kalerkantho


শুরুতে হাসো

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শুরুতে হাসো

অনুদান

পাড়ার নামকরা ব্যবসায়ী রনিবাবু। সচরাচর তাকে কেউ দান করতে দেখে না। কোনো ধরনের অনুদানও দেন না তিনি। একবার পাড়ার একটি সংগঠন তার কাছে এলো চাঁদা চাইতে। সংগঠনটি এলাকার ছিন্নমূল কুকুর নিয়ে কাজ করে।

‘রনিবাবু, আপনি তো বেশ আয় করেন, মাসে লাখ টাকার কম না। তা আমরা এসেছি নতুন জীবন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। আমাদের যদি কিছু...।’

‘তোমরা কি জানো আমার আপন ছোট চাচা ক্যান্সারে ভুগছেন? তার চিকিত্সার জন্য মাসে হাজার হাজার টাকা খরচা হচ্ছে?’

‘ইয়ে না তো।’

‘আমার এক ছোট ভাই আছে। বিয়ের পর একসিডেন্ট করে আজ বেকার। তার ঘরে মাঝেমধ্যেই দানাপানি থাকে না। তার বউটা কোনো রকম কাপড় সেলাই করে কিছু আয় করে।’

‘নাহ। এটাও তো জানতাম না। আপনার ওপর খুব চাপ, বুঝতে পারছি; কিন্তু রাস্তার অসহায় কুকুরগুলোর জন্য যদি কিছু...।’

‘তোমরা এটাও জানো না যে আমার মেজো বোন ও তার তিনটি বাচ্চাকে ছেড়ে তার স্বামী পালিয়েছে। আহা রে! বোনটা আমার একটা চাকরিও পাচ্ছে না।’

‘ওহ! জানতাম না! সত্যিই দুঃখিত আমরা!’

‘তো ওরা যদি আমার কাছ থেকে এক পয়সাও না পায়, তোমরা কোন সাহসে অনুদান আশা করো!’

 

ময়না

মিতু শুচিবাইগ্রস্ত। সব টিপটপ আর পরিষ্কার না হলে চলে না। সে এসেছে দাদির বাড়িতে বেড়াতে। বয়স হলেও দাদি একা একা থাকেন। নিজের সব কাজকর্ম নিজেই করেন। মিতু এসেই বলল—দাদি, খিদে পেয়েছে খুব।

‘রান্নাঘরে সব আছে।’

‘প্লেটটা পরিষ্কারই মনে হচ্ছে। ধোয়া আছে তো?’

‘হুম। ময়না পরিষ্কার করে রেখেছে।’

মিতু খুশি হলো। যাক দাদি তাহলে এত দিনে নিজের কাজকর্মের জন্য কাউকে পেয়েছে।

‘দাদি চামচগুলো পরিষ্কার তো?’

‘হুম। ময়না ওটাও পরিষ্কার করে রেখেছে।’

মাছের তরকারি নেওয়ার সময় মনে হলো, দাদি খেয়েছে কি না জানা হয়নি।

‘দাদি, তুমি খেয়েছ?’

‘না, আমি এখনো খাইনি। শুধু ময়না খেয়েছে।’

মিতু খেতে শুরু করল মজা করে। খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে দাদির সামনে আয়েশ করে ইজি চেয়ারে বসতেই দেখল, একটি হুলো বিড়াল এসে মিঁয়াও মিঁয়াও শুরু করেছে। বিরক্ত হয়ে চিত্কার করলেন দাদি, ‘ময়না! একেবারে চুপ! আমার নাতনি এসেছে ঢাকা থেকে! তাকে বিরক্ত করবি না!’

সংগ্রহ : ফারহান নাসের

লেখা পাঠাও

dolchut@kalerkantho.com

ফেসবুক গ্রুপ : Facebook.com/groups/447338902349393/

দলছুট, কালের কণ্ঠ, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা আ/এ, ঢাকা।

 

গ্রাফিকস : সমরেন্দ্র সুর বাপী ছবি : মোহাম্মদ আসাদ মডেল : তিথি খান



মন্তব্য