kalerkantho


রহস্যজট

ঘোষাল স্যারের বাগানে

আশিকুর রহমান

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ঘোষাল স্যারের বাগানে

রাত পোহালেই একুশে ফেব্রুয়ারি। ফুলের মালা বানাতে হবে। সুমনদের বাড়ির উঠোনে বসে আছে মিন্টু ও সুমনের ছোট্ট খালাতো বোন মিতু। মিতু পড়ে ক্লাস সিক্সে। ঢাকা থেকে এসেছে বেড়াতে। গাদা গাদা গোয়েন্দা বই পড়ে নিজেও ছোটখাটো গোয়েন্দা বনে গেছে ও।

মিতু বারবার বলছে, ‘রাজন ভাইকে ছেলেধরায় নিয়ে যায়নি তো? নিয়ে গেলে ভালোই হয়। একটা কেস পেতাম।’

‘আরে নাহ। তোর এত শখ থাকলে নিজেই ছেলেধরার হাতে ধরা দে।’

‘ভুলে যেয়ো না ভাইয়া, আমি কিন্তু দুই মাস আগেই একটা চোর ধরেছি। আমি তো ভাবছিলাম, আমাদের মিশন ফুল চুরি ফাঁকি দেওয়ার কথা না তার। এখনো যেহেতু আসেনি, তার মানে ঝামেলায় পড়েছে।’

‘আরে ওর দোকানে যাওয়ার কথা। ফুল যে চুরি করব, সেটা কি পকেটে রাখব!’ বলল মিন্টু। মুখে চিন্তার ছাপ।

‘ও! এক মিনিট! হিসাব করে দেখি... হুম! তাদের বাড়ি থেকে দোকান দেড় কিলোমিটার দূরে। তার সাইকেল নেই। সুতরাং যদি দ্রুত হেঁটে যাওয়া-আসা করে, তাহলে... বিশ মিনিট করে ধরলাম... চল্লিশ মিনিট যোগ ব্যাগ কিনতে ত্রিশ সেকেন্ড। সুতরাং আমার হিসাব মতে, এখনই তার...।’ মিতুর কথা শেষ না হতেই ভীষণ রকম হাঁপাতে হাঁপাতে রাজন হাজির। ‘এই নে ব্যাগ! উফফ, একেবারে ঘেমে গেছি। কারো কাছে পানির বোতল আছে?’

সুমন আড়চোখে মিতুর দিকে তাকাল। ভাবছে, নাহ মেয়েটা সত্যিই চালাক! মিতুও ভাব নিয়ে বলল, ‘এবার তাহলে শুরু করা যাক। চল চল চল, ফুল চুরি করব মোরা, বুকে আছে বল।’

‘গোয়েন্দা নিজেই চুরি করতে গেলে চোর ধরবে কে?’ টিপ্পনী কাটল রাজন।   

রাত ৯টা। গ্রামের হিসাবে অনেক রাত হলেও সুমনদের বাড়িটা মফস্বল এলাকায়। তা ছাড়া পরের দিন একুশে ফেব্রুয়ারি হওয়ায় চারদিকে সাজসাজ রব। স্কুলের মাঠ থেকে একটু পর পর আতশবাজির আলো দেখা যাচ্ছে। ওরা চারজন যাচ্ছে ঘোষাল স্যারের বাড়িতে। বেশ সুন্দর কাঠের বাড়ি। বাগানে ফুলের ছড়াছড়ি। প্রথমে একটা মিনি গেট। তারপর ঘাষে ঢাকা লন। দুপাশে বাগান। তারপর বাড়ির সদর দরজা। বাগানে রাতের অন্ধকারে ফুল চুরি করা খুব সহজ।

‘ঘোষাল স্যার টের পেলে কিন্তু বাইশ তারিখে বাইশবার কান ধরে উঠবোস করাবেন।’ ফিসফিস করে বলল সুমন।

‘আরে দূর! কাল ছুটির দিন। গোটা একটা দিন হাতে। এর মধ্যে স্যার সব ভুলে যাবেন। আর আমি জানি, স্যার রাতে ঘুমের ওষুধও খান।’ রাজনের গলায় আত্মবিশ্বাস।

‘ফুল নেওয়ার সময় দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে রাখব আমরা। পালানোর সময় খুলে দিয়ে যাব।’ বুদ্ধি দিল মিন্টু। সায় দিল বাকিরাও। মিতুর এসবে মাথাব্যথা নেই। কারণ সে তো ঢাকায় থাকে।

ছোট গেটটা টপকে বাগানে ঢুকতেই ভয়ে সিঁটিয়ে গেল সবাই। ঘোষাল স্যারের বাড়িতে মিটমিটে একটা আলো জ্বলছে-নিভছে।

‘স্যার জেগে আছেন!’

ফিসফিস করে রাজনকে ইশারা করল মিন্টু। রাজন এগিয়ে গেল সদর দরজার দিকে। মিতু তাকিয়ে দেখছে আশপাশে। এদিকটায় স্ট্রিট ল্যাম্পও আছে। সেগুলোর আলো বাগান পর্যন্ত আসছে না। তবে চাঁদের আলো আছে যথেষ্ট।

‘একবার যদি টর্চের আলো বাগানে পড়ে, সঙ্গে সঙ্গে ধরা খাব।’ সুমনের গলা কাঁপছে। চুপিসারে এগিয়ে গেল রাজন ও মিতু। রাজন এগিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে সামান্য চোখ বুলিয়ে নিল। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তারপর বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিল।

ব্যাগ ভরে ফুল নিল সবাই। যাওয়ার সময় রাজন আবার বাড়ির দরজার দিকে এগোতে যাবে, তখনই মিতু বলল, ‘রাজন ভাইয়া, দরজা লাগানোই থাক। সুমন ভাইয়া, তুমি ফুল নিয়ে বাড়ি যাও। আমরা সবাই এখন জোরসে চিৎকার দেব চোর চোর বলে।’

‘মানে কী!’

‘মানে তোমাদের ঘোষাল স্যারের বাড়িতে চোর ঢুকেছে। ওকে ধরিয়ে দিতে হবে না!’

 

মিতু কী করে বুঝল ঘরে চোর ঢুকেছে?

 

গত রহস্যজটের উত্তর

উত্তর : বেলায়েত গাজী ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সহ্য করতে পারেন না। তাই ডা. আকমলকে ডিজে সেট আনতে বলার কথা নয় তাঁর। ব্রিফকেসে চুম্বক বা স্পিকারই নিয়ে এসেছিলেন ডাক্তার। আর ওটা দিয়েই বেলায়েত গাজীর পেসমেকার বিকল করে দিয়েছিলেন। তিনি ডাক্তার বলেই জানতেন, কী করে পেসমেকার বিকল করতে হয়।



মন্তব্য