kalerkantho


গল্প

ক্ষুধার্ত ছায়া

ইমতিয়ার শামীম

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ক্ষুধার্ত ছায়া

অঙ্কন,মানব

তুহিন অবাক হয়ে দেখে, চেয়ারটি আগের মতোই স্থির হয়ে আছে কিন্তু সেটির ছায়াটা ছটফট করছে আর তার ছায়াটা হাসছে মিটমিটিয়ে, বলছে, এইটা বড় জব্বর ফাস্ট ফুড খেতে আমার খুবই ভালো লাগে

তুহিন পড়াশোনা বাদ দিয়ে আবারও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে; ভালো করে দেখে—মা-বাবা আর কাজল তিনজনের ছায়াই পেছনের দিকে, শুধু তার ছায়াটাই সামনের দিকে পড়েছে।

সতরঞ্জির ওপর পড়তে বসেছে ওরা দুই ভাই-বোন। মা-ও বসেছেন তাদের লেখাপড়া দেখতে। সারা দিন খবরের কাগজ পড়া হয়নি। এখন তা পড়ছেন অলস মনে। আর বাইরে থেকে একটু আগে ফিরে আসার পর বাবাও সরাসরি বসে পড়েছেন ভেতরের ঘরে যাওয়ার পথে। গ্যাট হয়ে বসা তার একপা খানিকটা সতরঞ্জির ওপর, আরেকটা সরাসরি মেঝের ওপর। সত্যি কথা বলতে গেলে, মা নয়—বাবাই তাদের পড়াশোনা দেখছেন। কেননা তার হাতে আপাতত খবরের কাগজের কোনো পাতা নেই।

ঘরের লাইটটা মা-বাবা আর কাজলের সামনের দেয়ালের বেশ খানিকটা ওপরে। রাত হয়েছে, লাইট জ্বালানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই কাজকর্ম করার। লাইটের মুখোমুখি মেঝের ওপর বসেছে তারা। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাদের সবার ছায়াই পেছনের দিকে হওয়ার কথা। কিন্তু তার ছায়াটা একেবারে অন্য রকম। মনে হচ্ছে, সেটি স্থির হয়ে আছে তার সামনে। সে নড়াচড়া বা ঘোরাফেরা করলে ছায়াটাও তা-ই করছে। তবে অদ্ভুত বৈসাদৃশ্য হলো, অন্য সবার ছায়া যেমন তাদের নিজেদের শরীরের নিচের দিক থেকে বেরিয়ে আসে, তার এ ছায়া সে রকম নয়। তার শরীরের সঙ্গে এটার কোনো সংযোগও নেই। মুখোমুখি সংযোগহীন নিজের ছায়াকে দেখতে দেখতে তার গা আবারও শিউরে ওঠে।

এ রকম ঘটছে গত কয়েক দিন হলো। তা-ও হঠাৎ হঠাৎ। প্রথম দিন ঘটেছিল স্কুলে। প্রতিদিনই তারা সুযোগ পেলেই শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বাইরের জারুলগাছটার নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করে। কিন্তু এবারের গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড ঝড়ে বড় বড় কয়েকটা ডালপালা ভেঙে গেছে গাছটার। তাই গাছের নিচে দাঁড়ালেও তারা আর ছায়া পায় না। রোদ থাকলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলে তার বন্ধুরা সবাই। গত দিনচারেক আগে হঠাৎ করেই তুহিন খেয়াল করে, সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার ছায়াটা সেদিকেই দাঁড়িয়ে আছে।

তেমন তাপ নেই সূর্যের—তার পরও আলো যাতে সরাসরি চোখে না লাগে সে জন্য দীপক, কামাল আর রফিক সূর্যের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ও-ই ওদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলছে। কথা বলা মানে, ভালো ছাত্রের মতো পাঠ্যপুস্তক নিয়ে কথাবার্তা বলা। নিউটনের সূত্র তিনটা আবারও ওদের ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে। ঠিক তখনই তার মনে হলো, পেছনের ছায়াটা টুক করে এসে তার সামনে দাঁড়াল। নিশ্চিত হওয়ার জন্য কথা বলতে বলতেই পেছনে ফিরল সে। আশ্চর্য, পেছনে কোনো ছায়াই দেখতে পেল না সে।

