kalerkantho


রহস্যজট

বিরতিতে খুন

আবদুল্লাহ আল ফারুক

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিরতিতে খুন

অঙ্কন মাসুম

পরপর তিনবার সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেন ইন্সপেক্টর শরিফ। প্রতিবার একই জিনিস দেখেননি। একবার দেখলেন সন্দেহভাজনদের চলাফেরা, আরেকবার মুখের অভিব্যক্তি। কিন্তু ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না কিছুতেই।

একটা ছোটখাটো হাইওয়ে রেস্তোরাঁ ও পেট্রল পাম্পে খুন হয়েছেন ব্যবসায়ী সাত্তার। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে দুই লাখ টাকার দুটি বান্ডিল গায়েব। খুনি জানত, কিছু ক্যাশ টাকা নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন সাত্তার সাহেব। তাই তাঁর সঙ্গে সে-ও বাসে ওঠে। আর অপেক্ষায় ছিল, কখন গাড়িটা কোনো রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি নেবে। কিন্তু হাইওয়ে রেস্তোরাঁর টয়লেটে এভাবে কাউকে খুন করে এত সহজে পার পাওয়া সম্ভব, সেটা ভাবতেই পারছেন না শরিফ।

টয়লেটটা বাইরের দিকে আলাদা একটা ভবনে বানানো। তিনটা ছোটখাটো টয়লেট আছে ওটার ভেতর। তিন নম্বরটার মধ্যেই পাওয়া যায় সাত্তার সাহেবের লাশ। প্রত্যক্ষদর্শী এসে খবর দিতেই রেস্তোরাঁর ম্যানেজার থানায় ফোন দেন। পুলিশ এসেই তিন নম্বর টয়লেটের ছিটকিনি খুলে লাশ উদ্ধার করে। গলায় চিকন তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে খুন করা হয়েছে সাত্তারকে। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই কাজ সেরে টাকা নিয়ে ভেগেছে খুনি।

সিসিটিভির ফুটেজে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সাত্তার সাহেব একটা ছোট ব্যাগ হাতে টয়লেটে ঢুকেছেন। এরপর ঢুকেছে নুরুল নামের এক যুবক। সে ফিরে আসার পর কবির ও হুদা নামের আরো দুজন ঢোকে। নুরুলের পর বেরিয়ে আসে কবির, তারপর হুদা। নির্বিঘ্নেই বেরিয়ে আসে দুজন। সব শেষে আসে আকবর নামের একজন মোটাসোটা লোক। আকবরকেই দেখা গেল ত্রস্ত পায়ে দৌড়ে বের হতে। তিনিই গিয়ে রেস্তোরাঁর ম্যানেজারকে জানান ভেতরের লাশের কথা। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সব। এরপর টয়লেটে আর কেউ ঢোকেনি।

সন্দেহের তালিকায় চারজনই। চারজনই থানায় আটক। নির্লিপ্তভাবেই বসে আছে নুরুল। জেল খাটার অভিজ্ঞতা আছে তার। তাকেই খুনি ধরে নেওয়া যায় সহজে। তবে এখুনি সিদ্ধান্তে আসতে চাচ্ছেন না ইন্সপেক্টর শরিফ। থানায় আসতে হবে জেনে চারজনই চলে এসেছিল সময়মতো।

‘আমি বাথরুম সাইরা বের হইসি। পাশের একটা বাথরুমে পানি ঢালার সাউন্ড পাইসি। সম্ভবত লোকটার বড় বাথরুম পাইসিল।’ বললেন নুরুল। পাশের লোক বলতে সে খুন হওয়া সাত্তারকে বোঝাচ্ছে।

‘আমার পেটে মোচড় দিছিল স্যার। আমি এক দৌড়ে বাথরুমে ঢুকি। আশপাশের কোনো সাউন্ডটাউন্ড পাই নাই। তবে আমি আবার তাড়াতাড়ি বাইর হইয়া যাই। আমার আবার বেশি টাইম লাগে না।’ বললেন কবির। হুদাও একই কথা জানালেন। তবে তিনি নাকি শুধু হাতমুখ ধুতেই ঢুকেছিলেন। ‘আসলে আমার ঘুম ঘুম আসছিল। তাই মাথাটাথায় পানি দিই। তিন নম্বর বাথরুমটা আটকানোই দেখছিলাম। তবে কোনো শব্দ পাই নাই। এর মধ্যে ওই লোকরে ঢুকতে দেখসি।’ কবিরের দিকে ইঙ্গিত করলেন হুদা। সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলেন কবির; ‘কিন্তু স্যার, আমি আগেই বাইর হইসি। উনি আমার পরে বাইর হইসেন। সেটা আপনেরা জানেন।’

সবার শেষে বের হয়েছেন আকবর। তিনিই জানালেন আসল ঘটনা। ‘আমি প্রথমে বাথরুমে ঢুকি। তখনো মনে কোনো সন্দেহ হয় নাই। এরপর যখন হাত ধুইতে বেসিনের সামনে দাঁড়াই, তখন একবার মনে হইলো, তিন নম্বর টয়লেটের ফাঁক দিয়া ভিতরে কেউ একজনরে দেখলাম। দরজার নিচের ফাঁকে দেখলাম একটা জুতা ঠেস দিয়া লাগানো। কলিজা ছেঁৎ কইরা উঠল আমার। এরপর সাহস কইরা দরজা খুলতেই দেখি লাশ। এক দৌড়ে বাইর হইয়া খবর দিই ম্যানেজাররে।’

‘নুরুল, কবির আর হুদা। আপনেরা যাইতে পারেন। তবে দেশেই থাকবেন। থানায় বা আদালতে আসা লাগতে পারে।’ হাই তুলতে তুলতে বললেন ইন্সপেক্টর শরিফ। ‘আপনি, আকবর সাহেব, আপনার সঙ্গে আমার আরেকটু বাতচিত আছে। চা-কফি অর্ডার করি, কী বলেন?’ কথাটা শুনেই স্পষ্ট বোঝা যায়, আরেকবার কলিজা ছ্যাঁৎ করে উঠল আকবরের।

এবার বলো, ইন্সপেক্টর শরিফ কেন আকবরকেই বেশি সন্দেহ করছেন?

 

গত রহস্যজটের উত্তর

ভূত সেজে ভয় দেখায় করিম চাচার মেয়ে। নিজের উচ্চতা লুকাতে ভূতটা বাঁশ বা লাঠিতে ভর করে হাঁটে। এ কারণে মাটিতে গোল বৃত্তাকার ছাপ পড়েছে। সবাই পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির বেশি হলেও একমাত্র করিম চাচার মেয়ে পাঁচ ফুট লম্বা। এ কারণে সে ভর দিয়ে হাঁটে, যেন তাকে সন্দেহ না করা হয়।

 



মন্তব্য