kalerkantho


বিজ্ঞান

সাইকেল চলে কিভাবে?

পেডেলে চাপ দিতেই চাকা বনবন? ব্যাপারটা এত সহজ নয়। সাইকেল চলে বিজ্ঞানের সূত্র মেনে। জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাইকেল চলে কিভাবে?

ফারিব ও দীপ্তদের বাসা পাশাপাশি। দুজনই পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। বাসার সামনের রাস্তাটায় প্রতিদিন বিকেলে ছোটবড় সবাই সাইকেল চালায়, স্কেটিং করে। সাইকেল চালাতে দীপ্ত ভয় পায়। ফারিব সেই ভয়টা কাটানোর চেষ্টা করছে। তাই সে দীপ্তকে শেখায় সাইকেলের খুঁটিনাটি। পেছনের চাকার সঙ্গে লাগানো থাকে গোলাকার গিয়ার। মূলত ঘোরাতে হয় ওটাকেই। সামনের চাকা এমনি এমনি চলে। গিয়ারের সঙ্গে পেডেলের সংযোগ থাকে চেইনের মাধ্যমে। পেডেলে চাপ দিলে ঘোরে চেইন ও চাকা। কিন্তু সাইকেলটা সামনে এগোয় কেন? ফারিব বলে, আরে বোকা, চাকা ঘুরলে তো এগোবেই। দীপ্ত বলে, তাহলে কি শূন্যে ভেসে ভেসে সাইকেল চালানো সম্ভব? কিংবা পানিতে? এবার বিপদে পড়ল ফারিব। সে জানে শূন্যে চাকা ঘুরলেও এগোবে না সাইকেল।  দুজনে গেল বিজ্ঞানের স্যারের কাছে। তিনিই বুঝিয়ে বললেন সব।

সব কিছুর একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। তুমি কোনো কিছুতে ধাক্কা দিলে সেই ধাক্কার ধকল তোমাকেও সামলাতে হবে। সাইকেলের পেছনে চাকাটি রাস্তার ওপর ঘুরলে ঠিক ওই ধরনের একটি কাণ্ড ঘটে। এখানে রাস্তাটিকে হতে হবে খসখসে ও শক্ত। একটা মাখনের বানানো রাস্তা দিয়ে কিন্তু কখনোই সাইকেল চলবে না। সাইকেল সামনে এগোতে চাকা ও রাস্তার মধ্যে ঘর্ষণ হওয়া চাই। এতে তৈরি হয় সম্মুখ গতি। যার কারণে এগিয়ে যায় সামনের চাকা। পেছনের চাকাকে রাস্তা থেকে ওপরে তুলে ধরা হলে ঘর্ষণের অভাবেই সাইকেল এগোবে না। যেখানে ঘর্ষণ বেশি, সেখানে সাইকেলও চলবে তরতর করে। আর এ কারণে পানির ওপরও সাইকেল চলবে না।

রাতে দীপ্ত বাবাকে বলে, বাবা, আমাকে একটা সাইকেল কিনে দাও। বাবার জবাব, সেকি? তুমি না সাইকেল ভয় পেতে? দীপ্ত বলে, না বাবা, সাইকেল কিভাবে চলে তা বুঝে গেছি। বাবার উত্তর, সাইকেল পাবে তবে শর্ত আছে। দীপ্ত যেকোনো শর্তে রাজি। বড় না হওয়া পর্যন্ত তুমি মেইন রোডে যেতে পারবে না। শেখার পরে খুব বেশিক্ষণ চালানোও যাবে না। দীপ্ত মাথা নেড়ে সায় দেয়। বাবা বললেন, কাল বিকেলেই সাইকেল কিনতে যাব আমরা। দীপ্তর চিত্কার, হুররে...।



মন্তব্য