kalerkantho


বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কপি

ডা. নুসরাত জাহান   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ল্যাপারোস্কপি এক ধরনের সার্জিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে তেমন কোনো কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই শুধু কয়েকটি ছিদ্র করে ক্যামেরা এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি প্রবেশ করিয়ে সরাসরি রোগ নির্ণয় ও অপারেশন করা হয়। এর ফলে অপারেশনের পর রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হতে পারে।

বর্তমানে এটি জনপ্রিয় চিকিৎসাপদ্ধতি, যা বন্ধ্যত্ব চিকিৎসাতেও কার্যকর।

যাদের দরকার হতে পারে

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সব রোগীর ল্যাপারোস্কপি করার দরকার হয় না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং বাচ্চা গর্ভধারণ না করার তেমন কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রধানত ল্যাপারোস্কপি করা হয়।

যেসব সমস্যা নির্ণয় করা যায়

বন্ধ্যত্বের কিছু কারণ আছে, যা আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য সাধারণ পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই সমস্যাগুলো ল্যাপারোস্কপিতে সরাসরি দৃশ্যমান হয় এবং একই সঙ্গে রোগের চিকিৎসাও সম্ভব। এমন কিছু বন্ধ্যত্বের কারণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি হলো-

এন্ডোমেট্রিওসিস : এটি বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান কারণ, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ল্যাপারোস্কপির  মাধ্যমে নির্ণিত হয়। এই রোগের কারণে জরায়ু এবং এর আশপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া লেগে থাকে ও স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হয়। এই রোগের তীব্রতা এবং পরবর্তী চিকিৎসাপদ্ধতি  নিরূপণের জন্যও উপযুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতি এই ল্যাপারোস্কোপি। রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি এন্ডোমেট্রিওটিক সিস্টেক্টমি এবং এডহেসিওলাইসিস চিকিৎসাও এর মাধ্যমে করা যায়।

পিআইডি বা প্রজননতন্ত্রের ইনফেকশন ইনফেকশনের কিছু লক্ষণ সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায়, যা আলট্রাসাউন্ডের দিয়ে

নির্ণয় সম্ভব নয়। ইনফেকশনের কারণে ফেলোপিয়ান টিউব বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা ল্যাপারোস্কপিক ডাই (রং) টেস্ট করে বোঝা যায়।

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম (পিসিওএস): এই সমস্যা শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক তারতম্যকে নষ্ট করে ডিম্বস্ফুটন ব্যাহত করে, ফলে আক্রান্তরা গর্ভধারণে অসমর্থ হয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে ডিম্বস্ফুটন করানো হয়। এই চিকিৎসায় ডিম্বস্ফুটনে ব্যর্থ হলে ল্যাপারোস্কপি করে সিস্ট রাপচার করা হয়, যা ওভারিয়ান ড্রিলিং নামে পরিচিত। ওভারি থেকে হরমোনের অস্বাভাবিক নিঃসরণকে স্বাভাবিক করেও ডিম্বস্ফুটনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

জরায়ুর টিউমার : জরায়ুর ফাইব্রয়েড টিউমারের অবস্থান, সাইজ সরাসরি ল্যাপারোস্কপি করে দেখা যেতে পারে।

জন্মগত ত্রুটি : প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের জন্মগত ত্রুটি থাকতে পারে, যা বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় না। ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা ধরা পড়ে।

বন্ধ ফেলোপিয়ান টিউব : বিভিন্ন ইনফেকশনের কারণে বা জন্মগতভাবে ফেলোপিয়ান টিউব বন্ধ থাকতে পারে। ল্যাপারোস্কপিক ডাই টেস্ট করে এটা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।

পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি

এটি অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। তাই এ পরীক্ষা করার আগে অন্যান্য পরীক্ষা করে দেখে নিতে হয় বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে আর কোনো সমস্যা দায়ী কি না। যেমন—ডিম্বস্ফুটনের জন্য হরমোনের কিছু পরীক্ষা করা যায়। ফেলোপিয়ান টিউব ও জরায়ুর  ভেতরকার অবস্থা বোঝার জন্য হিস্টারোস্যালফিংগ্রাম করা হয় ও হাজবেন্ডের স্পার্ম পরীক্ষা করা হয়। এসব কিছু স্বাভাবিক থাকার পরও যখন কোনো নারী গর্ভ ধারণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন অন্য সমস্যা নির্ণয়ের জন্য ল্যাপারোস্কপির পরামর্শ দেওয়া হয়।

সহকারী অধ্যাপক, গাইনি-অবস বিভাগ
ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।


মন্তব্য