যা দিয়ে প্রোফাইলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।

♦      বইয়ের নামে বৈচিত্র্য থাকলেও সেটা প্রচারে কাজে আসে। হরর বই লিখেছ? কী নাম দেবে? প্রেতাত্মা, অদৃশ্য পিশাচ নাকি ভূতুড়ে কাণ্ড? বইটার নাম যদি হয় ‘ঘাড়ের কাছে শ্বাস ফেলে কে!’ তবে নামেই কিন্তু অর্ধপ্রচার। নামটা সৃজনশীল হলে সেটা ছড়াবে মুখে মুখে।

♦      প্রচ্ছদেও প্রসার। বইটার প্রচ্ছদ এমন কোনো আঁকিয়ে বন্ধুকে দিয়ে করিয়ে নিলে, যার আবার অনেক অনেক বন্ধু আছে। এতে সেই বন্ধুও তোমার বইয়ের প্রচার করবে। এক ঢিলে দুই আম!

♦      বইয়ের কিছু অংশ ই-বুক (পিডিএফ) আকারে তৈরি করে বাছাই করা কয়েকজনকে পড়তে দিতে পারো। এতে তারা বই সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং তাদের ভালো লাগলে বইটার কথা মুখে মুখেও ছড়াবে। বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজনকে বইটা পড়ে রিভিউ লিখতেও বলতে পারো।

♦      সবার ওপর পাঠক সত্য। যাদের টার্গেট করে বইটি লিখেছ, তাদের কাছে পৌঁছাতে না পারলে কোনো কৌশলই কাজে আসবে না। তাই পাঠকদের বয়স ও শ্রেণি চিন্তা করে ঠিকঠাক প্রচার হচ্ছে কি না দেখো।

তথ্যসূত্র : ইউর রাইটার প্ল্যাটফর্ম ডটকম



মন্তব্য