kalerkantho


স্বাস্থ্যচিত্র

পিত্তথলির পাথর

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পিত্তথলির পাথর

পিত্তরসে যখন তরল ও খনিজ পদার্থের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে, তখন রস ঘনীভূত হয়ে পাথরে রূপান্তরিত হয়।

পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর হলে প্রদাহ হতে পারে। যার অন্যতম লক্ষণ তৈলাক্ত খাবার ভালোভাবে হজম না হওয়া। পিত্তথলিতে পাথর হলে অনেক ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। অনেক সময় তা অপারেশন করে ফেলেও দিতে হয়। অনেকের মনেই প্রশ্ন, পিত্তথলি কি আসলে শরীরের কোনো কাজে লাগে? যকৃত বা লিভারের সঙ্গে যুক্ত থাকে পিত্তথলি। লিভারে তৈরি হয় পিত্তরস বা বাইল, যা খাদ্য হজমের জন্য জরুরি। এই পিত্তরস পিত্তথলিতে এসে জমা থাকে। যখন চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়া হয়, তখন তা হজম করতে পিত্তথলি থেকে এই রস বের হয়। পিত্তথলি কেটে ফেলে দিলেও লিভাবে পিত্তরস তৈরি হয়, কিন্তু তা জমা থাকতে পারে না। সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে চলে যায়। এ জন্য পিত্তথলি ফেলে দেওয়ার পর তৈলাক্ত খাবারের পরিমাণ কমাতে হয় ও ধীরে ধীরে খেতে হয়। এর ব্যতিক্রম হলে বদহজম হয়। পিত্তথলি খুব ছোট একটি অঙ্গ। লম্বায় সাধারণত চার ইঞ্চির মতো। ডান পাশের বুকের ঠিক নিচে, পেটের ওপরের দিকে ঠিক লিভারের নিচেই এটি থাকে।

 

পিত্তপাথরের লক্ষণ

♦  বুকের ডান পাঁজরের নিচে ব্যথা। অনেক সময় এমনিতে ব্যথা থাকে না কিন্তু ওই স্থানে চাপ দিলে ব্যথা লাগে।

♦   পিঠের মধ্যভাগে ব্যথা হয়

♦   পায়খানার রং সাদা সাদা হয়

♦   পায়খানার সঙ্গে চর্বি যেতে পারে

♦   বদহজম হয়, বিশেষ করে চর্বি ও তেলজাতীয় খাবারে

♦   বমি ও বমিবমিভাব

♦   মাথা ঝিমঝিম করা

♦   বারবার ঢেঁকুর হওয়া

♦   পেটে গ্যাস

♦   ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

♦   মাথাব্যথা, বিশেষ করে ডান পাশে

♦   খাওয়ার পর গলায় তেতো ভাব।

পিত্তপাথরের ব্যথা

♦   সাধারণত রাতে তীব্র ব্যথা হয়

♦   অনেক সময় ভারী খাবার বা দাওয়াত খাওয়ার পর আকস্মিক ব্যথা শুরু হয়

♦   একবার ব্যথা হলে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

 

পিত্তরস

হলুদ রঙের তরল পদার্থ। এতে থাকে কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম, বাইল সল্ট, এসিড ও আরো কিছু রাসায়নিক উপাদান।

পিত্তপাথর

♦   ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পিত্তপাথর হওয়ার পরও কোনো লক্ষণ থাকে না

♦   পিত্তপাথর আকৃতিতে কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

♦   পুরুষের তুলনায় মেয়েদের পিত্তপাথর বেশি হয়।

♦  ডায়াবেটিস আক্রান্ত ও ওজন বেশি—এমন মানুষের ঝুঁকি বেশি।

 

গ্রন্থনা : ডা. মুজাহিদুল ইসলাম


মন্তব্য