kalerkantho

মজার ঘটনা

কেক কথা

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কেক কথা

২০০৩ সালের কথা। বৃষ্টিভেজা দিন। টিফিনের সময়। টিফিন করতে স্কুল থেকে আনুমানিক সাত মিনিটের মতো হেঁটে যেতে হয়। দোকান থেকে কেক হাতে নিয়ে টাকা দেওয়ার সময় দেখি পকেট ফাঁকা। কেক ফেরত দিয়ে মাথা নিচু করে চলে আসি। ক্লাসের কয়েকজন দোকানে ছিল। তাদের দেখে লজ্জাও পেলাম খুব।

মন খারাপ করে স্কুলের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। মোড় ঘুরলেই স্কুল। মোড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে কেউ একজন আমার চোখ জাপটে ধরল। আরেকজন চেপে ধরল হাত। অনেক কষ্টে চোখ ছাড়ালাম। সামনে পরিচিত দুই মুখ—নাহিদ ও ফয়সাল। এমনিতে মনটন খারাপ। গম্ভীর হয়ে বললাম, এমনভাবে কেউ ধরে! দুজন দাঁত কেলিয়ে হাসছে। আচমকা আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজনে ধরে আমার মুখে এক টুকরো কেক ঢুকিয়ে দিল। আস্ত কেক মুখে আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে। তারা বলল, আজ থেকে আমরা তিনজন বন্ধু। এরপর শপথ বাক্য পড়ার পালা! একজন আরেকজনের বিপদে পাশে এসে দাঁড়াব ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ফয়সাল চলে গেল রংপুর। তার বাবা সরকারি চাকরি করেন। তিনি বদলি হয়ে গেছেন। তার শূন্যতা খুব কষ্ট দেয় আমাদের। দূরে সরে গেলেই বোঝা যায় বন্ধুত্বের মর্ম।          

            —জাকারিয়া হারুন, কাপাসিয়া, গাজীপুর। 

 

চুলোয় যাক দূরত্ব

কেমন আছিস তোরা? মনে হয় ভালোই আছিস। আমি ভালো নেই। তোদের ছাড়া কিছু ভালো লাগে না। অর্পা, তোর মনে আছে? ক্লাসে বসে পড়া বাদ দিয়ে আমি শুধু ফাজলামো করতাম, আর তুই রাগ করে চলে যেতিস অন্য বেঞ্চে? হাঃ হাঃ! কত মজার ছিল স্কুললাইফ। আজ আমরা তিনজন তিন জায়গায়। তিন কলেজে। কিন্তু দূরত্ব আমাদের বন্ধুত্বকে শেষ করতে পারেনি, পারবেও না। আমরা আজও আগের মতো। চুলোয় যাক দূরত্ব। পৃথিবীতে সব কিছু বদলে যেতে পারে, কিন্তু অমলিন থাকবে আমাদের বন্ধুত্ব। আমি তোদের অনেক ভালোবাসি রে।

ইতি, তোদের পাগলি বান্ধবী

সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য

 

তালে বেতাল

আমাদের বাসায় এক আন্টি-আংকল ভাড়া থাকেন। একদিন কথা প্রসঙ্গে উঠল তালের কথা। আন্টি বললেন, অনেক বছর হলো তিনি পাকা তালের রস খাননি। আমাদের গ্রামে আবার তালের অভাব নেই। আন্টির অনুরোধে তাই গত রোজার ঈদের ছুটিতে বাড়ি থেকে আসার সময় পাকা তালের রস নিয়ে এলাম। এক বয়াম তাজা তালের রস দিলাম তাঁদের। কিন্তু এ রস যে ভালো করে চিনি দিয়ে রান্না করে কিংবা পিঠা বানিয়ে খেতে হয় তা তাঁরা জানতেন না। যথারীতি বাসার সবাই কাঁচা রসটাই কোনোভাবে গিলে খেয়ে ফেললেন। রাতের দিকে রীতিমতো হইচই। সবার অবস্থা বেগতিক। সবার একযোগে পেট খারাপ! অবশ্য বেশি সিরিয়াস কিছু হয়নি কারো। কিন্তু এর পর থেকে আন্টি-আংকলের তাল খাওয়ার শখ পুরোপুরি গায়েব।      

—শাহ্ পরান, টাঙ্গাইল।

 



মন্তব্য