দীপক, কামাল আর রফিকের ছায়া পেছনের দিকে। ওরা তা দেখতে পাবে না। নিয়ম অনুযায়ী মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে তার ছায়াটা পেছনের দিকে পড়বে আর সেটাও তার দেখা হবে না। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, নিজের ছায়াকে এখন দেখতে পাচ্ছে সে! অবাক হয়ে সূত্র বোঝানো বাদ দিয়ে বলে উঠল সে, ‘দেখেছিস, কী অদ্ভুত ব্যাপার, আমার ছায়াটা আমার সামনে পড়েছে?’

শুনে হেসে উঠেছিল দীপকরা, ‘কোথায়? তোর ছায়া তো তোর পেছনে!’

আবারও ভালো করে তাকিয়েছিল সে। নাহ্, ছায়াটাকে দিব্যি দেখতে পাচ্ছে সে। সেটা বলতে যাবে, তখনই ছায়াটা উধাও হয়ে গিয়েছিল সামনে থেকে।

এর পর থেকে মাঝেমধ্যেই এ রকম হচ্ছে। বললে তো অনেকভাবেই বলা যায়, কিন্তু সোজাসাপটা ব্যাপার হলো, আকাশের চাঁদ-সূর্য কখন কোথায় থাকে, তার ওপর নির্ভর করে ছায়া কখনো পেছনে থাকে, কখনো সামনে থাকে, কখনো হাঁটুর কাছে গুটিসুটি মেরে বসে, কখনো আবার শরীরের চেয়েও দ্বিগুণ বা কয়েক গুণ হয়ে যায়। খুব ভালো করে খেয়াল করে দেখেছে তুহিন, বেলা অনুযায়ী যেখানে ছায়া থাকার কথা, সেখানে ছায়া থাকছে না কিছুতেই। সবচেয়ে মুশকিলের ব্যাপার হলো, সে একা থাকলে ছায়াটা আর সরতেই চায় না। তা-ও ভালো, লোকজন থাকলে আর ছায়া নিয়ে কথাবার্তা বলা শুরু হলেই সেটা উধাও হয়ে যায়, ঠিক যথাযোগ্য জায়গায় গিয়ে বসে পড়ে।

আজ সে রকমও হলো না। বাবাকে দেখিয়ে দেখিয়ে জানতে চাইল, ‘বাবা আমার ছায়াটা দেখো তো। ও এই অসময়ে সামনে এলো কেমন করে!’

‘কোথায়? ছায়া তো তোর পেছনেই আছে।’ —বলে বাবা মুহূর্তের জন্য থামেন। তারপর আবার বলেন, ‘অবশ্য ছায়া কিন্তু তোর সামনেও চলে আসতে পারে। কোনো সময় ডাবলও দেখাতে পারে। কখনো ছোট দেখাতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করছে আলোকের গতি-প্রকৃতির ওপর।

শুরু হচ্ছে আলোকের ক্লাস নেওয়া। বিরক্তিই লাগে তুহিনের। ভ্রু কুঁচকে বলে, ‘কিন্তু বাবা, আমি তো আমার ছায়াটাকে সামনেই দেখছি।’

নিয়ম অনুযায়ী এ নিয়ে কথাবার্তা শুরু হতে না হতেই ছায়াটা আগের জায়গায় চলে যায়। কিন্তু আজ যেন সেটা গোঁ ধরেছে। কিছুতেই যেতে চাইছে না আগের জায়গাতে। অথচ ওটা যে তার সামনে গ্যাট হয়ে বসে আছে, বাবা নাকি তা দেখছেনই না। বিস্ময়মাখা কণ্ঠে তিনি বলছেন, ‘কী বলছিস তুই? তোর কী চোখে সমস্যা হয়েছে?’

