kalerkantho


আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

লিভারের রোগবিষয়ক বাছাই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

আমার বয়স ৩৮, ওজন ৬৫ কেজি। দুই বছর আগে হেপাটাইটিস বি ধরা পড়ে। তখন থেকেই ডাক্তার দেখাচ্ছি। তিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু ওষুধ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এইচবিভি ডিএনএ টেস্ট করতে দিয়েছেন। আমি জানতে চাই, আমাকে কত দিন ওষুধ খেতে হবে, এই টেস্ট থেকে কী জানা যাবে? বি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে কি আমি বাচ্চা নিতে পারব না?

বেবি আক্তার ঈশ্বরদী, পাবনা। যে ধরনের ওষুধের কথা বলেছেন তা বহু ক্ষেত্রে অনেক দিন সেবন করতে হয়। রোগের অবস্থা ও ইনফেকশনের ধরন অনুযায়ী এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। ডাক্তার যে টেস্ট করতে বলেছেন, তা ঠিকই আছে। এতে জানা যাবে ‘বি’ ভাইরাস শরীরে সক্রিয় কি না, ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না। ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যও টেস্টটি জরুরি।

‘বি’ ভাইরাসের চিকিৎসা আছে এবং তা এখন বাংলাদেশেই তৈরি হয়। আপনি বাচ্চা নিতে পারবেন। তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দিতে হবে। আপনি যে ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত সেটি প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে। তাহলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

 

 

আমার বয়স ২৩, ওজন ৫০ কেজি। প্রায় এক বছর আগে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় জানতে পারি, আমার হেপাটাইটিস বি পজিটিভ। পরে ঢাকায় গিয়ে আবার পরীক্ষা করে দেখি নেগেটিভ। আগে হেপাটাইটিস বির কোনো টিকা নিইনি। এখন টিকা নিতে পারব কি?

আব্দুর রউফ নীলফামারী। সম্ভবত আপনার অ্যাকিউট হেপাটাইটিস ‘বি’ হয়েছিল, যে কারণে তখন পরীক্ষায় ধরা গিয়েছিল। পরে আবার তা ধরা পড়েনি। এখন বিষয়টি নিশ্চিত হতে নতুন করে হেপাটাইটিস ‘বি’ পরীক্ষা, এইচবিএসএজি করে দেখতে হবে। যদি নেগেটিভ থাকে, তবে আরেকটি পরীক্ষা অ্যান্টিএইচবিএস করে দেখতে হবে তার ফল কী। যদি ফল ১০০ আইইউ/এমএল থাকে, তবে টিকা নেওয়া যাবে। একজন লিভার বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে ভালো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষাগুলো করিয়ে চিকিৎসা নিন।

 

আমার বয়স ৩৯, ওজন ৬৫ কেজি। বহু দিন ধরে হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত আছি। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নিয়েছি; কিন্তু কখনো পরীক্ষাতে নেগেটিভ হয়নি। তাই এখন মনে খুব ভয় জন্মে গেছে। আমার কী করা উচিত?

রেজাউল করিম লিটন আঙ্গারিয়া বাজার, শরীয়তপুর। সম্ভবত আপনার লিভারে ‘বি’ ভাইরাসের ইনফেকশন আছে। এখন দেখতে হবে লিভারে ভাইরাসগুলো সক্রিয় কি না। এটা বুঝতে এইচবিভি ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। যদি সক্রিয় না থাকে, তবে চিকিৎসকের ফলোআপে থাকলেই চলবে। সক্রিয় থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে।

 

বয়স ৩৫, ওজন ৬৮ কেজি। আমি কিছুদিন আগে মেডিক্যাল চেকআপ করিয়েছি। অন্য সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু বি ভাইরাস ধরা পড়েছে। এখনো বিয়ে করিনি। শুনেছি, এ রোগ হলে বিয়ে করা উচিত নয়। পরামর্শ চাই।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাবতলী. বগুড়া। কিছু পরীক্ষা করে দেখতে হবে আপনার লিভার কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সময় কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই ‘বি’ ভাইরাস বহু বছর শরীরে থাকতে পারে। আবার ‘বি’ ভাইরাস সক্রিয় হলে লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগও হতে পারে। সমস্যা হলো, লিভার অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত রোগীরা বিষয়টি টের পান না। তাই উচিত, তেমন অবস্থায় যাওয়ার আগেই রোগের চিকিৎসা করা। ‘বি’ ভাইরাসের চিকিৎসা আছে, যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে রোগটি ভালো হয়। এ কারণে আপনার উচিত একজন লিভার বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসা নেওয়া, রোগের অবস্থা জানা। বিয়ে করতে পারবেন। তবে বিয়ের আগে আপনার হবু সঙ্গীকে রোগটি সম্পর্কে জানাতে হবে। সে নিজে যদি ‘বি’ ভাইরাসের রোগী না হয়, তাহলে তাকে কিভাবে রোগমুক্ত রাখা যাবে সে বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।


মন্তব্য