kalerkantho


ফোকাস

সস্তায় খাস্তা সময়

‘চল যাই, চিকেন খাই!’ বন্ধুর এমন আবদারে কান পাতলেই পকেটে টান। এদিকে আড্ডার লোভ সামলানোটাও কঠিন। তো, কম বাজেটে কিংবা ধরো একেবারে নিখরচায় যদি বন্ধুর সঙ্গে চমত্কার সময় কাটানো যায়? আইডিয়া দিচ্ছেন নাঈম সিনহা

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সস্তায় খাস্তা সময়

দেখো প্রকৃতি দেখো মানুষ

শহরের কোলাহল থেকে দূরে বন্ধুদের একটু নির্জনে সময় কাটাতে চাও? সমস্যা কী! এ জন্য কক্সবাজার কিংবা দূরে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই একেবারেই। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জেলা কিংবা শহরের কাছাকাছি বয়ে চলে গেছে কোনো না কোনো নদী। ঢাকার পাশ দিয়ে চলেছে বংশী, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা। বন্ধুকে নিয়ে কোনো এক বিকেলে বেরিয়ে পড়তে পারো এসব নদী দর্শনে। নির্জন সবুজ ঘাসে নদীর পারে বসে আড্ডার মজাই অন্য রকম।

প্রায় সব শহরের আশপাশে নদী খুঁজলেই পাওয়া যাবে। যেমন—চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, রাজশাহীর পদ্মা, বরিশালের কীর্তনখোলা, সিলেটের সুরমা, খুলনার রূপসী, রংপুরের ঘাঘট, ময়মনসিংহে আছে ব্রহ্মপুত্র। তাই সকালে নদীর বুকে কাঁচা রোদের ঝলকানি কিংবা পড়ন্ত বিকেলে জলে ডুবন্ত সূর্যের প্রতিচ্ছবি দেখে আসতে পারো বন্ধুদের নিয়ে।

যারা নদীর তীরে যেতে চাও না কিংবা দূরে হলে—তারা কী ঘাবড়ে গেলে! হয়তো তোমার বাড়ির কাছেই রয়েছে পুরনো কোনো রেলস্টেশন। সেখানেও বন্ধুর হাত ধরে এক বিকেল কাটিয়ে দিতে পারো। রেললাইনের পাশ ঘেঁষে হেঁটে যেতে পারো অনেক দূর। ভুলেও হেডফোন কানে গুঁজে হাঁটা যাবে না। স্টেশনের চা দোকানে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জুড়ে দিতে পারো গল্প। কিংবা কিছুটা থেমে গিয়ে চুপচাপ ব্যস্ত মানুষের কথা ও চালচলন মন দিয়ে দেখতে পারো। একটু অন্যভাবে যদি খেয়াল করো মনে হবে, একেকটা ক্ষুদ্র নাটক যেন ঠিক সামনেই মঞ্চায়িত হচ্ছে। তবে প্রকৃতির মধ্যে ঘোরাঘুরির ফাঁকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বের কথা ভুলে গেলে চলবে না। বন্ধুরা মিলে ঠিক করে নাও, সপ্তাহে এক দিন নিজেরা পালন করবে বৃক্ষরোপণ দিবস।

অ্যাডভেঞ্চার

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় যারা তাদের মন ভরেনি নিশ্চয়ই। তোমরা খুঁজে নিতে পারো কোনো অচেনা এলাকা। দুই বন্ধু মিলে পাড়া বা মহল্লার কম চেনা বা নতুন কোনো জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারো। বলা তো যায় না, বেরিয়ে আসতে পারে কোনো গোপন রহস্য। নিজেদের কোনো গোয়েন্দা সিনেমার চরিত্রও ভাবতে পারো। অনুসন্ধিত্সু মন নিয়ে খুঁজে বের করতে পারো সেই এলাকার অজানা ইতিহাস। সেই অভিজ্ঞতা লিখে অন্যদের জানিয়ে দিতে পারো। এ ধরনের ঘোরাঘুরি নিয়ে একটা ব্লগ সাইট বানালে কেমন হয়?