মুছানি দিয়ে কাগজের ওপর পেনসিলে লেখা কিছু একটা মুছতে মুছতে কাজল বলে, ‘ভাইয়ার কী যেন হয়েছে বাবা। কয়েক দিন হলো ছায়া নিয়ে খালি উল্টাপাল্টা বলছে। সামনের ছায়া পেছনে দেখছে, পেছনের ছায়া সামনে।’

‘তাই?’ —বাবা ঘটনাটাকে কেন যেন পাত্তাই দেন না। —‘হয়, এ রকম হয়। আমিও তো অনেক দিন আয়নায় তাকালে দেখতাম, দুইটা আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে আছি। একটা আমি আবার হাসতে হাসতে পেছনের দিকে হেঁটে যাচ্ছি।’ বলে বাবা একাই হাসে।

‘বানিয়ে বানিয়ে গল্প করার স্বভাব গেল না তোমার।’ মা রাগী রাগী গলায় এ কথা বললেও বাবার হাসি থামে না। মায়ের কথার উত্তরও দেন না তিনি।

বারবার একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে, কিন্তু তাতে কোনো ভয় হচ্ছে না, উদ্বেগও জাগছে না। বরং এতেই বড় বেশি অবাক লাগছে তুহিনের। রাতে শোয়ার পর আলোবাতি নিভিয়ে সে যখন এ রকম ভাবছে, তখনই হঠাৎ ফিসফিসিয়ে কে যেন বলে, ‘লাইট নেভালে আমার খুব খারাপ লাগে।’

তুহিন ধড়মড়িয়ে উঠে বসে। সত্যিই কি কেউ কথা বলছে?

আলো নেভালেও শহরের বাসাবাড়িতে অন্ধকার পুরোপুরি নামে না। সবাই তো আর একসময় ঘুমায় না। আবার অনেকে আলো নিভিয়ে ঘুমাতেও পারে না। হয়তো কারো পাশের ঘরে আলো জ্বলে, কারো বা পাশের বাসায় আলো জ্বলে, কোথাও পথবাতি জ্বলে; বাতি নেভালেও অন্ধকার তাই ঘরে জমা হয় আবছা হয়ে। এখন ঘরের মধ্যে তেমন আবছা অন্ধকার জমে আছে। এমন অন্ধকারে দিব্যি চলাফেরা করা যায়, জিনিসপত্র আর লোকজনও দেখা যায়। তবুও সে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে ওঠে, ‘কে? কে কথা বলে?’

ভয়ের চোটে কণ্ঠটা জোরালো হওয়ার কথা, চেঁচিয়ে ওঠার কথা; কিন্তু তুহিন বুঝতে পারে, সে আসলে চিঁ চিঁ করে কথা বলছে। আর এটুকু বোঝার পর ভয়টাও কেন যেন কমে আসে তার। স্বাভাবিকভাবে কথা বলে সে, ‘আলো নেভালে তোমার খারাপ লাগে কেন?’

‘তখন আমি যে হারিয়ে যাই, নিজেকে আর খুঁজে পাই না!’

হারিয়ে যায়—খুঁজে পায় না। এসব ভারী অদ্ভুত কথা কে বলে। তার মানে আলো থাকলে এই অদৃশ্য কণ্ঠস্বরটার এসব সমস্যা হয় না। সে বিছানা থেকে উঠে আলোবাতি জ্বালাতে জ্বালাতে বলে, ‘কিন্তু তুমি কে, বলো তো?’

‘আমি তোমার ছায়া। এসব প্রশ্ন করো না তো; উফ্, খুব ক্ষুধা পেয়েছে।’

‘ক্ষুধা পেয়েছে মানে?’

