• ই-পেপার

আবরারের মৃত্যুতে দায়ী সুপ্রভাতের কন্ডাকটর-হেলপার আটক

রাজউকে প্রেজেন্টেশন, টেকসই নগরায়ণে এসটিপি বাস্তবায়নে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজউকে প্রেজেন্টেশন, টেকসই নগরায়ণে এসটিপি বাস্তবায়নে জোর
রবিবার রাজধানীর রাজউক ভবনের সভাকক্ষে টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রেজেন্টেশন।

নগর উন্নয়নে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, কার্যকর পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং Sewage Treatment Plant (STP) বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশসম্মত ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন আয়োজন করেছে। রবিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর রাজউক ভবনের সভাকক্ষে  এ অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, আবাসন খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি। এছাড়া ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী, রিহ্যাবের সভাপতি, গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিসহ রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সভাপতির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে পরিবেশসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ভবনে এসটিপি স্থাপন অত্যাবশ্যক এবং এর কার্যকর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এসটিপি বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণত তিনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়—কতটুকু জায়গা প্রয়োজন, স্থাপনে কী পরিমাণ ব্যয় হবে এবং বিদ্যমান ভবনে এটি স্থাপন কতটা সম্ভব। এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরতেই এই প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এসটিপি বাস্তবায়নে রাজউক তদারকি আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি ভবন মালিক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো ‘Reuse, Renew, Recycle’ নীতি। সেই নীতির আলোকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এসটিপি স্থাপন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। তিনি বলেন, এটি শুধু জলাশয় ও পরিবেশ দূষণ রোধের বিষয় নয়; বরং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, আধুনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলার অন্যতম মৌলিক শর্ত।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে এসটিপি স্থাপন ও পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী, ডেভেলপার এবং ভবন মালিক—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রেজেন্টেশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রযুক্তি, এসটিপির কার্যপদ্ধতি, স্থাপন প্রক্রিয়া, ব্যয় কাঠামো, প্রয়োজনীয় জায়গা, পরিচালনা ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে Innovations Ltd., Daiki Axis Bangladesh, Acumen Engineering Ltd., Ellipse Engineering & Construction Ltd. এবং Pivot Engineering Ltd. তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক এসটিপি সমাধান উপস্থাপন করে।

বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। ভবনভিত্তিক এসটিপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর জলাশয় রক্ষা, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে এসটিপি বাস্তবায়নকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দগ্ধ রাকিবের চিকিৎসায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দগ্ধ রাকিবের চিকিৎসায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের সহায়তা
ছবি: কালের কণ্ঠ

হোটেল শ্রমিক আব্দুর রহিমের ছেলে রাকিব হোসেনের বয়স ২৫ বছর। রাকিব গাছ কাটার কাজ করেন। বাবা-ছেলের উপার্জনেই চলে সংসার। সম্প্রতি রাকিব গাছ কাটতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন বিদ্যুতের তারে, পুড়ে যায় শরীরের একাংশ। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে বরিশাল, সেখান থেকে রেফার হয়ে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ঠাঁই হয় ছেলের। কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য ছিল না হোটেলে কাজ করা এই বাবার। তার চোখে তখন ঘোরতর অন্ধকার। উপায়ান্তর না দেখে আব্দুর রহিম আশ্রয় নেন ফেসবুকের। ছেলের অসুস্থতার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি। সেই পোস্টই বদলে দেয় পরিস্থিতি।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সোনাখালী গ্রামের এই পরিবারের পোস্টটি নজরে আসে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের। ফেসবুকে রাকিবের ছবি ও খবর দেখে তিনি নির্দেশ দেন দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার।

রবিবার (৫ জুলাই) ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মো. আমীর হোসেন মিয়া হাসপাতালে গিয়ে আব্দুর রহিমের হাতে তুলে দেন আর্থিক সহায়তা।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাকিবের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। তার শরীরের একাংশ পুড়ে গেছে। পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। তাই আমি ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। পরে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আজ তারা আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাদের ভালো করুন।’

তবে স্বস্তি এখনো দূরের পথ। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা রাকিবের শরীর এখন প্রায় পুরোটাই ব্যান্ডেজে মোড়া। তার বর্তমান অবস্থা জানাতে গিয়ে ভাই বলেন, ‘হাতে একটা অপারেশন হইছে। সবকিছু ব্যান্ডেজ করা। কিছু বোঝা যাচ্ছে না।’

ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মো. আমীর হোসেন মিয়া বলেন, ‘আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় অসুস্থ রাকিব হোসেনের চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের জন্য তার বাবার হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় ফেসবুকে রাকিবের অসুস্থতার ছবি ও সংবাদ দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। এ ধরনের মানবিক কাজে অংশ নিতে পেরে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন নিজেদের সার্থক মনে করে। চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

‘ভইরা-দে’ কিশোর গ্যাং‌ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
‘ভইরা-দে’ কিশোর গ্যাং‌ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. পারভেজকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার নুরাঙ্গীর নাহিদ।

তাকে আজ ভোরে মিরপুর-১২ এর ৫ নং অ্যাভিনিউ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল।

নুরাঙ্গীর নাহিদ জানান, পল্লবী থানার এক মামলায় কিশোর গ্যাং ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য পারভেজের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পল্লবী এবং মিরপুর থানায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার পারভেজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী পলাতক
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরের বড়বাগে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ শিফা আক্তার (১৯) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, দাবি করা যৌতুকের বাকি টাকা ও স্বর্ণালংকার না পেয়ে গত ২৪ জুন রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে শিফার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তার স্বামী সোহেল।

জানা গেছে, নিহত শিফা আক্তার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার নওগা গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। আট মাস আগে একই উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় পোশাকশ্রমিক সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা মিরপুরের বড়বাগ আসমত গার্মেন্টসের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। শিফাও স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সোহেল পলাতক রয়েছেন। এদিকে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগুনে শিফার শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। 

নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিয়ের সময় সোহেলের দাবি অনুযায়ী পাঁচ ভরি সোনা ও কিছু নগদ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার দাবি ছিল ছয় ভরি সোনা ও নগদ দুই লাখ টাকা। দাবিকৃত বাকি সোনা ও টাকা দিতে না পারায় প্রায়ই শিফাকে নির্যাতন করত সোহেল। সবশেষ গত ২৪ জুন রাতে কাজ থেকে ফেরার পথে শিফার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আবরারের মৃত্যুতে দায়ী সুপ্রভাতের কন্ডাকটর-হেলপার আটক | কালের কণ্ঠ