এতক্ষণ যা বললাম তা একা করার মধ্যে তেমন কোনো আনন্দ নেই। যদি কেউ শহরে নতুন কিংবা একেবারে অপরিচিত হয়ে থাকো, তাহলে কী করবে? ভাবনার কিছু নেই, সঙ্গে যদি থাকে সাইকেল তাহলে তো সমাধান হাতের কাছেই। পাড়ার রাস্তা ধরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। সাইকেলে ঘুরে পরিচয়পর্ব সেরে নিতে পারো তোমার বাড়ির আশপাশের অচেনা অলিগলির। কোথায় লাইব্রেরি, কোথায় বাজার, কোথায় খেলার মাঠ—সব জেনে যাবে। রথ দেখা আর কলা বেচা—দুটিই হবে একসঙ্গে। আর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বন্ধুও বানিয়ে নিতে পারো অনেককেই।

বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে পারো বিচিত্র সব জীবন। খোঁজ নাও কী করে চলে কোনো ভবঘুরে কিংবা বস্তিবাসীর জীবন। রাজধানীর বাইরে যারা থাকো, তারা ঘুরে আসতে পারো বাউলগানের আখড়া থেকেও। অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারীই হবে। আশপাশে কোনো মেলা হচ্ছে কি না সেই খোঁজও রাখবে কিন্তু।

বইয়ের দুনিয়ায়

রাজধানীর বইপাগলরা নীলক্ষেত কিংবা বাংলাবাজারের মতো পুরনো বইয়ের দোকানে হানা দিতে পারো। একা দামাদামি করে ভালো জিনিস কেনা একটু দুরূহ ব্যাপার হয়ে যায়। ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বন্ধু পাশে থাকলে তো কথাই নেই। কে জানে হয়তো কম দামে পেয়েও যেতে পারো দুষ্প্রাপ্য কোনো বই।

বন্ধুকে নিয়ে ভালো কাজ

ভালো কাজ করার আনন্দই ভিন্ন, সঙ্গে বন্ধু থাকলে তো সেই আনন্দের মাত্রা অন্য রকম। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গরিব-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারো। সব সময় যে অর্থ দিয়েই পাশে দাঁড়াতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। কখনো কখনো স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারো। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। এতে তুমি শ্রমজীবী মানুষের জীবন সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারো।

যে প্রকৃতিতে এত আনন্দ, সেই প্রকৃতির জন্য একটা কিছু তো করা দরকার?

হোক না চড়ুইভাতি

যারা নিয়মিত রেস্তোরাঁ বা ফাস্ট ফুডের দোকানে খেয়ে অভ্যস্ত, তাদের বলছি। কয়েকজন মিলে একেবারে পিচ্চিবেলার মতো আবার চড়ুইভাতি করেই ফেলো এবার। বন্ধুর বাসার ছাদে গিয়ে না হয় একটু নুডুলস পিকনিক হয়ে যাক! আবার বন্ধুকে নিয়ে এসে নিজের হাতের রান্না খাওয়ানোর সাহসও দেখাতে পারো। অনলাইনে রেসিপির অভাব নেই।

আরো কত কী

রান্নায় কতটুকু সাফল্য আসবে তা নিয়ে ভয় থাকলে ঘরেই দাবা কিংবা অন্য কিছু খেলতে পারো। যেমন— মানচিত্র আর স্টপওয়াচ নিয়ে দেশ খুঁজে বের করার খেলাও হতে পারে। এতে তুমি জানতে পারবে লিচেনস্টাইন নামেও একটা দেশ আছে। কিংবা বারমুডার রাজধানী হ্যামিলটন।

ফেসবুকের ইভেন্টে চোখ রাখলেও খোঁজ পাবে নানা প্রদর্শনীর। চিলড্রেন ফিল্ম ফেস্টিভাল থাকলে মিস কোরো না। শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভালগুলো ঘুরে আসতে পারো নামমাত্র মূল্যে।

পড়ার চাপ না থাকলে চায়ের ফ্লাস্ক সঙ্গে নিয়ে চলে যেতে পারো ছাদে বা খোলা মাঠে। সঙ্গে থাকলেও থাকতে পারে পোর্টেবল সাউন্ড সিস্টেম বা গিটার। চা আর সুরের ঝংকারে কাটবে খাস্তা সময়।



মন্তব্য