ছায়াটা তার পায়ের কাছ থেকে লাফ দিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। মনে হচ্ছিল সে চেয়ারটা খপ করে ধরবে। কিন্তু না, তার বদলে সে চেয়ারের ছায়াটার গলা চিপে ধরে। তুহিন অবাক হয়ে দেখে, চেয়ারটা আগের মতোই স্থির হয়ে আছে। কিন্তু সেটার ছায়া ছটফট করছে। আর তার ছায়াটা হাসছে মিটমিটিয়ে, বলছে, ‘এইটা বড় জব্বর ফাস্ট ফুড। খেতে খুবই ভালো লাগে।’

ছায়াটা হাপুসহুপুস করে চেয়ারের ছায়াটাকে চেটেপুটে খেতে থাকে। মেঝের ওপর পড়ে থাকা চেয়ারের ছায়াটা কিছুক্ষণের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। তুহিন একটা ঢেকুর তোলার শব্দ পায়। শুনতে খুব বিশ্রী লাগে, তবু কিছু বলে না সে।

‘নাহ্, ক্ষুধা গেল না আমার।’ —ছায়া এসে তার সামনে দাঁড়ায়, আশপাশে তাকায় আর বলে—‘আর তো কিছুই নাই। তুমি ছাড়া এখন খাওয়ার আর কিছুই নাই।’

মানে কী? বলে কী ছায়া? ওর দিকে তাকাতেই এবার চোখে পড়ে কালো ছায়ার আরো গভীর কালো কালো দাঁতগুলো ক্ষুধা আর লোভে কেমন চক চক করছে। এবার ভয় করে তুহিনের। বলে, ‘তার মানে?’

‘মানে পরিষ্কার। ক্ষুধা পেয়েছে। খাওয়াদাওয়া করব। ছায়ারা জড়বস্তুর ছায়া খায় আর খেতে পারে তার জ্যান্ত মালিককে। অবশ্য তোমাকে খেলে আমি ভূত হয়ে যাব। তাতে সমস্যা নেই—জ্যান্ত মালিক না কী খুবই সুস্বাদু। তোমাকে আমার খেতেই হবে।’

ভয়ে বিবর্ণ হয়ে গেলেও তুহিন স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। বলে, ‘আর কোনো ছায়া তো এ রকম করে না। তাদের ক্ষুধা পায় না। মালিকের শরীর থেকে আলাদাও হয় না। তুমি কেন এমন হলে?’

কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোত্থেকে একটা চড় এসে ঠাস করে লাগে তুহিনের গালে। ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে সে আর ঠোঁটের কোণ দিয়ে কী যেন গড়িয়ে পড়ে। ডান হাতের তর্জনী দিয়ে সেখানে স্পর্শ করে চোখের সামনে আনতেই দেখে লাল কাঁচা রক্ত বেরোচ্ছে। হিসহিসিয়ে ছায়াটা তাকে বলে, ‘খুব বেশি জানার ইচ্ছা তোমার। খালি প্রশ্ন করো কেন? এত প্রশ্ন কারা করে জানো?’

‘কারা করে?’ —বোকার মতো জানতে চায় তুহিন, আর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চড় এসে ঠাস করে গালে লাগে তার।

‘এই যে আবারও প্রশ্ন করলে। একবার চড় খেয়েও তোমার হুঁশ হয়নি, আবারও প্রশ্ন করে বসলে, এতই বোকা তুমি! বোকা—মানুষ আসলে ভীষণ বোকা। তাই খালি জানতে চায়, প্রশ্ন করে, এত এত প্রশ্ন করে।’

কিন্তু সব মানুষই কি আর প্রশ্ন করে। তবে এই প্রশ্নটা আর করা হয় না, তার আগেই ছায়া বলে, ‘তাই বলে ভেব না, সব মানুষই তোমার মতো—ভেব না, সবাই তোমার মতোই প্রশ্ন করে। তবে কথা হলো, মানুষ মানেই তার মনে কোনো না কোনো প্রশ্ন আছে। কিভাবে কী যে দেখে, একটা না একটা প্রশ্ন তার ঠিকই জাগে।’

