সার্জারির মাধ্যমে ডায়াবেটিস-332922 | ডাক্তার আছেন | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


সার্জারির মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ডা. শাহজাদা সেলিম

যুগ যুগ ধরে শুনে আসছি যে ডায়াবেটিস একবার ধরলে আমরণ সঙ্গ ছাড়ে না। আসলেই কি ব্যাপারটি তেমন? ডায়াবেটিস কি নিরাময় হয় না?

কিছুকাল আগেও গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে—ডায়াবেটিস কিছুক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব। যেমন, গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি। এটা এমন এক ধরনের সার্জারি যা পাকস্থলীতে করা হয়। এ সার্জারির কারণে পরবর্তী সময়ে রোগী আর অতিভোজন করতে পারে না। এ কারণে রক্তে চিনির মাত্রা কম রাখা সম্ভব হয়। এটা ঠিক ডায়াবেটিস নির্মূল নয়, ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ বলা যায়। অবশ্য অনেক ডাক্তার এ ধরনের সার্জারির সফলতাকে ডায়াবেটিস নির্মূলের চিকিৎসাই বলতে চান।

১৯৯৪ সালে ওয়াল্টার পোরিস নামে আমেরিকার এক চিকিৎসক তাঁর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল—টাইপ টু ডায়াবেটিস দূর করতে পারে একটি মাত্র অপারেশন। এই গবেষণায় তিনি দেখেন যে গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করিয়ে ডায়াবেটিসের রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশ আরোগ্য লাভ করেছেন। এই অপারেশনের পর বহু বছর পর্যন্ত ব্লাডসুগারের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এরপর থেকেই এ ধরনের সার্জারি, যাকে মেটাবলিক সার্জারি বা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিও বলা হয়, পৃথিবীজুড়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি

পাকস্থলীকে স্টেপল করে একটি ছোট থলির আকার দিতে হয়। মানুষ যে খাবার খায়, সেটা খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে এসে এখানে জমে। জমা খাদ্য বের হতে ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে পাকস্থলীর একটা রাস্তা করে দিতে হয়। ফলে খাবারটি পাকস্থলীর আর ক্ষুদ্রান্ত্রের বেশির ভাগ অংশকে পাশ কাটিয়ে পৌস্টিক নালিতে এসে পড়ে। অপারেশনটি পাকস্থলীর খাদ্যগ্রহণ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। ফলে খাওয়ার পর উত্পন্ন গ্লুকোজের মাত্রাও কমে যায় অর্থাৎ কম পরিমাণ খাওয়ার ফলে কম চিনির উত্পত্তি। অপারেশনের ফলে হজম না হওয়া খাবার পৌস্টিক নালিতে যায়। যেখনে ইনক্রেটিন্স হরমোন নির্গত হয়। এই হরমোন রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য