মানুষ সম্পর্কে এভাবে কেউ ভাবতে পারে তা কখনো চিন্তাও করেনি তুহিন। প্রশ্ন যে কাউকে বিরক্ত আর ক্রুদ্ধ করে তোলে তা-ও কখনো ভাবেনি সে। তবে এর চেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো, নিজের ছায়াই এখন থেকে তাকে মাঝেমধ্যে চড়-থাপ্পড় মারবে। কি না কি জানতে চাইবে সে, তখনই ঠাস করে চড়-থাপ্পড় মেরে বসবে। এ তো ভারি মুশকিল হয়ে গেল! এমনিতেই ক্লাসের ছেলে-মেয়েরা, বিশেষ করে মেয়েরা, তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। সে নাকি এখনই বুদ্ধিজীবী হয়ে গেছে; স্মার্টফোন, অ্যাপস আর অনলাইনে বন্ধুত্বটন্ধুত্ব নাকি ঠিকমতো বোঝে না। এখন এই ছায়াটাও যদি সহপাঠিনীদের সামনে তাকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে, তাহলে তো ভয়ানক ঘটনা হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সে একেবারে চুপ হয়ে যায়।

তবে তার এই চুপ করে বসে থাকা ছায়াটার বোধ হয় পছন্দ হয় না। টেবিলটার ছায়ার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বোধ হয়, সেটার ছায়াটাকে চেটেপুটে খাওয়ার চিন্তা করছিল। কিন্তু সে চিন্তায় ক্ষান্ত দিয়ে আবারও তার দিকে মনোযোগ দেয়, বলে, ‘কী ভাবছ? চুপ করে কী ভাবছ তুমি?’

বেহুদাই রাগ ঝাড়ে তুহিন, ‘তুমিও তো প্রশ্ন করছ। তুমিও কি মানুষ নাকি?’

তার এই কথায় কী যে আছে কে জানে, কিন্তু ছায়াটা বেশ কাহিল হয়ে যায়, ‘না— না—আমি কেন মানুষ হব? মানুষ তো তোমরা!’

‘তুমি বললে না, মানুষ মানেই তার মনে কোনো না কোনো প্রশ্ন আছে? তাহলে তুমি যে এত চ্যাটাং চ্যাটাং প্রশ্ন করছ, তুমিও কি মানুষ?’

তুহিনের এ কথা শুনে আবারও কেমন যেন ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে ছায়া। সুরুত করে তার পেছনে চলে যায়। এত সহজে ছায়াটা ছায়ার জায়গায় চলে যাবে, তুহিন ভাবতেও পারেনি। তবে সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে, ছায়ার দিকে রাগী রাগী চোখে তাকিয়ে বলে, ‘ছায়া হয়েছিস, ছায়ার জায়গায় থাকবি। বুঝলি?’

ছায়াটা কিছু বলে না তুহিনকে। তবে তার মনে হয়, ছায়াটা তার কথা মেনে নিয়েছে, সে আর উল্টাপাল্টা কাজ করবে না কখনো। ব্যাপারটাকে আরো পাকাপোক্ত করার জন্য আবারও বলে সে ‘এইবার তোকে অন্ধকারে নিয়ে আধমরা করে ফেলব। খুব বাড় বেড়েছে তোর।’

বলে তুহিন আলোবাতির বোর্ডের দিকে এগোয়। একটা আর্তচিত্কার কানে ভেসে আসে তার, ‘না—না—, এই কাজ কোরো না, প্লিজ!’

কিন্তু সে কোনো কথা না শুনে আলো নিভিয়ে দেয়। তারপর শুয়ে পড়ে বিছানায়। ঘুমিয়ে পড়তে পড়তে ভাবে, ছায়াটার এই কথাটা অবশ্য ঠিক—মানুষ মানেই তার মনে কোনো না কোনো প্রশ্ন আছে। তার মানে তাকেও এ প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে পেতে হবে, ছায়ার সঙ্গে আজকের এই লড়াইটা কি সত্যিই হয়েছিল? যদি হয়েই থাকে, তাহলে হলো কিভাবে? আর ছায়ারাও যে কখনো কখনো স্বাধীন সত্তা হয়ে ওঠে, তাদেরও যে ক্ষুধা পায়, এসবও কি ঠিক? এসব কথা কি মা-বাবা কাজল কিংবা তার বন্ধুরা বিশ্বাস করবে?



মন্তব্য